নেশার টাকা না দিলে সন্তান বিক্রির হুমকি, ১১ মাসের মেয়েকে নিয়ে উধাও বাবা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৯:১১:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত হয়েছে

রুমানার অভিযোগ, গত ১৭ জুলাই বিকেলে তাঁর স্বামী হামিদুল মিয়া শ্বশুরবাড়িতে এসে ১১ মাস বয়সী মেয়ে ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে কোলে নিয়ে জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে বাইরে বের হন। এরপর শিশুটিকে নিয়ে আর বাড়িতে ফেরেননি তিনি।

রুমানার দাবি, তাঁর স্বামী মাদকাসক্ত। মাদকের টাকা জোগাড় করতে না পেরে সন্তানকে নিয়ে তিনি পালিয়ে গেছেন। ঘটনার দুই দিন পর মুঠোফোনে হামিদুল তাঁর কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন রুমানা।

রুমানা বলেন, ‘আমার স্বামী একজন মাদকাসক্ত। মাদকের টাকা জোগাড় করতেই সন্তানকে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন। নিখোঁজের দুই দিন পর বিকেলে মোবাইলে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। অভাবের কারণে সেই টাকা দিতে পারিনি। এমনকি সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও আমরা শঙ্কায় আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্বামীর আরও দুটি বউ আছে, সেটিও জানতে পেরেছি। আমি কিছুই চাই না, শুধু আমার সন্তানকে ফিরে চাই। সে আমাকে সন্তান বিক্রি করার হুমকি দিয়েছে। আমার সন্তান কী অবস্থায় আছে, তা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে হামিদুল মিয়া ও রুমানা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথম দুই-তিন মাস সংসার ভালোভাবে চললেও পরে হামিদুল নিয়মিত মাদক সেবন করে রুমানাকে মারধর করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

রুমানা জানান, নির্যাতন সহ্য করেও তিনি সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সন্তান জন্মের পর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে গেলে তিনি মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন।

ঘটনার পর থানায় অভিযোগ ও আদালতে মামলা করেও সন্তানকে ফিরে না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রুমানা। তাঁর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

রুমানার মা রোশনা বেগম বলেন, ‘এই ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিয়ে পাপ করেছিলাম। ছেলেটি যে এত নিষ্ঠুর, ১১ মাস বয়সী ছোট্ট মেয়েটিকে বিক্রি করার হুমকি দেবে, তা ভাবিনি। ১০ হাজার টাকা চায়। আমি কীভাবে দেব? আমি গরিব মানুষ। আমি আমার নাতনিকে উদ্ধার চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা আলম বলেন, ‘সে সব ধরনের নেশা করে। এ রকম বেয়াদব স্বামী যেন আর কারও কপালে না জোটে। আমরা শিশুটিকে উদ্ধার চাই।’

তবে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা বলেন, ‘এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াসহ শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।’

অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে ঘটনাস্থলে থাকা গণমাধ্যমকর্মীরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলতে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চাপ দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।

নাজমার ভাষ্য, আগুন লাগার পর হাসপাতালের ভেতরে লোকজন ছোটাছুটি শুরু করলে কুলসুম ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা করেন। মিম আগে বের হয়ে যায়। পরে ফিরে এসে দেখে, লোকজন তাঁর ভাই স্বাধীনকে টেনে বের করছেন; কিন্তু মাকে পাওয়া যাচ্ছে না।

রাজধানী ঢাকায় প্রায় প্রতিদিনই অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে। পরে পরিচয় শনাক্ত হওয়া মরদেহ মর্গ থেকে নিয়ে যান স্বজনেরা। পরিচয় শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলো পড়ে থাকে মর্গে ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে। পরে এসব মরদেহ দাফন ও সৎকারের জন্য হস্তান্তর করা হয় আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষে স্পিডবোটের ২ যাত্রী নিহত

নেশার টাকা না দিলে সন্তান বিক্রির হুমকি, ১১ মাসের মেয়েকে নিয়ে উধাও বাবা

প্রকাশ: ০৯:১১:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রুমানার অভিযোগ, গত ১৭ জুলাই বিকেলে তাঁর স্বামী হামিদুল মিয়া শ্বশুরবাড়িতে এসে ১১ মাস বয়সী মেয়ে ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে কোলে নিয়ে জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে বাইরে বের হন। এরপর শিশুটিকে নিয়ে আর বাড়িতে ফেরেননি তিনি।

রুমানার দাবি, তাঁর স্বামী মাদকাসক্ত। মাদকের টাকা জোগাড় করতে না পেরে সন্তানকে নিয়ে তিনি পালিয়ে গেছেন। ঘটনার দুই দিন পর মুঠোফোনে হামিদুল তাঁর কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন রুমানা।

রুমানা বলেন, ‘আমার স্বামী একজন মাদকাসক্ত। মাদকের টাকা জোগাড় করতেই সন্তানকে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন। নিখোঁজের দুই দিন পর বিকেলে মোবাইলে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। অভাবের কারণে সেই টাকা দিতে পারিনি। এমনকি সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও আমরা শঙ্কায় আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্বামীর আরও দুটি বউ আছে, সেটিও জানতে পেরেছি। আমি কিছুই চাই না, শুধু আমার সন্তানকে ফিরে চাই। সে আমাকে সন্তান বিক্রি করার হুমকি দিয়েছে। আমার সন্তান কী অবস্থায় আছে, তা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে হামিদুল মিয়া ও রুমানা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথম দুই-তিন মাস সংসার ভালোভাবে চললেও পরে হামিদুল নিয়মিত মাদক সেবন করে রুমানাকে মারধর করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

রুমানা জানান, নির্যাতন সহ্য করেও তিনি সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সন্তান জন্মের পর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে গেলে তিনি মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন।

ঘটনার পর থানায় অভিযোগ ও আদালতে মামলা করেও সন্তানকে ফিরে না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রুমানা। তাঁর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

রুমানার মা রোশনা বেগম বলেন, ‘এই ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিয়ে পাপ করেছিলাম। ছেলেটি যে এত নিষ্ঠুর, ১১ মাস বয়সী ছোট্ট মেয়েটিকে বিক্রি করার হুমকি দেবে, তা ভাবিনি। ১০ হাজার টাকা চায়। আমি কীভাবে দেব? আমি গরিব মানুষ। আমি আমার নাতনিকে উদ্ধার চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা আলম বলেন, ‘সে সব ধরনের নেশা করে। এ রকম বেয়াদব স্বামী যেন আর কারও কপালে না জোটে। আমরা শিশুটিকে উদ্ধার চাই।’

তবে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা বলেন, ‘এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াসহ শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।’

অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে ঘটনাস্থলে থাকা গণমাধ্যমকর্মীরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলতে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চাপ দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।

নাজমার ভাষ্য, আগুন লাগার পর হাসপাতালের ভেতরে লোকজন ছোটাছুটি শুরু করলে কুলসুম ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা করেন। মিম আগে বের হয়ে যায়। পরে ফিরে এসে দেখে, লোকজন তাঁর ভাই স্বাধীনকে টেনে বের করছেন; কিন্তু মাকে পাওয়া যাচ্ছে না।

রাজধানী ঢাকায় প্রায় প্রতিদিনই অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে। পরে পরিচয় শনাক্ত হওয়া মরদেহ মর্গ থেকে নিয়ে যান স্বজনেরা। পরিচয় শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলো পড়ে থাকে মর্গে ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে। পরে এসব মরদেহ দাফন ও সৎকারের জন্য হস্তান্তর করা হয় আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে।