অভিযোগকারীদের একজন মাসুদ মৃধার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী কমিশনে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে রিসিভ কপি সংগ্রহ করেন। অন্য অভিযোগটি দায়ের করেন নাদিম মাহমুদ। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছেও অভিযোগগুলো জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, জেবা আমিনা খান বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্বও ধারণ করেছেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংবিধানের বিধান অনুসারে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে কেউ সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারেন। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এছাড়া তার নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজধানীর গুলশান এলাকায় তার নামে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে, যার সবগুলোর তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি কিছু ফ্ল্যাটের বিপরীতে দীর্ঘদিনের কর বকেয়ার কথাও অভিযোগে তুলে ধরা হয়েছে।

খুলনায় প্রেসক্লাবে হামলা, বিক্ষোভ
অভিযোগে আরও বলা হয়, যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবেও তার নাম রয়েছে, যদিও প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বিলুপ্ত। তার ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা ও বসবাসের বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলার উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে পারিবারিক বিরোধ, সন্তানের অভিভাবকত্ব, জালিয়াতি, বহুবিবাহ এবং হামলার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব মামলার চূড়ান্ত অবস্থা বা রায়ের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়নি।
অভিযোগকারীরা নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে অভিযোগকারী পক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে তারা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
জেবা আমিনা খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে দলের এক নেতা দাবি করেছেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার মতে, ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, ফলে এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বপূর্ণ পাওয়ার কথা নয়।
উল্লেখ্য, জেবা আমিনা খান এর আগেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন এবং দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
দৈনিক টার্গেট 
























