এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করা চক্রের মূল হোতা ফয়সাল আহমেদ ও তাঁর সহযোগী আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৩)। গতকাল শনিবার রাতে পৃথক দুটি অভিযানে ঢাকা মহানগরীর যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিজিটাল আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ রোববার বিকেলে এসআরবি-৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড মিডিয়া কর্মকর্তা মো. মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গাজীপুর মহানগরীর কালিয়াকৈর থানায় করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে। হৃদয় আনসারী নামের এক তরুণ গাজীপুর থেকে রাজধানীর মগবাজারে যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে তাঁর পরিবারকে ফোন করে জানানো হয়। অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে ফোন করে বলা হয়, হৃদয় অপহরণকারীদের জিম্মায় রয়েছেন। তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন বিকাশ ও নগদ নম্বরে মোট ৪০ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও হৃদয়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শরণাপন্ন হন।
অভিযোগের পর বিকাশ ও নগদ নম্বরের সূত্র ধরে ছায়া তদন্ত শুরু করে এসআরবি-৩। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৮ অক্টোবর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিকাশের একটি দোকান এবং টাকা দাবিতে ব্যবহৃত নম্বরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, যে নম্বর থেকে ফোন করে মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছিল, সেই মোবাইল ফোনের মালিকের ফোনটি গত ৫ অক্টোবর হারিয়ে যায়।
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। একপর্যায়ে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে চক্রের মূল হোতা মো. ফয়সাল আহমেদ এবং ডেমরা এলাকা থেকে তাঁর সহযোগী মো. আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৩-এর একটি দল।
চক্রটির কাছে প্রকৃতপক্ষে কোনো ভুক্তভোগী জিম্মি থাকত না। পরিবারের সদস্যরা যখন স্বজনের সঙ্গে কথা বলতে চাইতেন, তখন চক্রের সদস্য আল-আমিন নিখোঁজ ব্যক্তির কণ্ঠ নকল করে কথা বলতেন। এ সময় তাঁকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে বলে পরিবারের সদস্যদের বিশ্বাস করানো হতো। এভাবে মিথ্যা আশ্বাস ও ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন তাঁরা।
প্রতারকদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) হিসাবের লেনদেন পর্যালোচনা করেও এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৩।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হারানো মোবাইল ফোনের সিম বন্ধ না করলে প্রতারক চক্র ওই সিম ব্যবহার করে বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব খুলে প্রতারণা করতে পারে। এতে হারানো ফোনের প্রকৃত মালিক সরাসরি অপরাধে জড়িত না থাকলেও ওই সিমের মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধের ঘটনায় তাঁকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৩।

দৈনিক টার্গেট 






















