যাকে কাশ্মীরে হত্যার দাবি করেছিল ভারত, তাঁকেই মিডিয়ার সামনে হাজির করল পাকিস্তান

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ বার পঠিত হয়েছে

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী ভারতের হাশিম মূসাকে হত্যার দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে উপহাস করেছেন।

ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মীরে অভিযানে হাশিম মূসাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ বা মেরে ফেলার দাবি করলেও গতকাল বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে আহমেদ শরীফ চৌধুরী মোহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মূসাকে সবার সামনে হাজির করে দাবি করেন, ভারতীয় গণমাধ্যমে যাকে নিহত হিসেবে প্রচার করা হয়েছে, ‘তিনি জীবিত এবং সুস্থ আছেন।’

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গত বছরের ২২ এপ্রিল পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন কাশ্মীরের কোরাগ এলাকায় ‘এনকাউন্টারে’ নিহত হয়েছেন। আহমেদ শরীফ চৌধুরী ভারতীয় দাবিকে ‘তথাকথিত সন্ত্রাসী ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি ভারতীয় রাজনৈতিক ও সামরিক বাহিনীর সাজানো একটি ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ অভিযান।

৩০ সেপ্টেম্বর সকালে চিন্নার কোরের আরেকটি পোস্টে দাবি করা হয়, ভারতীয় বাহিনী অভিযানের সময় লস্কর-ই-তৈয়বার এক ‘সন্ত্রাসীর’ মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই দাবি করে, নিহত ব্যক্তির পরিচয় মোহাম্মদ আসিফ হিসেবে নিশ্চিত হয়েছে এবং তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপের (এসএসজি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোও (পিআইবি) একই ধরনের দাবি করে।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল, ‘মুসা ওরফে আসিফ ফৌজি’কে নিষ্ক্রিয় করা মে মাসে শুরু হওয়া দীর্ঘমেয়াদি ‘অপারেশন শেরুওয়ালি’র চলমান অভিযানের অংশ। এ বিষয়ে আহমেদ শরীফ চৌধুরী ব্যঙ্গ করে বলেন, ছয় মাসের কঠোর পরিশ্রমের পর মুসা ওরফে আসিফ ফৌজিকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, তাই এ জন্য অভিনন্দন ও করতালি দেওয়া উচিত।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যম আসিফকে কাশ্মীরে একাধিক হামলার সঙ্গে যুক্ত বলেও দাবি করেছিল। এসব হামলার মধ্যে ছিল ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট হালান, ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর ডিকেজি, ২০২৩ সালের মে মাসে কান্ডি, ২০২৪ সালের মে মাসে শাহ সিতার, ২০২৪ সালের জুনে শিব খোরি, ২০২৪ সালের অক্টোবরে গানগানগীর, একই মাসে বুটা পাহাড়ি এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাসিরা এলাকার হামলা। ভারতীয় সরকার আরও দাবি করেছিল, আসিফের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একই গোষ্ঠীর আরও তিন সদস্যকে অভিযানে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে।

এরপর তিনি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন নিয়েও ব্যঙ্গ করেন। তিনি নিউজ ১৮, দ্য স্টেটসম্যান, ইন্ডিয়া টুডে, হিন্দুস্তান টাইমস, এবিপি লাইভ এবং দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও স্ক্রিনশট সংবাদ সম্মেলনে দেখান। পরে তিনি মোহাম্মদ আসিফকে মঞ্চে আসতে বলেন এবং জানান, আসিফ পাকিস্তানের আটক জেলার বাসিন্দা। এ সময় তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে আসিফকে ‘সুপারম্যান’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর ‘কৃতিত্ব’ সম্পর্কে জানতে চান।

আসিফ জানান, তিনি ২০০০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ২০০৫ সালে তিনি স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপ বা এসএসজিতে যোগ দেন এবং সেখানে ১৮ বছর সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। এরপর তিন বছর একটি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। গত তিন থেকে চার মাস ধরে তিনি রাওয়ালপিন্ডিতে পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে বসবাস করছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম ও কর্তৃপক্ষের অভিযোগকে আসিফ ‘মিথ্যা, লজ্জাজনক ও অসম্মানজনক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি এসব দাবির নিন্দা জানিয়ে বলেন, সৃষ্টিকর্তার কৃপায় তিনি জীবিত এবং সবার সামনে উপস্থিত আছেন। তিনি আরও বলেন, তিনি তাঁর দায়িত্ব সাহসের সঙ্গে পালন করেছেন এবং পাকিস্তান সামনাসামনি জবাব দেয়, আড়াল থেকে নয়।

অস্ট্রেলিয়ার কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার ইভান মিলাট আরও অন্তত ৩০টি হত্যাকাণ্ড ও নিখোঁজের ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন বলে দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) পার্লামেন্টারি তদন্তে উঠে এসেছে। পুরোনো ও অমীমাংসিত মামলাগুলো নতুন করে তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় কমিশন ও পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের দাবি উঠেছে।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাসহ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র কয়েকজন নেতা দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে তাঁরা আটক হন।

জার্মানির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের (বিএনডি) সাবেক প্রধান অগাস্ট হ্যানিংকে গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জার্মানির ইতিহাসে অন্যতম গুরুতর গুপ্তচর কেলেঙ্কারি হিসেবে দেখা হচ্ছে ঘটনাটিকে।

