সকাল ৯টার পর থেকে শিক্ষার্থীরা কলেজের ভেতরে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। পরে নির্ধারিত একটি সরকারি চাকরির পরীক্ষা চলার কারণে পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা সড়কে অবস্থান নেন। এতে কলেজের সামনের দুই পাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তাঁদের দুই দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলেও দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুক্রবার ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় আন্দোলনে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। শনিবার থেকে আরও শিক্ষার্থী আন্দোলনে যোগ দেবেন বলে জানান তাঁরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সীমা আক্তার বলেন, ‘আমরা আমাদের দুই দফা দাবির বিষয়ে অনড় আছি। ৭২ ঘণ্টা কেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দাবি মানা না হবে, ততক্ষণ আমরা থাকব। আজ ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী কম দেখা যাচ্ছে। কাল থেকে ক্যাম্পাস খুললে আরও অনেকে যোগ দেবেন। আমরা যারা আছি, সবাই আমাদের দাবিতে অটল থাকব।’
শিক্ষার্থীদের দুই দফা দাবির প্রথমটি হলো, কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছাকে পদত্যাগ করতে হবে। তাঁর পদত্যাগের লিখিত ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কলেজের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখতে হবে এবং তাঁকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। দ্বিতীয় দাবিতে রয়েছে, মধ্যরাতে কলেজ ও ছাত্রীদের আবাসিক হলে পুলিশের প্রবেশ, শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিপেটা ও হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিচার নিশ্চিত করা। এ ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তাঁরা অধ্যক্ষকে তাঁর কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। এ সময় শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিপেটা করেছে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন বলে তাঁদের দাবি।
পুলিশের এ ঘটনার প্রতিবাদে রাতেও কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাতেই সংবাদ সম্মেলন করে অধ্যক্ষের পদত্যাগ ও পুলিশের হামলার ঘটনার বিচারের দাবি জানান তাঁরা। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়নে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন।
গত রাতের পুলিশের অভিযানে শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সীমা আক্তার বলেন, ‘লাঠির আঘাতে তিন থেকে চারজন হাসপাতালে আছেন। অনেক মেয়ের গায়ে লাঠির আঘাত লেগেছে। এ ছাড়া চুল ধরে টেনে নামানো হয়েছে, হাত ধরে টেনেহিঁচড়ে নামানো হয়েছে। আমাদের কাছে এসব ঘটনার ভিডিও ও ছবি আছে। আমি নিজেও ঘটনাস্থলে ছিলাম এবং ফেসবুকে লাইভ করেছি।’
এদিকে আজকের আন্দোলন কর্মসূচি প্রসঙ্গে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামিল হোসেন বলেন, কিছু শিক্ষার্থী কলেজের সামনের সড়ক আটকে রেখেছেন। তবে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করলে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। গত রাতের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অধ্যক্ষকে উদ্ধার করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। তবে এ সময় কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
আন্দোলনের সূত্রপাত হয় আবাসিক হলের দুই শিক্ষার্থীর আসন বাতিল ও জরিমানার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। শিক্ষার্থী ও কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পূজার ছুটির আগে কলেজের অডিটোরিয়ামে তিনটি আবাসিক হলের পাঁচ বিভাগের স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি প্রথমে রাত ১০টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত করা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষ হতে ভোর ৫টা বেজে যায়।
নির্ধারিত সময়ের পরও অডিটোরিয়াম ব্যবহার করায় অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক হলের আসন বাতিল করেন অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেছা। পরে ওই শিক্ষার্থীরা ক্ষমা চাইতে গেলে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে এক রাতের অডিটোরিয়ামের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা চাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁরা আন্দোলন শুরু করেন।
অন্যদিকে অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছা শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীদের রাত ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেওয়া হলেও তারা ভোর ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করেছেন। এ কারণে দুই শিক্ষার্থীর আসন বাতিল করা হয়েছিল। পরে তাঁরা ক্ষমা চাইলে তিনি নমনীয় হন। তবে শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে বিদ্যুৎ অপচয়ের বিল আদায়ের সিদ্ধান্ত নেন।

দৈনিক টার্গেট 

























