দুই বন্ধুর সাহসের গল্পের ব্র্যান্ড গুড গার্ল স্ন্যাকস

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৮:৪৪:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ০ বার পঠিত হয়েছে
লিয়া মার্কাস ও ইয়াসামান বখতিয়ার

টিকটকের ফিড স্ক্রল করতে করতে চোখ থমকে গেল একটা ভিডিওতে। স্ক্রিনে তখন এক জেন-জি তরুণী বেশ মজা করে আচার খাচ্ছেন। হ্যাশট্যাগ #পিকল-এর ভিউ তখন বিলিয়ন ছাড়ানোর পথে। একই সঙ্গে বিলিয়ন দর্শকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে আচার তৈরির প্রতিষ্ঠান ‘গুড গার্ল স্ন্যাকস’-এর নাম।

এই আচারের ব্র্যান্ড তৈরি করেছেন দুই বন্ধু লিয়া মার্কাস ও ইয়াসামান বখতিয়ার। তাঁরা খেয়াল করেছিলেন, বাজারে পাওয়া আচারের প্যাকেটগুলো সেকেলে। আবার স্বাস্থ্যসচেতন জেন-জি প্রজন্মের মনমতো অরগানিক ও তাজা উপাদানের ঘাটতিও ছিল আগের আচারে। সোশ্যাল মিডিয়ার জোয়ার আর বাজারের খালি জায়গাটির মাঝখানেই নতুন সম্ভাবনার আলো দেখতে পেয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া দুই বন্ধু।

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের পাট চুকিয়ে লিয়া কাজ করছিলেন এক টেক স্টার্টআপে আর ইয়াসামান ডুবে ছিলেন শিল্পকলার জগতে। তবে বছরখানেকের মধ্যেই করপোরেট জীবনের ছকবাঁধা একঘেয়েমি দুজনকে গ্রাস করে। ঠিক এমন সময়, ২০২৩ সালের দিকে সামাজিক মাধ্যমে তুঙ্গে থাকা আচারের ট্রেন্ড দেখে ইয়াসামান কৌতূহলবশত লিয়াকে মেসেজ পাঠালেন, ‘আমরা আচার বানানোর একটা প্রতিষ্ঠান খুললে কেমন হয়?’ দুই তরুণীর কৌতূহল আর সাহসের ওপর ভর করে শুরু হয় একটি প্রতিষ্ঠানের রোমাঞ্চকর পথচলা। কয়েক দিনের মধ্যে ওয়েবসাইটের ডোমেইন কেনা থেকে শুরু করে ৯ মাসের নিরলস প্রস্তুতি। চাকরি ছেড়ে দিয়ে তাঁরা দুজনে ঝাঁপিয়ে পড়েন অনিশ্চিত কিন্তু স্বপ্নের এক ব্যবসায়িক অভিযানে। এভাবেই জন্ম নেয় জেন-জি প্রজন্মের পছন্দের ঘরোয়া স্ন্যাকস ব্র্যান্ড ‘গুড গার্ল স্ন্যাকস’।

তাঁদের এই পথচলা একেবারেই সহজ ছিল না। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বেড়ে ওঠার পাশাপাশি লিয়া ও ইয়াসামানের পরিবার যথাক্রমে মিসরীয়, তিউনিসীয় এবং ইরানি (পার্সিয়ান) ঐতিহ্যের অংশ। মধ্যপ্রাচ্যের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও পারিবারিক রুচিকে তাঁরা তাঁদের পণ্যে ছড়িয়ে দিতে চাইলেন। আচার তৈরিতে তাঁরা ব্যবহার করলেন হলুদ ও সরিষার মতো ভিন্নধর্মী ও সমৃদ্ধ মসলা। বাজারে এল তাঁদের প্রথম আইকনিক সৃষ্টি ‘হট গার্ল পিকলস’।

লিয়া ও ইয়াসামানের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাঁদের ব্র্যান্ডিং ও বিল্ডিং ইন পাবলিক বা সততার সঙ্গে ব্যবসার গল্প তুলে ধরার কৌশল। খাবারের ব্যবসায় পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় তাঁরা এটাকে আশীর্বাদ হিসেবে নেন। ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর থেকে প্রতিদিন তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেওয়া শুরু করেন। নিজেদের ভুলভ্রান্তি, হাসি-ঠাট্টা আর উদ্যোক্তা জীবনের আসল রূপ কোনো রূপক ছাড়াই ক্যামেরায় তুলে ধরেন।

