প্রথম দিকে প্রযুক্তি-নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবং অনেক শিক্ষাবিদও ধারণা করেছিলেন যে প্রযুক্তির ব্যবহার শিক্ষার্থীদের শেখার গতি অভাবনীয়ভাবে ত্বরান্বিত করবে এবং শিক্ষাকে আরও ইন্টারেক্টিভ ও আনন্দদায়ক করে তুলবে। গ্যামিফিকেশন, অ্যানিমেশন আর ডিজিটাল কনটেন্টের চমকে আমরা ভেবেছিলাম শিক্ষার মান হয়তো বহুগুণ বেড়ে যাবে। কিন্তু ২০২৬ সালের শিক্ষাব্যবস্থার দিকে তাকালে সেই ‘ডিজিটাল ইউটোপিয়া’ বা কল্পরাজ্যের মোহভঙ্গ ঘটে। বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে এখন সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিক্ষার্থীদের গভীর মনোযোগ এবং বিশ্লেষণাত্মক চিন্তার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস করেছে। একটি ছাপার অক্ষরের বইয়ের পাতা উল্টে পড়ার মধ্যে যে জ্ঞানগত সুবিধা, স্পর্শজনিত স্মৃতি এবং মস্তিষ্কের নিউরাল সংযোগ তৈরির ক্ষমতা রয়েছে, তা ডিজিটাল স্ক্রিনে দ্রুত স্ক্রল করার মাধ্যমে কখনোই পাওয়া যায় না। স্ক্রিনে পড়ার সময় শিক্ষার্থীরা গভীরে যাওয়ার বদলে কেবল ওপরে-ওপরে চোখ বুলিয়ে যায়, যার ফলে পঠিত বিষয়ের দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি ধারণক্ষমতা কমে যাচ্ছে। বর্তমানে ডিভাইসগুলো শিক্ষার উপকরণের চেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য মনোযোগ বিঘ্নকারী সবচেয়ে বড় বস্তুতে পরিণত হয়েছে।
ডিজিটাল ডিভাইসের এই অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে, তা ২০২৬ সালে এসে এক বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিয়েছে। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে একটানা তাকিয়ে থাকার ফলে শিশুদের মধ্যে ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেইন’ বা চোখের শুষ্কতা ও দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হওয়ার সমস্যা মহামারির আকার ধারণ করেছে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে মায়োপিয়া বা ক্ষীণদৃষ্টির হার আগের যেকোনো দশকের চেয়ে এখন সর্বোচ্চ। পাশাপাশি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডিভাইসের ওপর ঝুঁকে থাকার কারণে ঘাড় ও পিঠের ব্যথা বা ‘টেক নেক’-এর মতো শারীরিক উপসর্গ এখন স্কুলপড়ুয়াদের নিত্যসঙ্গী। এ ছাড়া ডিভাইসের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণে বাধা দিয়ে শিশুদের স্বাভাবিক ঘুমের চক্রকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে, যা তাদের শারীরিক বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রযুক্তির এই ভয়াবহ নেতিবাচক দিকগুলো সামনে আসার পর অভিভাবক এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে। গত কয়েক বছরে পৃথিবীজুড়ে বিদ্যালয়গুলোতে ‘স্ক্রিন-ফ্রি’ বা ডিভাইসমুক্ত শ্রেণিকক্ষের আন্দোলন ক্রমেই জোরদার হয়েছে, যা ২০২৬ সালে এসে চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের স্কুলগুলোতেই এখন ক্লাসে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা ব্যক্তিগত ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্ক্যান্ডিনেভিয়া থেকে শুরু করে ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক দেশই এখন পুনরায় কাগজ-কলম বা বইনির্ভর শিক্ষায় ফিরে যাওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে। অনেক অভিভাবক সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন, যার মূল লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট বয়সের (যেমন, হাইস্কুলে ওঠার) আগে শিশুদের হাতে স্মার্টফোন না দেওয়া এবং স্কুলগুলোতে স্ক্রিন টাইম শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার জন্য নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা।
প্রযুক্তি স্বভাবতই খারাপ কিছু নয় এবং আধুনিক যুগে প্রযুক্তিকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করার উপায়ও নেই। তবে আমাদের বুঝতে হবে, প্রযুক্তি কখনোই একজন রক্তমাংসের শিক্ষক বা বাস্তবসম্মত মানবিক শিক্ষার বিকল্প হতে পারে না; এটি শিক্ষার একটি সহায়ক মাধ্যম মাত্র। ২০২৬ সালের এই পর্যায়ে এসে বিদ্যালয়গুলোতে ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার একেবারে শূন্য করা হয়তো অনেকের কাছে অবাস্তব মনে হতে পারে, তবে এর পরিমিত, নিয়ন্ত্রিত ও উদ্দেশ্যমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
আসিফ ,বিজ্ঞান লেখক ও সম্পাদক, মহাবৃত্ত
শিশু যদি উখিয়া থেকে চট্টগ্রামে আসে, তাহলে তার মধ্যে কোনো নাটকীয়তা খোঁজার কী আছে? স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকার তো সবার আছে। তাহলে বিষয়টি নিয়ে লিখতে হচ্ছে কেন?
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিনা দরপত্রে ১৪টি বিমান কেনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। নিজেদের আর্থিক সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও এর লাভজনকতা যাচাই-বাছাই না করে বা কোনোরূপ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ছাড়াই ঋণের টাকায় এত বিশাল ব্যয়ে এতগুলো…
বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের বাজার নিয়ে আবার নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএওর সবশেষ তথ্যমতে, গত আগস্টে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। এফএওর সার্বিক খাদ্য মূল্যসূচক আগস্টে এক লাফে গড়ে ১৩৩ দশমিক ৩ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা আগের মাসের চেয়ে বেশি।
দৈনিক টার্গেট 

























