ওজোন স্তর রক্ষায় ঐতিহ্যবাহী চুক্তির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৮:৪১:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ বার পঠিত হয়েছে

এই চুক্তির সফল বাস্তবায়নের জন্য ১৯৯১ সালে মাল্টিল্যাটারাল ফান্ড গঠিত হয়। এখন পর্যন্ত এই ফান্ড ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে ৮ হাজার ৬০০টির বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক রূপান্তরে উন্নয়নশীল দেশগুলো অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখেছে। ১৯৯০ সালের তুলনায় ৯৮ শতাংশ ওজোন ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। এমনকি জলবায়ু সুরক্ষায় ২০১৬ সালের কিগালি সংশোধনীর মাধ্যমে গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে পরিচিত এইচএফসিএস কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এটি চলতি শতকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি রোধে বড় ভূমিকা রাখবে। বিজ্ঞানীদের আশা ছিল, এই ধারায় চললে ২০৫০ সালের মধ্যে ওজোন স্তর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে। তবে এত সফলতার মাঝেও সম্প্রতি একটি বড় ফাঁক খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এমআইটি এবং সুইজারল্যান্ডের গবেষণাগারের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্লাস্টিক ও অন্যান্য কেমিক্যাল তৈরির প্রাথমিক উপাদান বা ফিড স্টক হিসেবে ব্যবহার করা ওজোন ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহারে ছাড় দেওয়াই এখন নতুন বিপদ ডেকে আনছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, শিল্প উৎপাদনে ফিড স্টক ব্যবহারের সময় রাসায়নিকের মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বায়ুমণ্ডলে নিঃসৃত হয়। কিন্তু উন্নত নজরদারির মাধ্যমে দেখা গেছে, বাস্তবে এই লিক বা নিঃসরণের হার প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বা তারও বেশি। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, প্লাস্টিক উৎপাদন যেভাবে বাড়ছে, তাতে ফিড স্টকের এই অনিয়ন্ত্রিত নিঃসরণ বন্ধ করা না গেলে ওজোন স্তরের সম্পূর্ণ নিরাময় অন্তত সাত বছর পিছিয়ে ২০৭৩ সাল পর্যন্ত চলে যেতে পারে। মন্ট্রিয়ল প্রটোকল অবশ্যই মানবজাতির বড় অর্জন। এটি প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষের ত্বকের ক্যানসার প্রতিরোধ করছে। কিন্তু সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে হলে শিল্পকারখানার ফিড স্টক নিঃসরণ অবিলম্বে কমানো বা এর বিকল্প রাসায়নিক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। স্ক্রিনে শুধু ওজোন স্তর সেরে ওঠার খবর দেখলে চলবে না, পেছনের এই অদৃশ্য লিক বন্ধ করতেই হবে।

‘আরেক প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে ঢুকে হ্যাক করছে মেটার এআই’; ‘ওপেনএআইয়ের একটি পরীক্ষামূলক এআই মডেল নিজের সার্ভারে হামলা চালিয়েছে’; ‘মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করতে ভুয়া প্রোফাইল ব্যবহার করেছে অ্যানথ্রপিক এআই’—এই সব শিরোনামই সাম্প্রতিক।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের দ্রুত অগ্রগতি ও নতুন মডেল উন্মোচনে লাগাম টানা কিংবা কঠোর নিয়ন্ত্রণ চালুর দাবি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘কিছু নেতিবাচক শক্তি’ এই প্রযুক্তির ভয়াবহতা নিয়ে অহেতুক আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তবে একই সঙ্গে চীনকে পেছনে ফেলে

বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রসারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী তিন প্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব একটি বিষয়ে একমত হয়েছেন। আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টি বৈপরীত্যপূর্ণ মনে হলেও বিষয়টি এআইয়ের ব্যাপক অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর তা হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ‘ধীরগতির’ করার প্রয়োজনীয়তা।

