যেসব প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করছে, এর মধ্যে বড় বড় প্রতিষ্ঠানের এআই মডেলগুলোর নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার এসব প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও এ নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের সিইওদের কেউ কেউ এআইয়ের উন্নয়নের গতি কমিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন, কেউ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ করেছেন। কেউ আবার বলছেন ‘সবাই মিলে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত’ করার কথা। ফলে এআই নিয়ে নতুন উদ্বেগ সামনে এসেছে।
এআই নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এনেছেন অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরির এই তীব্র প্রতিযোগিতার গতি এখনই ধীর করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি। গত শনিবার সকালে আমোদেই তাঁর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ৩ হাজার ৮০০ শব্দের একটি লেখা প্রকাশ করেছেন। এতে তিনি লিখেছেন, ‘এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি আমাদের অবশ্যই কমাতে হবে। অগ্রগতি তখনো দ্রুত বলেই মনে হবে, এবং এর ফলে আমরা যে বাড়তি সময়টুকু পাব, তার সঠিক ও বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’
এ সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় চ্যাটবট ক্লড তৈরি করেছে অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটির সিইও সব সময়ই এই প্রযুক্তির অগ্রগতির একজন সমর্থক। তবে তিনি শনিবার স্বীকার করলেন, মানুষ এআইয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে এবং প্রযুক্তিটি ‘সাইবার হামলা, জৈব সন্ত্রাসবাদ (বায়ো টেররিজম) এবং মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়’ সৃষ্টির মতো কাজে অপব্যবহার হতে পারে। এআই যাতে ‘ভুল পথ’ এবং মানবসভ্যতার জন্য ক্ষতির কারণ না হয়, এ জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এআই নিয়ে সবচেয়ে ভয়ংকর মন্তব্যটিও দারিও আমোদেই করেছেন। তাঁর মতে, ‘আমরা যদি খুব বেশি ধীরগতিতে এগোই, তাহলেও আমার বিশ্বাস প্রযুক্তিটি ভুল মানুষের হাতে চলে যাবে। আর সেটিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেবে।’
কক্সন বলেন, ‘যাঁরা এআই তৈরি করছেন, তাঁরা বিশ্বাস করেন, চলতি দশকের শেষ নাগাদ এটি আমাদের সবাইকে ধ্বংস করে দিতে পারে। এটি কোনো প্রচারণামূলক চমক নয়। এটা দায়িত্বশীল ব্যক্তি অর্থাৎ অনেক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ও জ্যেষ্ঠ গবেষকেরাই সেটা জানেন। গোপনে আমি এই মানুষেরই চরম ভীতি প্রকাশ করতে শুনেছি। মানবজাতির অন্য কোনো কর্মকাণ্ডেই এতটা মারাত্মক পর্যায়ের বিপদ নেই।’
কক্সনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন অ্যানথ্রপিকের সিইও আমোদেই। নিজের প্রবন্ধে আমোদেই লিখেছেন, এআই এত দ্রুতগতিতে অগ্রসর হতে পারে যে ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে এমন এআই এজেন্ট পুরো ইন্টারনেট ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে, যা শত শত বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিসাধন করতে সক্ষম।
অ্যানথ্রপিকের আরেক গবেষক ইভান হুবিঙ্গারও কক্সনের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এআইয়ের কারণে সব মানুষ মারা যেতে পারে—এমন আশঙ্কাকে তাঁরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। তাঁর ব্যক্তিগত ধারণা, আগামী এক দশকে এমন ঘটনা ঘটার আশঙ্কা ১০ শতাংশের বেশি।
কক্সনই অবশ্য একমাত্র গবেষক নন, যিনি এআই উন্নয়নের গতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। চলতি সপ্তাহে অ্যানথ্রপিক ও গুগল ডিপমাইন্ডের চাকরি ছেড়ে যাওয়া দুই গবেষক জো বেন্টন ও জশ এঙ্গেলসও এআই উন্নয়নের দ্রুতগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এআই প্রযুক্তি যে গতিতে এগিয়ে চলেছে, তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের কর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন। শীর্ষ নির্বাহীরা এই প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে আইন প্রণয়ন এবং বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তার মান নির্ধারণে সহযোগিতার জন্য সরকারগুলোর প্রতি ক্রমাগত আহ্বান জানিয়ে আসছেন। গত শনিবার ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান এক্সে এক পোস্টে আমোদেইয়ের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনিও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এআইয়ের গতি কমানোর সময় এসে গেছে। জুলাই মাসে ‘ইনভেস্ট লাইক দ্য বেস্ট’ পডকাস্টের একটি পর্বে তিনি বলেছিলেন, এআইয়ের গতিনিয়ন্ত্রণ করলে এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার এবং প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে।
এ ছাড়া এক্সএআইয়ের প্রধান ও ধনকুবের ইলন মাস্ক, যাঁর প্রতিষ্ঠান গ্রোক চ্যাটবটটি বানিয়েছে, তিনি বলেছেন, আমোদেই সঠিক কথাই বলেছেন।
বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রসারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী তিন প্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব একটি বিষয়ে একমত হয়েছেন। আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টি বৈপরীত্যপূর্ণ মনে হলেও বিষয়টি এআইয়ের ব্যাপক অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর তা হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ‘ধীরগতির’ করার প্রয়োজনীয়তা।
জাপানের সরকারি নেটওয়ার্কে সাইবার হামলার ঘটনায় প্রায় ২ লাখ ৪৬ হাজার সরকারি কর্মী, ঠিকাদার এবং সরকারের হয়ে কাজ করা অন্যান্য ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির ডিজিটাল এজেন্সি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে জৈব অস্ত্র তৈরিতে সহায়তা নেওয়ার সম্ভাব্য চেষ্টা শনাক্ত করে তা প্রতিহত করার দাবি করেছে এআই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রপিক’। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক ‘থ্রেট ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টে’ বলা হয়েছে, তাদের এআই মডেল ব্যবহার করে এমন কিছু কর্মকাণ্ড শনাক্ত করা হয়েছে, যা জৈব
দৈনিক টার্গেট 

























