কদমতলীর মেরাজনগরে ঘুমন্ত কিশোরীর ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ; থানায় জিডি, সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি।

ঘুমন্ত কিশোরীর ওপর হামলার অভিযোগ, হত্যাচেষ্টার দাবি; থানায় অভিযোগ

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১১:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ৭২ বার পঠিত হয়েছে

রাজধানীর কদমতলী থানাধীন মেরাজনগর এলাকায় ঘুমন্ত এক কিশোরীর ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পরিবারটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

গত ২০ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সানজিদা নামে এক কিশোরী নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। এ সময় তার আপন ছোট খালা ফারজানা খানম ববি কক্ষে প্রবেশ করে একটি সিল-নোড়া দিয়ে তার মাথার পেছনে পরপর কয়েকটি আঘাত করেন। অভিযোগে বলা হয়, ঘুমন্ত অবস্থায় আকস্মিক এ হামলায় সানজিদা কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে বারবার আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত তার বুকের ওপর চেপে বসে গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় পাশের কক্ষে অবস্থানরত সানজিদার বাবা মো. সাইফুল ইসলাম মেয়ের চিৎকার ও শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তিনি কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পেয়ে বারবার ধাক্কা দিতে থাকেন। পরে সানজিদা কোনোমতে দরজা খুলতে সক্ষম হলে তাকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার পর সানজিদা সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আমার নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ মাথার পেছনে প্রচণ্ড আঘাত অনুভব করে ঘুম ভেঙে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাকে বারবার আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে আমার বুকের ওপর চেপে বসে গলা চেপে ধরা হয়। তখন আমি চিৎকার করারও সুযোগ পাচ্ছিলাম না। ঠিক সেই সময় আমার বাবা পাশের কক্ষ থেকে দরজায় জোরে জোরে ধাক্কা দিতে থাকেন। দরজার শব্দ শুনে আমি কোনোমতে উঠে দরজা খুলতে সক্ষম হই। বাবা আমাকে উদ্ধার করেন এবং পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। কিন্তু পুলিশ আসার পরপরই অভিযুক্তরা বাসা ছেড়ে চলে যান। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের শাস্তি এবং আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”

সানজিদার মা প্লাবনী বলেন, “একজন মা হিসেবে নিজের সন্তানের ওপর এমন হামলার অভিযোগ আমাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে। ঘটনার পর থেকে আমরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমরা চাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষভাবে পুরো ঘটনার তদন্ত করুক এবং সত্য উদ্ঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। আমাদের পরিবারের সদস্যদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল এবং ন্যায়বিচার ছাড়া আর কিছুই চাই না।”

পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার পর অভিযুক্ত ফারজানা খানম ববি, খান রাজু আহমেদ এবং লাবনী নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলে দ্রুত বাসা ছেড়ে চলে যান। যাওয়ার সময় তারা ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন এবং অভিযুক্তকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য, অভিযুক্ত একজন সুস্থ-স্বাভাবিক ব্যক্তি এবং তার দুটি সন্তান রয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পর সানজিদার কক্ষ তল্লাশি করে একটি স্বর্ণের চেইন, নগদ ২৫ হাজার টাকা এবং একটি Samsung Galaxy S25 Ultra (512GB) মোবাইল ফোন, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরিবারের সন্দেহ, ঘটনার সময় এসব মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা বিষয়টিরও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর থেকে তারা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটে, সে জন্য তারা প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে কদমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাইলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় টার্গেট

কদমতলীর মেরাজনগরে ঘুমন্ত কিশোরীর ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ; থানায় জিডি, সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি।

ঘুমন্ত কিশোরীর ওপর হামলার অভিযোগ, হত্যাচেষ্টার দাবি; থানায় অভিযোগ

প্রকাশ: ১১:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

রাজধানীর কদমতলী থানাধীন মেরাজনগর এলাকায় ঘুমন্ত এক কিশোরীর ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পরিবারটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

গত ২০ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সানজিদা নামে এক কিশোরী নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। এ সময় তার আপন ছোট খালা ফারজানা খানম ববি কক্ষে প্রবেশ করে একটি সিল-নোড়া দিয়ে তার মাথার পেছনে পরপর কয়েকটি আঘাত করেন। অভিযোগে বলা হয়, ঘুমন্ত অবস্থায় আকস্মিক এ হামলায় সানজিদা কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে বারবার আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত তার বুকের ওপর চেপে বসে গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় পাশের কক্ষে অবস্থানরত সানজিদার বাবা মো. সাইফুল ইসলাম মেয়ের চিৎকার ও শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তিনি কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পেয়ে বারবার ধাক্কা দিতে থাকেন। পরে সানজিদা কোনোমতে দরজা খুলতে সক্ষম হলে তাকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার পর সানজিদা সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আমার নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ মাথার পেছনে প্রচণ্ড আঘাত অনুভব করে ঘুম ভেঙে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাকে বারবার আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে আমার বুকের ওপর চেপে বসে গলা চেপে ধরা হয়। তখন আমি চিৎকার করারও সুযোগ পাচ্ছিলাম না। ঠিক সেই সময় আমার বাবা পাশের কক্ষ থেকে দরজায় জোরে জোরে ধাক্কা দিতে থাকেন। দরজার শব্দ শুনে আমি কোনোমতে উঠে দরজা খুলতে সক্ষম হই। বাবা আমাকে উদ্ধার করেন এবং পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। কিন্তু পুলিশ আসার পরপরই অভিযুক্তরা বাসা ছেড়ে চলে যান। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের শাস্তি এবং আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”

সানজিদার মা প্লাবনী বলেন, “একজন মা হিসেবে নিজের সন্তানের ওপর এমন হামলার অভিযোগ আমাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে। ঘটনার পর থেকে আমরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমরা চাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষভাবে পুরো ঘটনার তদন্ত করুক এবং সত্য উদ্ঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। আমাদের পরিবারের সদস্যদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল এবং ন্যায়বিচার ছাড়া আর কিছুই চাই না।”

পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার পর অভিযুক্ত ফারজানা খানম ববি, খান রাজু আহমেদ এবং লাবনী নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলে দ্রুত বাসা ছেড়ে চলে যান। যাওয়ার সময় তারা ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন এবং অভিযুক্তকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য, অভিযুক্ত একজন সুস্থ-স্বাভাবিক ব্যক্তি এবং তার দুটি সন্তান রয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পর সানজিদার কক্ষ তল্লাশি করে একটি স্বর্ণের চেইন, নগদ ২৫ হাজার টাকা এবং একটি Samsung Galaxy S25 Ultra (512GB) মোবাইল ফোন, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরিবারের সন্দেহ, ঘটনার সময় এসব মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা বিষয়টিরও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর থেকে তারা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটে, সে জন্য তারা প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে কদমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাইলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।