জনপ্রিয় টার্গেট

রেট্রো ট্রেন্ডের আড়ালে লুকানো প্রাকৃতিক পরিবেশের মূল্য

ওজোন স্তর রক্ষায় ঐতিহ্যবাহী চুক্তির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

প্রকাশ: ০৮:৪১:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এই চুক্তির সফল বাস্তবায়নের জন্য ১৯৯১ সালে মাল্টিল্যাটারাল ফান্ড গঠিত হয়। এখন পর্যন্ত এই ফান্ড ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে ৮ হাজার ৬০০টির বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক রূপান্তরে উন্নয়নশীল দেশগুলো অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখেছে। ১৯৯০ সালের তুলনায় ৯৮ শতাংশ ওজোন ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। এমনকি জলবায়ু সুরক্ষায় ২০১৬ সালের কিগালি সংশোধনীর মাধ্যমে গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে পরিচিত এইচএফসিএস কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এটি চলতি শতকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি রোধে বড় ভূমিকা রাখবে। বিজ্ঞানীদের আশা ছিল, এই ধারায় চললে ২০৫০ সালের মধ্যে ওজোন স্তর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে। তবে এত সফলতার মাঝেও সম্প্রতি একটি বড় ফাঁক খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এমআইটি এবং সুইজারল্যান্ডের গবেষণাগারের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্লাস্টিক ও অন্যান্য কেমিক্যাল তৈরির প্রাথমিক উপাদান বা ফিড স্টক হিসেবে ব্যবহার করা ওজোন ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহারে ছাড় দেওয়াই এখন নতুন বিপদ ডেকে আনছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, শিল্প উৎপাদনে ফিড স্টক ব্যবহারের সময় রাসায়নিকের মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বায়ুমণ্ডলে নিঃসৃত হয়। কিন্তু উন্নত নজরদারির মাধ্যমে দেখা গেছে, বাস্তবে এই লিক বা নিঃসরণের হার প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বা তারও বেশি। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, প্লাস্টিক উৎপাদন যেভাবে বাড়ছে, তাতে ফিড স্টকের এই অনিয়ন্ত্রিত নিঃসরণ বন্ধ করা না গেলে ওজোন স্তরের সম্পূর্ণ নিরাময় অন্তত সাত বছর পিছিয়ে ২০৭৩ সাল পর্যন্ত চলে যেতে পারে। মন্ট্রিয়ল প্রটোকল অবশ্যই মানবজাতির বড় অর্জন। এটি প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষের ত্বকের ক্যানসার প্রতিরোধ করছে। কিন্তু সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে হলে শিল্পকারখানার ফিড স্টক নিঃসরণ অবিলম্বে কমানো বা এর বিকল্প রাসায়নিক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। স্ক্রিনে শুধু ওজোন স্তর সেরে ওঠার খবর দেখলে চলবে না, পেছনের এই অদৃশ্য লিক বন্ধ করতেই হবে।

‘আরেক প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে ঢুকে হ্যাক করছে মেটার এআই’; ‘ওপেনএআইয়ের একটি পরীক্ষামূলক এআই মডেল নিজের সার্ভারে হামলা চালিয়েছে’; ‘মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করতে ভুয়া প্রোফাইল ব্যবহার করেছে অ্যানথ্রপিক এআই’—এই সব শিরোনামই সাম্প্রতিক।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের দ্রুত অগ্রগতি ও নতুন মডেল উন্মোচনে লাগাম টানা কিংবা কঠোর নিয়ন্ত্রণ চালুর দাবি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘কিছু নেতিবাচক শক্তি’ এই প্রযুক্তির ভয়াবহতা নিয়ে অহেতুক আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তবে একই সঙ্গে চীনকে পেছনে ফেলে

বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রসারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী তিন প্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব একটি বিষয়ে একমত হয়েছেন। আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টি বৈপরীত্যপূর্ণ মনে হলেও বিষয়টি এআইয়ের ব্যাপক অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর তা হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ‘ধীরগতির’ করার প্রয়োজনীয়তা।