নৌপরিবহন অধিদপ্তর: প্রথম শুমারিতে মিলল পৌনে ৩ লাখ নৌযান

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০১:৫২:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ০ বার পঠিত হয়েছে

বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশ্ন, সরকারি হিসাবের বাইরে থাকা এই বিপুলসংখ্যক নৌযান এত দিন কীভাবে প্রকাশ্যে চলেছে? এগুলোর মধ্যে কতগুলো নিরাপত্তার সরকারি মানদণ্ড না মেনে চলাচল করছে? মনে করা হচ্ছে, দেশে নৌযানের ব্যবস্থাপনা, নৌ নিরাপত্তা এবং নৌপথের পরিকল্পনা মূলত হয়েছে অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে।

তথ্যঘাটতি দূর করতে প্রায় আট বছর ঝুলে থাকার পর শুরু হয়েছে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নৌযান শুমারি। গত ২০ থেকে ২৯ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে শুমারি পরিচালনা করা হলেও কার্যক্রম এখনো চলছে। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ নৌযানের সংখ্যাসহ চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর।

‘নৌযানের ডেটাবেইস তৈরি ও নৌযান ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ নামের প্রকল্পটির পরিচালক ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের চিফ নেভাল আর্কিটেক্ট কমান্ডার সাইফুল আহমাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘নৌযান শুমারি এখনো চলমান। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সঙ্গে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সমঝোতা স্মারক হয়েছে। তাদের মাধ্যমে শুমারির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার নৌযান শুমারির আওতায় এসেছে। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ চূড়ান্ত জরিপের তথ্য পাওয়া যাবে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত নৌযান নিবন্ধনের কার্যক্রম চলবে।’

দেশে বৈধ ও অবৈধ নৌযানের প্রকৃত সংখ্যা জানতে ২০১৬ সালে নৌযান শুমারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন না পাওয়ায় এত দিন তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। প্রায় আট বছর ঝুলে থাকার পর ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩ কোটি ৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য দেশের নৌযানের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল তথ্যভান্ডার তৈরি করা। পাশাপাশি নৌযান ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়ানো এবং নৌচলাচলকে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব করার জন্য নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ রয়েছে।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশে নিবন্ধিত অভ্যন্তরীণ নৌযান ছিল ২২ হাজার ৩০০টি। এসব নৌযানের মধ্যে রয়েছে যাত্রীবাহী লঞ্চ ও বোট, মালবাহী, তেলবাহী ও বালুবাহী নৌযান, ড্রেজার, কাটার সাকশন ড্রেজার, টাগবোট, স্পিডবোট, ফেরি, ওয়ার্কবোট, পরিদর্শন বোট, ট্যুরিস্ট লঞ্চ ও বোট, বার্জ, হাউসবোট, ওয়াটার ট্যাক্সি, ফ্লোটিং পাম্প, পন্টুন, ক্রেনবোট, ভাসমান হাসপাতালসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযান।

বর্তমানে চলমান মাঠপর্যায়ের শুমারিতে এ পর্যন্ত ২ লাখ ৭০ হাজার নৌযান পাওয়া গেছে। নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নিবন্ধিত নৌযানের সংখ্যার সঙ্গে এই সংখ্যার বিশাল ব্যবধানই দেখিয়ে দিচ্ছে, দেশের নৌযান ব্যবস্থাপনায় এত দিন পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডারের কতটা অভাব ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোন কোন নৌযান কোন পথে চলাচল করছে, মালিক কে, কী ধরনের ইঞ্জিন ব্যবহৃত হচ্ছে, নৌযানটি কতটা নিরাপদ—এসব তথ্য এক জায়গায় না থাকলে কার্যকর নজরদারি করা কঠিন।

শুমারির চূড়ান্ত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত এর মধ্যে কতগুলো নতুন নৌযান, কতগুলো আগে থেকে চলাচল করলেও নিবন্ধনের বাইরে ছিল এবং কোন শ্রেণির নৌযান কতগুলো, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে না।