জনপ্রিয় টার্গেট

সিরাজগঞ্জে নৌকাবাইচ প্রতিযোগীদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ২২

যাকে কাশ্মীরে হত্যার দাবি করেছিল ভারত, তাঁকেই মিডিয়ার সামনে হাজির করল পাকিস্তান

প্রকাশ: ১২:০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী ভারতের হাশিম মূসাকে হত্যার দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে উপহাস করেছেন।

ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মীরে অভিযানে হাশিম মূসাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ বা মেরে ফেলার দাবি করলেও গতকাল বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে আহমেদ শরীফ চৌধুরী মোহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মূসাকে সবার সামনে হাজির করে দাবি করেন, ভারতীয় গণমাধ্যমে যাকে নিহত হিসেবে প্রচার করা হয়েছে, ‘তিনি জীবিত এবং সুস্থ আছেন।’

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গত বছরের ২২ এপ্রিল পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন কাশ্মীরের কোরাগ এলাকায় ‘এনকাউন্টারে’ নিহত হয়েছেন। আহমেদ শরীফ চৌধুরী ভারতীয় দাবিকে ‘তথাকথিত সন্ত্রাসী ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি ভারতীয় রাজনৈতিক ও সামরিক বাহিনীর সাজানো একটি ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ অভিযান।

৩০ সেপ্টেম্বর সকালে চিন্নার কোরের আরেকটি পোস্টে দাবি করা হয়, ভারতীয় বাহিনী অভিযানের সময় লস্কর-ই-তৈয়বার এক ‘সন্ত্রাসীর’ মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই দাবি করে, নিহত ব্যক্তির পরিচয় মোহাম্মদ আসিফ হিসেবে নিশ্চিত হয়েছে এবং তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপের (এসএসজি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোও (পিআইবি) একই ধরনের দাবি করে।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল, ‘মুসা ওরফে আসিফ ফৌজি’কে নিষ্ক্রিয় করা মে মাসে শুরু হওয়া দীর্ঘমেয়াদি ‘অপারেশন শেরুওয়ালি’র চলমান অভিযানের অংশ। এ বিষয়ে আহমেদ শরীফ চৌধুরী ব্যঙ্গ করে বলেন, ছয় মাসের কঠোর পরিশ্রমের পর মুসা ওরফে আসিফ ফৌজিকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, তাই এ জন্য অভিনন্দন ও করতালি দেওয়া উচিত।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যম আসিফকে কাশ্মীরে একাধিক হামলার সঙ্গে যুক্ত বলেও দাবি করেছিল। এসব হামলার মধ্যে ছিল ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট হালান, ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর ডিকেজি, ২০২৩ সালের মে মাসে কান্ডি, ২০২৪ সালের মে মাসে শাহ সিতার, ২০২৪ সালের জুনে শিব খোরি, ২০২৪ সালের অক্টোবরে গানগানগীর, একই মাসে বুটা পাহাড়ি এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাসিরা এলাকার হামলা। ভারতীয় সরকার আরও দাবি করেছিল, আসিফের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একই গোষ্ঠীর আরও তিন সদস্যকে অভিযানে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে।

এরপর তিনি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন নিয়েও ব্যঙ্গ করেন। তিনি নিউজ ১৮, দ্য স্টেটসম্যান, ইন্ডিয়া টুডে, হিন্দুস্তান টাইমস, এবিপি লাইভ এবং দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও স্ক্রিনশট সংবাদ সম্মেলনে দেখান। পরে তিনি মোহাম্মদ আসিফকে মঞ্চে আসতে বলেন এবং জানান, আসিফ পাকিস্তানের আটক জেলার বাসিন্দা। এ সময় তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে আসিফকে ‘সুপারম্যান’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর ‘কৃতিত্ব’ সম্পর্কে জানতে চান।

আসিফ জানান, তিনি ২০০০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ২০০৫ সালে তিনি স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপ বা এসএসজিতে যোগ দেন এবং সেখানে ১৮ বছর সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। এরপর তিন বছর একটি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। গত তিন থেকে চার মাস ধরে তিনি রাওয়ালপিন্ডিতে পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে বসবাস করছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম ও কর্তৃপক্ষের অভিযোগকে আসিফ ‘মিথ্যা, লজ্জাজনক ও অসম্মানজনক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি এসব দাবির নিন্দা জানিয়ে বলেন, সৃষ্টিকর্তার কৃপায় তিনি জীবিত এবং সবার সামনে উপস্থিত আছেন। তিনি আরও বলেন, তিনি তাঁর দায়িত্ব সাহসের সঙ্গে পালন করেছেন এবং পাকিস্তান সামনাসামনি জবাব দেয়, আড়াল থেকে নয়।

অস্ট্রেলিয়ার কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার ইভান মিলাট আরও অন্তত ৩০টি হত্যাকাণ্ড ও নিখোঁজের ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন বলে দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) পার্লামেন্টারি তদন্তে উঠে এসেছে। পুরোনো ও অমীমাংসিত মামলাগুলো নতুন করে তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় কমিশন ও পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের দাবি উঠেছে।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাসহ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র কয়েকজন নেতা দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে তাঁরা আটক হন।

জার্মানির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের (বিএনডি) সাবেক প্রধান অগাস্ট হ্যানিংকে গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জার্মানির ইতিহাসে অন্যতম গুরুতর গুপ্তচর কেলেঙ্কারি হিসেবে দেখা হচ্ছে ঘটনাটিকে।