হৃদয়ের ইনিংস নিয়ে ফিল সিমন্স বলেন, দলের পক্ষ থেকে সবসময় খেলোয়াড়দের বলা হয়, 'সুযোগ পেলে সেটিকে কাজে লাগাতে হবে। ক্রিজে থাকা অবস্থায় নিজের দায়িত্ব নিতে হবে এবং দলের প্রয়োজনে যা করা দরকার, সেটিই করতে হবে। হৃদয় ঠিক সেই কাজটিই করেছে। আমরা তার কাছে যা চেয়েছিলাম, সে তার সবকিছুই করেছে।'
হৃদয়ের ইনিংসের প্রশংসা করতে গিয়ে কোচ আরও বলেন, 'এটি ছিল অবিশ্বাস্য একটি ইনিংস। প্রতিপক্ষ যখন বাউন্ডারিতে ফিল্ডার সাজিয়ে রেখেছিল, তখনো সে বাউন্ডারি বের করে নিতে পেরেছে, হাঁকিয়েছে ছক্কাও। এমনকি ডাবল সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ার পরও নিজের ব্যাটিং ধরে রেখেছে। সব দিক বিবেচনায় এটি ছিল তার অসাধারণ একটি প্রচেষ্টা।'
হৃদয়ের এমন ঘুরে দাঁড়ানোর রহস্য কী? সংবাদ সম্মেলনে কোচের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল সেটিই।
জবাবে ফিল সিমন্স বলেন, এই প্রশ্নের উত্তর হৃদয়ই সবচেয়ে ভালো দিতে পারবে। তবে তাঁর মতে, মিরপুরে কয়েকটি বেপরোয়া শট খেললেও সেটি ছিল হৃদয়ের ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ। তাই একটি ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে তাঁকে বিচার করা ঠিক হবে না। বরং হৃদয় দ্রুত পরিণত হচ্ছে, আর এই ইনিংসেই তার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রথম টেস্টের পর হৃদয়ের সঙ্গে আলাদাভাবে কোনো আলোচনা হয়েছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিমন্স জানান, ব্যক্তিগতভাবে হৃদয়ের সঙ্গে বিশেষ কোনো কথা হয়নি। বরং দলের সব ব্যাটারের সঙ্গেই বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তৈরি হওয়া চাপ এবং সেখান থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসতে হবে, তা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন তাঁরা।
এদিকে শেষ দুই ব্যাটার তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে হৃদয় যোগ করেন ২০২ রান। এক প্রান্ত আগলে রেখে অন্য প্রান্তে দুই ব্যাটারকে সুযোগ করে দিয়েছেন। পাশাপাশি নিজের ব্যাটিংয়েও রেখেছেন চার-ছক্কার ঝলক।
তাওহীদ হৃদয়ের ২৪২ রানের ইনিংস শুধু বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসেই নতুন অধ্যায় যোগ করেনি, বরং সমালোচনা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে কীভাবে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হয়, সেটিও দেখিয়ে দিয়েছেন এই তরুণ ব্যাটার।

দৈনিক টার্গেট 



