শুমারিতে নৌযানের সংখ্যা ছাড়াও এর ধরন, আকার-আকৃতি, মালিক ও চালকের তথ্য, ইঞ্জিন, জ্বালানি ব্যবহার এবং নকশা ও জরিপের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী সব ইঞ্জিনচালিত নৌযান এর আওতায় রয়েছে। এ ছাড়া ডাম্ববার্জ এবং অন্য নৌযান দিয়ে টেনে বা ধাক্কা দিয়ে চালানো অযন্ত্রচালিত নৌযানও শুমারির আওতায় থাকছে। চূড়ান্ত তথ্যভান্ডার তৈরি হলে নৌপরিবহন খাতে এত দিন বিচ্ছিন্নভাবে থাকা নানা তথ্য একই ব্যবস্থার মধ্যে আসবে। যুক্ত হবে হিসাবের মধ্যে আদৌ না থাকা নৌযানের তথ্যও।

প্রকল্পের আওতায় শুমারিতে পাওয়া নৌযানগুলোকে পর্যায়ক্রমে অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ অনুযায়ী নিবন্ধন ও জরিপের আওতায় আনার জন্য একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে।

দেশে মোট নৌযানের প্রকৃত সংখ্যা বা ধরন না জানার সমস্যা শুধু প্রশাসনিক নয়, এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নৌ নিরাপত্তা। নিবন্ধন ও জরিপের বাইরে থাকা নৌযানের ইঞ্জিন, কাঠামো, ধারণক্ষমতা কিংবা নিরাপত্তা সরঞ্জামের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য না থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি পরিমাপ বা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

দেশের নৌপরিবহন খাতে এমনিতেই ঐতিহ্যগতভাবে নানা সংকটে জেরবার। নৌপথের নাব্যতা কমে যাওয়া, পর্যাপ্ত ড্রেজিং না হওয়া, নদী দখল, আধুনিক ঘাট ও টার্মিনালের অভাব, মালবাহী নৌযান ও যাত্রীর অধিক বয়স এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের ঘাটতি নৌচলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে রেখেছে। এর সঙ্গে রয়েছে দক্ষ জনবলের ঘাটতি ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনায় ধীরগতি।

নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. ইমরান উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘নৌযান শুমারিতে বিপুলসংখ্যক নৌযান শনাক্ত হওয়া অবশ্যই বড় অর্জন। তবে শুমারি করা আর নিবন্ধন করা এক বিষয় নয়। শুমারির পর এসব নৌযানকে নিয়মিত সার্ভের আওতায় এনে ফিটনেস সনদ ও নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে। ২ লাখ ৭০ হাজার নৌযান যথাযথভাবে সার্ভে ও নিবন্ধনের জন্য বিআইডব্লিউটিএর সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। বর্তমানের সীমিতসংখ্যক সার্ভেয়ার দিয়ে এত বিপুল নৌযান নিয়মিত সার্ভে করা সম্ভব কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ৯০ শতাংশ নৌযানও যদি নিবন্ধনের আওতায় আনা যায়, সেটি বড় সাফল্য হবে। এরপর বাকি নৌযানগুলোকে পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে।’

নৌ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, শুমারি শেষে বিপুলসংখ্যক নৌযানের তথ্য কার্যকর ব্যবস্থাপনার আওতায় নেওয়া সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। শুধু তথ্যভান্ডার তৈরি করে রাখলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। কোন নৌযান নিবন্ধিত, কোনটি অনিবন্ধিত এবং কোনটি আইন বা নিরাপত্তার মানদণ্ড পূরণ করছে না, তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ এবং নৌযানের সংখ্যা ও ধরন অনুযায়ী নৌপথ, ঘাট ও টার্মিনালের পরিকল্পনা করতে হবে।

ভ্যাপসা গরমে বিদ্যুতের চাহিদা এখন তুঙ্গে। তবে চাহিদামাফিক বিদ্যুৎ তো পাওয়াই যাচ্ছে না, বরং বেড়েছে লোডশেডিং। বিদ্যুতের এই ঘাটতির পেছনে এখন বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। একেক সময় একেক কেন্দ্র বন্ধ হয়ে উৎপাদনে বড় ঘাটতি সৃষ্টি করছে।

দেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হলে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে আজ রোববার বঙ্গভবনে সংগঠনটির ১৫ সদস্যের …

বহুপক্ষীয় কোনো জোট বা ফোরামের পরিবর্তে বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ আলোচনার মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে নতুন করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়তে চায়। আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে একটি নতুন