এ বছর সুইজারল্যান্ডে ২ হাজারের বেশি আউটলেটে নিজেদের স্ন্যাকস পৌঁছে দেওয়া এবং একটি গ্লোবাল ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন লিয়া মার্কাস ও ইয়াসামান বখতিয়ার। দুই বন্ধুর শুরু করা সেই ছোট্ট উদ্যোগ আজ জেন-জি প্রজন্মের ঘরোয়া ব্র্যান্ডে পরিণত হওয়ার পথে।

সূত্র: গুড গার্ল স্ন্যাকস, সিএনবিসি

নারীর প্রতি বৈষম্য শুধু রাষ্ট্র বা সরকারের একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক বিপ্লব প্রয়োজন। পরবর্তী প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের চিন্তাভাবনায় নারী-পুরুষের সমতার বিষয়টি…

গাজায় প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপে সন্তানকে বুকে জড়িয়ে কান্না করছেন মা। লাখো মানুষ অবরোধের মধ্যে খাদ্য এবং ওষুধের জন্য লড়াই করছে। এদিকে আরেকটি যুদ্ধ চলছে ডিজিটাল দুনিয়ায়। সেটি অস্ত্রের নয়, এই যুদ্ধের কেন্দ্রে রয়েছে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন—পশ্চিমা নারীবাদ কি সব নারীর জন্য সমানভাবে কথা…

গ্রিক বংশোদ্ভূত আনাস্তাসিয়া ১৫ বছর বয়সে দাসী হিসেবে ইস্তাম্বুলের তোপকাপি প্রাসাদে আসেন। রূপ ও বুদ্ধিমত্তায় মুগ্ধ হয়ে সুলতান প্রথম আহমেদ তাঁকে গ্রহণ করেন এবং নতুন নাম দেন কোসেম। রাজপ্রাসাদে নিজের অবস্থান শক্ত করে ১৬০৫ থেকে ১৬১৭ সাল পর্যন্ত তিনি হাসেকি সুলতান বা সুলতানের প্রিয় স্ত্রী হিসেবে….

জনপ্রিয় টার্গেট

দুই বন্ধুর সাহসের গল্পের ব্র্যান্ড গুড গার্ল স্ন্যাকস

প্রকাশ: ০৮:৪৪:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লিয়া মার্কাস ও ইয়াসামান বখতিয়ার

টিকটকের ফিড স্ক্রল করতে করতে চোখ থমকে গেল একটা ভিডিওতে। স্ক্রিনে তখন এক জেন-জি তরুণী বেশ মজা করে আচার খাচ্ছেন। হ্যাশট্যাগ #পিকল-এর ভিউ তখন বিলিয়ন ছাড়ানোর পথে। একই সঙ্গে বিলিয়ন দর্শকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে আচার তৈরির প্রতিষ্ঠান ‘গুড গার্ল স্ন্যাকস’-এর নাম।

এই আচারের ব্র্যান্ড তৈরি করেছেন দুই বন্ধু লিয়া মার্কাস ও ইয়াসামান বখতিয়ার। তাঁরা খেয়াল করেছিলেন, বাজারে পাওয়া আচারের প্যাকেটগুলো সেকেলে। আবার স্বাস্থ্যসচেতন জেন-জি প্রজন্মের মনমতো অরগানিক ও তাজা উপাদানের ঘাটতিও ছিল আগের আচারে। সোশ্যাল মিডিয়ার জোয়ার আর বাজারের খালি জায়গাটির মাঝখানেই নতুন সম্ভাবনার আলো দেখতে পেয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া দুই বন্ধু।

