পঞ্চগড়ে স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণ, লজ্জায় বিষপানে আত্মহত্যা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৭:৩২:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত হয়েছে

এদিকে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে মো. সোহেল (২৫) ও মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে বাঘা মন্টু (২৩) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ভিতরগড় এলাকার ঝেচুপাড়া গ্রামে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই কিশোরী পঞ্চগড় সদর উপজেলার শালমারা মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে সোহেল তাকে কুপ্রস্তাব ও প্রেমের নিবেদন দিয়ে আসছিলেন।

একপর্যায়ে ১০ সেপ্টেম্বর রাতে সোহেল ও তাঁর সহযোগীরা কৌশলে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং বিষয়টি কাউকে না জানাতে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।

পরে গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগীর পরিবার তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। আসামিদের হুমকি ও মানসিক চাপের কারণে পরদিন শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে ভুক্তভোগী কিশোরী বাড়িতে কীটনাশকজাতীয় বিষ পান করে। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাতে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে।

এ বিষয়ে মামলার বাদী ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই বলেন, ‘আমার ছোট বোনকে কৌশলে অপহরণ করে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং আসামিদের হুমকির মুখে সে বাধ্য হয়ে বিষ পান করেছিল। আমরা আসামিদের ফাঁসি চাই, যেন আর কোনো বোনের জীবন এভাবে নষ্ট না হয়।’

এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বলেন, ‘স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার অন্য আসামিদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।’

শরিফুল দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে ঈদুল আজহা উদযাপন করবে—এমনটাই কথা ছিল। ভেবেছিলাম, ছেলে দেশে ফিরলে বিয়েটাও দিয়ে দেব। সেই আশায় ঘর সাজানো-গোছানোর কাজও শেষ করেছিলাম। কিন্তু কোরবানির ঈদ উদযাপন ও ছেলের বিয়েটা আর হলো না।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে মিষ্টি বিতরণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দুই নেতা।

মাদারীপুরের রাজৈরে সেকান্দার আলী হাওলাদার হত্যা মামলায় তিন ভাইকে যাবজ্জীবন এবং আরেক ভাইকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় ১৪ আসামি খালাস পেয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামিই জামিনে বেরিয়ে পলাতক রয়েছেন।

জনপ্রিয় টার্গেট

সুনামগঞ্জে ২৭ লাখ টাকার বিড়িসহ আটক ১

পঞ্চগড়ে স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণ, লজ্জায় বিষপানে আত্মহত্যা

প্রকাশ: ০৭:৩২:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এদিকে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে মো. সোহেল (২৫) ও মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে বাঘা মন্টু (২৩) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ভিতরগড় এলাকার ঝেচুপাড়া গ্রামে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই কিশোরী পঞ্চগড় সদর উপজেলার শালমারা মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে সোহেল তাকে কুপ্রস্তাব ও প্রেমের নিবেদন দিয়ে আসছিলেন।

একপর্যায়ে ১০ সেপ্টেম্বর রাতে সোহেল ও তাঁর সহযোগীরা কৌশলে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং বিষয়টি কাউকে না জানাতে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।

পরে গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগীর পরিবার তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। আসামিদের হুমকি ও মানসিক চাপের কারণে পরদিন শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে ভুক্তভোগী কিশোরী বাড়িতে কীটনাশকজাতীয় বিষ পান করে। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাতে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে।

এ বিষয়ে মামলার বাদী ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই বলেন, ‘আমার ছোট বোনকে কৌশলে অপহরণ করে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং আসামিদের হুমকির মুখে সে বাধ্য হয়ে বিষ পান করেছিল। আমরা আসামিদের ফাঁসি চাই, যেন আর কোনো বোনের জীবন এভাবে নষ্ট না হয়।’

এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বলেন, ‘স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার অন্য আসামিদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।’

শরিফুল দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে ঈদুল আজহা উদযাপন করবে—এমনটাই কথা ছিল। ভেবেছিলাম, ছেলে দেশে ফিরলে বিয়েটাও দিয়ে দেব। সেই আশায় ঘর সাজানো-গোছানোর কাজও শেষ করেছিলাম। কিন্তু কোরবানির ঈদ উদযাপন ও ছেলের বিয়েটা আর হলো না।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে মিষ্টি বিতরণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দুই নেতা।

মাদারীপুরের রাজৈরে সেকান্দার আলী হাওলাদার হত্যা মামলায় তিন ভাইকে যাবজ্জীবন এবং আরেক ভাইকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় ১৪ আসামি খালাস পেয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামিই জামিনে বেরিয়ে পলাতক রয়েছেন।