ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ব্রিটেনের ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস (ন্যাটস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে তাদের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমের সমস্যা সমাধান করা হয়। তবে এর প্রভাব দ্রুত পুরো বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ে। ১৫টি ব্রিটিশ বিমানবন্দর ও দেশের বাইরেও ফ্লাইটে দেরি হয়। একই সঙ্গে এয়ারলাইন ও বিমানবন্দরগুলোকে বিপুলসংখ্যক ফ্লাইটের জট সামলাতে হয়।
গ্যাটউইক বিমানবন্দরে জোসি ডনোগু নামে এক যাত্রী আয়ারল্যান্ডগামী রায়ানএয়ারের একটি বিমানে তিন ঘণ্টা আটকে ছিলেন। পরে তাঁর ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়। জোসি বলেন, ‘ওই বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করাটা যেন আলকাট্রাজ (যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত এক কারাগার, যা কড়া নিরাপত্তার জন্য বিখ্যাত) থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করার মতো ছিল।’
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরে অবস্থিত কুখ্যাত সাবেক দ্বীপ কারাগার আলকাট্রাজের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওখানে পরিস্থিতি একেবারে দুঃস্বপ্নের মতো। এটি বর্ণনা করার জন্য ‘দুঃস্বপ্ন’ ছাড়া আর কোনো শব্দ আমার মাথায় আসছে না।’
লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে ফ্লাইটের উড্ডয়ন আবার শুরু হলেও, পরিস্থিতির কারণে বিমানবন্দরটি রাতের বাকি সময়ের জন্য সব আগমনকারী ফ্লাইট স্থগিত করে। একই সঙ্গে আরও বিলম্ব হতে পারে বলে যাত্রীদের সতর্ক করা হয়। হিথরো থেকে বাল্টিমোর যাওয়ার কথা ছিল ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটের। চার ঘণ্টা মাটিতে অবস্থান করার পর ওই বিমানের যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার মধ্যে ফ্লাইটের কর্মীরা যাত্রীদের পাস্তা ও চিকেন কারি পরিবেশন করেন। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা যাত্রীদের কেউ সিনেমা দেখেছেন, আবার কেউ বিমানের ভেতরের করিডোরে হাঁটাহাঁটি করেছেন।
তবে পরে যাত্রীরা জানতে পারেন, তাদের ভোগান্তি এখানেই শেষ নয়। লাগেজ সংগ্রহের এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। যাত্রীদের জানানো হয়, তাদের সহায়তা করার মতো কেউ নেই এবং লাগেজের জন্য তাদের নিজেদেরই দাবি বা অভিযোগ জানাতে হবে।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, পরিস্থিতির কারণে তাদের ১০০ টির বেশি ফ্লাইট বাতিল অথবা অন্য বিমানবন্দরে পাঠাতে হয়েছে। অন্যদিকে রায়ানএয়ার জানিয়েছে, তাদের ৬৫ হাজারের বেশি যাত্রী এই সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ৫০ টির বেশি নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের এক মুখপাত্র বলেন, ‘সমস্যাটির মাত্রা এতটাই গুরুতর যে এর প্রভাব পরবর্তী সময়েও উল্লেখযোগ্যভাবে থাকবে। এই ঘটনা পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল এবং আমাদের যাত্রী ও কর্মীদের জন্য এটি অত্যন্ত হতাশাজনক। এর ফলে বিমান ও ক্রুরা বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়েছে এবং নিজেদের নির্ধারিত অবস্থান থেকে সরে গেছে।’
বাজেট এয়ারলাইন বা তুলনামূলক কম খরচের বিমান পরিবহন সংস্থা ইজিজেট জানিয়েছে, তাদের কিছু ফ্লাইট ‘চালানো সম্ভব হয়নি।’ প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, সিস্টেমে এই সমস্যার কারণে পুরো ইউরোপজুড়ে তাদের ফ্লাইটে বিলম্ব হয়েছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল করে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন ইসরায়েলি দুই ভাই এলিয়াভ ও হারেল ‘কোকো’ লিবি। তাঁদের মালিকানাধীন লিবি কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রতিষ্ঠান পশ্চিম তীরের অবৈধ ইহুদি বসতিগুলোর জন্য দ্রুত স্থাপনযোগ্য ভবন তৈরি করছে।
যুক্তরাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা ও ইসরায়েলবিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপের জেরে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে চারটি ‘পাল্টা পদক্ষেপ’ ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সাআর জানিয়েছেন, জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া হবে।
দৈনিক টার্গেট 

