জনপ্রিয় টার্গেট

নৌপরিবহন অধিদপ্তর: প্রথম শুমারিতে মিলল পৌনে ৩ লাখ নৌযান

প্রকাশ: ০১:৫২:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশ্ন, সরকারি হিসাবের বাইরে থাকা এই বিপুলসংখ্যক নৌযান এত দিন কীভাবে প্রকাশ্যে চলেছে? এগুলোর মধ্যে কতগুলো নিরাপত্তার সরকারি মানদণ্ড না মেনে চলাচল করছে? মনে করা হচ্ছে, দেশে নৌযানের ব্যবস্থাপনা, নৌ নিরাপত্তা এবং নৌপথের পরিকল্পনা মূলত হয়েছে অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে।

তথ্যঘাটতি দূর করতে প্রায় আট বছর ঝুলে থাকার পর শুরু হয়েছে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নৌযান শুমারি। গত ২০ থেকে ২৯ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে শুমারি পরিচালনা করা হলেও কার্যক্রম এখনো চলছে। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ নৌযানের সংখ্যাসহ চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর।

‘নৌযানের ডেটাবেইস তৈরি ও নৌযান ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ নামের প্রকল্পটির পরিচালক ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের চিফ নেভাল আর্কিটেক্ট কমান্ডার সাইফুল আহমাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘নৌযান শুমারি এখনো চলমান। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সঙ্গে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সমঝোতা স্মারক হয়েছে। তাদের মাধ্যমে শুমারির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার নৌযান শুমারির আওতায় এসেছে। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ চূড়ান্ত জরিপের তথ্য পাওয়া যাবে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত নৌযান নিবন্ধনের কার্যক্রম চলবে।’

দেশে বৈধ ও অবৈধ নৌযানের প্রকৃত সংখ্যা জানতে ২০১৬ সালে নৌযান শুমারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন না পাওয়ায় এত দিন তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। প্রায় আট বছর ঝুলে থাকার পর ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩ কোটি ৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য দেশের নৌযানের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল তথ্যভান্ডার তৈরি করা। পাশাপাশি নৌযান ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়ানো এবং নৌচলাচলকে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব করার জন্য নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ রয়েছে।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশে নিবন্ধিত অভ্যন্তরীণ নৌযান ছিল ২২ হাজার ৩০০টি। এসব নৌযানের মধ্যে রয়েছে যাত্রীবাহী লঞ্চ ও বোট, মালবাহী, তেলবাহী ও বালুবাহী নৌযান, ড্রেজার, কাটার সাকশন ড্রেজার, টাগবোট, স্পিডবোট, ফেরি, ওয়ার্কবোট, পরিদর্শন বোট, ট্যুরিস্ট লঞ্চ ও বোট, বার্জ, হাউসবোট, ওয়াটার ট্যাক্সি, ফ্লোটিং পাম্প, পন্টুন, ক্রেনবোট, ভাসমান হাসপাতালসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযান।

বর্তমানে চলমান মাঠপর্যায়ের শুমারিতে এ পর্যন্ত ২ লাখ ৭০ হাজার নৌযান পাওয়া গেছে। নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নিবন্ধিত নৌযানের সংখ্যার সঙ্গে এই সংখ্যার বিশাল ব্যবধানই দেখিয়ে দিচ্ছে, দেশের নৌযান ব্যবস্থাপনায় এত দিন পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডারের কতটা অভাব ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোন কোন নৌযান কোন পথে চলাচল করছে, মালিক কে, কী ধরনের ইঞ্জিন ব্যবহৃত হচ্ছে, নৌযানটি কতটা নিরাপদ—এসব তথ্য এক জায়গায় না থাকলে কার্যকর নজরদারি করা কঠিন।

শুমারির চূড়ান্ত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত এর মধ্যে কতগুলো নতুন নৌযান, কতগুলো আগে থেকে চলাচল করলেও নিবন্ধনের বাইরে ছিল এবং কোন শ্রেণির নৌযান কতগুলো, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে না।