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের পাট চুকিয়ে লিয়া কাজ করছিলেন এক টেক স্টার্টআপে আর ইয়াসামান ডুবে ছিলেন শিল্পকলার জগতে। তবে বছরখানেকের মধ্যেই করপোরেট জীবনের ছকবাঁধা একঘেয়েমি দুজনকে গ্রাস করে। ঠিক এমন সময়, ২০২৩ সালের দিকে সামাজিক মাধ্যমে তুঙ্গে থাকা আচারের ট্রেন্ড দেখে ইয়াসামান কৌতূহলবশত লিয়াকে মেসেজ পাঠালেন, ‘আমরা আচার বানানোর একটা প্রতিষ্ঠান খুললে কেমন হয়?’ দুই তরুণীর কৌতূহল আর সাহসের ওপর ভর করে শুরু হয় একটি প্রতিষ্ঠানের রোমাঞ্চকর পথচলা। কয়েক দিনের মধ্যে ওয়েবসাইটের ডোমেইন কেনা থেকে শুরু করে ৯ মাসের নিরলস প্রস্তুতি। চাকরি ছেড়ে দিয়ে তাঁরা দুজনে ঝাঁপিয়ে পড়েন অনিশ্চিত কিন্তু স্বপ্নের এক ব্যবসায়িক অভিযানে। এভাবেই জন্ম নেয় জেন-জি প্রজন্মের পছন্দের ঘরোয়া স্ন্যাকস ব্র্যান্ড ‘গুড গার্ল স্ন্যাকস’।

তাঁদের এই পথচলা একেবারেই সহজ ছিল না। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বেড়ে ওঠার পাশাপাশি লিয়া ও ইয়াসামানের পরিবার যথাক্রমে মিসরীয়, তিউনিসীয় এবং ইরানি (পার্সিয়ান) ঐতিহ্যের অংশ। মধ্যপ্রাচ্যের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও পারিবারিক রুচিকে তাঁরা তাঁদের পণ্যে ছড়িয়ে দিতে চাইলেন। আচার তৈরিতে তাঁরা ব্যবহার করলেন হলুদ ও সরিষার মতো ভিন্নধর্মী ও সমৃদ্ধ মসলা। বাজারে এল তাঁদের প্রথম আইকনিক সৃষ্টি ‘হট গার্ল পিকলস’।

লিয়া ও ইয়াসামানের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাঁদের ব্র্যান্ডিং ও বিল্ডিং ইন পাবলিক বা সততার সঙ্গে ব্যবসার গল্প তুলে ধরার কৌশল। খাবারের ব্যবসায় পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় তাঁরা এটাকে আশীর্বাদ হিসেবে নেন। ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর থেকে প্রতিদিন তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেওয়া শুরু করেন। নিজেদের ভুলভ্রান্তি, হাসি-ঠাট্টা আর উদ্যোক্তা জীবনের আসল রূপ কোনো রূপক ছাড়াই ক্যামেরায় তুলে ধরেন।

এ বছর সুইজারল্যান্ডে ২ হাজারের বেশি আউটলেটে নিজেদের স্ন্যাকস পৌঁছে দেওয়া এবং একটি গ্লোবাল ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন লিয়া মার্কাস ও ইয়াসামান বখতিয়ার। দুই বন্ধুর শুরু করা সেই ছোট্ট উদ্যোগ আজ জেন-জি প্রজন্মের ঘরোয়া ব্র্যান্ডে পরিণত হওয়ার পথে।

সূত্র: গুড গার্ল স্ন্যাকস, সিএনবিসি

নারীর প্রতি বৈষম্য শুধু রাষ্ট্র বা সরকারের একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক বিপ্লব প্রয়োজন। পরবর্তী প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের চিন্তাভাবনায় নারী-পুরুষের সমতার বিষয়টি…

গাজায় প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপে সন্তানকে বুকে জড়িয়ে কান্না করছেন মা। লাখো মানুষ অবরোধের মধ্যে খাদ্য এবং ওষুধের জন্য লড়াই করছে। এদিকে আরেকটি যুদ্ধ চলছে ডিজিটাল দুনিয়ায়। সেটি অস্ত্রের নয়, এই যুদ্ধের কেন্দ্রে রয়েছে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন—পশ্চিমা নারীবাদ কি সব নারীর জন্য সমানভাবে কথা…

গ্রিক বংশোদ্ভূত আনাস্তাসিয়া ১৫ বছর বয়সে দাসী হিসেবে ইস্তাম্বুলের তোপকাপি প্রাসাদে আসেন। রূপ ও বুদ্ধিমত্তায় মুগ্ধ হয়ে সুলতান প্রথম আহমেদ তাঁকে গ্রহণ করেন এবং নতুন নাম দেন কোসেম। রাজপ্রাসাদে নিজের অবস্থান শক্ত করে ১৬০৫ থেকে ১৬১৭ সাল পর্যন্ত তিনি হাসেকি সুলতান বা সুলতানের প্রিয় স্ত্রী হিসেবে….