শুমারিতে নৌযানের সংখ্যা ছাড়াও এর ধরন, আকার-আকৃতি, মালিক ও চালকের তথ্য, ইঞ্জিন, জ্বালানি ব্যবহার এবং নকশা ও জরিপের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী সব ইঞ্জিনচালিত নৌযান এর আওতায় রয়েছে। এ ছাড়া ডাম্ববার্জ এবং অন্য নৌযান দিয়ে টেনে বা ধাক্কা দিয়ে চালানো অযন্ত্রচালিত নৌযানও শুমারির আওতায় থাকছে। চূড়ান্ত তথ্যভান্ডার তৈরি হলে নৌপরিবহন খাতে এত দিন বিচ্ছিন্নভাবে থাকা নানা তথ্য একই ব্যবস্থার মধ্যে আসবে। যুক্ত হবে হিসাবের মধ্যে আদৌ না থাকা নৌযানের তথ্যও।

প্রকল্পের আওতায় শুমারিতে পাওয়া নৌযানগুলোকে পর্যায়ক্রমে অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ অনুযায়ী নিবন্ধন ও জরিপের আওতায় আনার জন্য একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে।

দেশে মোট নৌযানের প্রকৃত সংখ্যা বা ধরন না জানার সমস্যা শুধু প্রশাসনিক নয়, এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নৌ নিরাপত্তা। নিবন্ধন ও জরিপের বাইরে থাকা নৌযানের ইঞ্জিন, কাঠামো, ধারণক্ষমতা কিংবা নিরাপত্তা সরঞ্জামের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য না থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি পরিমাপ বা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

দেশের নৌপরিবহন খাতে এমনিতেই ঐতিহ্যগতভাবে নানা সংকটে জেরবার। নৌপথের নাব্যতা কমে যাওয়া, পর্যাপ্ত ড্রেজিং না হওয়া, নদী দখল, আধুনিক ঘাট ও টার্মিনালের অভাব, মালবাহী নৌযান ও যাত্রীর অধিক বয়স এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের ঘাটতি নৌচলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে রেখেছে। এর সঙ্গে রয়েছে দক্ষ জনবলের ঘাটতি ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনায় ধীরগতি।

নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. ইমরান উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘নৌযান শুমারিতে বিপুলসংখ্যক নৌযান শনাক্ত হওয়া অবশ্যই বড় অর্জন। তবে শুমারি করা আর নিবন্ধন করা এক বিষয় নয়। শুমারির পর এসব নৌযানকে নিয়মিত সার্ভের আওতায় এনে ফিটনেস সনদ ও নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে। ২ লাখ ৭০ হাজার নৌযান যথাযথভাবে সার্ভে ও নিবন্ধনের জন্য বিআইডব্লিউটিএর সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। বর্তমানের সীমিতসংখ্যক সার্ভেয়ার দিয়ে এত বিপুল নৌযান নিয়মিত সার্ভে করা সম্ভব কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ৯০ শতাংশ নৌযানও যদি নিবন্ধনের আওতায় আনা যায়, সেটি বড় সাফল্য হবে। এরপর বাকি নৌযানগুলোকে পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে।’

নৌ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, শুমারি শেষে বিপুলসংখ্যক নৌযানের তথ্য কার্যকর ব্যবস্থাপনার আওতায় নেওয়া সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। শুধু তথ্যভান্ডার তৈরি করে রাখলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। কোন নৌযান নিবন্ধিত, কোনটি অনিবন্ধিত এবং কোনটি আইন বা নিরাপত্তার মানদণ্ড পূরণ করছে না, তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ এবং নৌযানের সংখ্যা ও ধরন অনুযায়ী নৌপথ, ঘাট ও টার্মিনালের পরিকল্পনা করতে হবে।

ভ্যাপসা গরমে বিদ্যুতের চাহিদা এখন তুঙ্গে। তবে চাহিদামাফিক বিদ্যুৎ তো পাওয়াই যাচ্ছে না, বরং বেড়েছে লোডশেডিং। বিদ্যুতের এই ঘাটতির পেছনে এখন বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। একেক সময় একেক কেন্দ্র বন্ধ হয়ে উৎপাদনে বড় ঘাটতি সৃষ্টি করছে।

দেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হলে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে আজ রোববার বঙ্গভবনে সংগঠনটির ১৫ সদস্যের …

বহুপক্ষীয় কোনো জোট বা ফোরামের পরিবর্তে বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ আলোচনার মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে নতুন করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়তে চায়। আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে একটি নতুন