পি আর পদ্ধতি ও জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে কয়রায় জামায়াতে ইসলামী শাখার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মিছিল ও সমাবেশ

কয়রায় জামায়াতের মিছিল-সমাবেশ

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৯:৪৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৮৪ বার পঠিত হয়েছে

পি আর (Proportional Representation) পদ্ধতি ও জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কয়রা উপজেলা শাখার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের সামনে থেকে একটি মিছিল বের হয়ে উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে তিন রাস্তার মোড়ে সমাবেশে মিলিত হয় কর্মসূচিটি।

সভাপতিত্ব ও প্রধান অতিথি

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী কয়রা উপজেলা আমির মাওলানা মিজানুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য, খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক এবং খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- জামায়াতে ইসলামী খুলনা জেলা শাখার নায়েবে আমির গোলাম সারোয়ার, খুলনা জেলা সেক্রেটারি এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের খুলনা দক্ষিণ জেলা সভাপতি আবুজার গিফারী, কয়রা উপজেলা নায়েবে আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা শেখ সাইফুল্লাহ প্রমুখ।

পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচনব্যবস্থা বর্তমানে গভীর সংকটে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হলে অবিলম্বে পি আর পদ্ধতি প্রবর্তন করতে হবে। তাঁরা জানান, পি আর সংস্কারসহ পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বক্তাদের দাবির মূল দিকগুলো হলো-

১. জুলাই সনদের ভিত্তিতে একটি সর্বজনগ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজন,

২. পি আর পদ্ধতির সংস্কার ও কার্যকর বাস্তবায়ন,

৩. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা,

৪. প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ,

৫. জনগণের মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

অবাধ নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা

বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশে যে ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে তা জনগণের আস্থা হারিয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া দেশে স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক শান্তি আসবে না। তাঁরা আরও বলেন, ক্ষমতাসীনদের প্রভাবমুক্ত না করে, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত না করে নির্বাচন করানো হলে তা জনগণ মেনে নেবে না।

আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

সমাবেশে বক্তারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দাবি আদায় না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। জনগণের গণআন্দোলনের মধ্য দিয়েই পরিবর্তন ঘটবে। তাঁরা ঘোষণা দেন, “পি আর পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। সংস্কারসহ পাঁচ দফা দাবির বাইরে কোনো নির্বাচন জনগণ গ্রহণ করবে না।”

স্থানীয় জনসাধারণের অংশগ্রহণ

মিছিল ও সমাবেশে কয়রার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। সমাবেশে স্লোগানে মুখরিত ছিল পুরো উপজেলা সদর।

সমাবেশের তাৎপর্য

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কয়রায় জামায়াতের এই সমাবেশ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিয়েছে। নির্বাচনের আগে পাঁচ দফা দাবি ঘিরে এ কর্মসূচি ভবিষ্যতের রাজপথের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও বক্তাদের বক্তব্যে ছিল কঠোর হুঁশিয়ারি। তাঁদের মতে, দাবি পূরণ না হলে মাঠে নামতে জনগণ প্রস্তুত, আর এই আন্দোলন হবে আরও ব্যাপক ও সর্বজনীন।

পি আর পদ্ধতি ও জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে কয়রায় জামায়াতে ইসলামী শাখার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মিছিল ও সমাবেশ

কয়রায় জামায়াতের মিছিল-সমাবেশ

প্রকাশ: ০৯:৪৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

পি আর (Proportional Representation) পদ্ধতি ও জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কয়রা উপজেলা শাখার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের সামনে থেকে একটি মিছিল বের হয়ে উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে তিন রাস্তার মোড়ে সমাবেশে মিলিত হয় কর্মসূচিটি।

সভাপতিত্ব ও প্রধান অতিথি

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী কয়রা উপজেলা আমির মাওলানা মিজানুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য, খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক এবং খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- জামায়াতে ইসলামী খুলনা জেলা শাখার নায়েবে আমির গোলাম সারোয়ার, খুলনা জেলা সেক্রেটারি এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের খুলনা দক্ষিণ জেলা সভাপতি আবুজার গিফারী, কয়রা উপজেলা নায়েবে আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা শেখ সাইফুল্লাহ প্রমুখ।

পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচনব্যবস্থা বর্তমানে গভীর সংকটে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হলে অবিলম্বে পি আর পদ্ধতি প্রবর্তন করতে হবে। তাঁরা জানান, পি আর সংস্কারসহ পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বক্তাদের দাবির মূল দিকগুলো হলো-

১. জুলাই সনদের ভিত্তিতে একটি সর্বজনগ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজন,

২. পি আর পদ্ধতির সংস্কার ও কার্যকর বাস্তবায়ন,

৩. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা,

৪. প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ,

৫. জনগণের মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

অবাধ নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা

বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশে যে ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে তা জনগণের আস্থা হারিয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া দেশে স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক শান্তি আসবে না। তাঁরা আরও বলেন, ক্ষমতাসীনদের প্রভাবমুক্ত না করে, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত না করে নির্বাচন করানো হলে তা জনগণ মেনে নেবে না।

আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

সমাবেশে বক্তারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দাবি আদায় না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। জনগণের গণআন্দোলনের মধ্য দিয়েই পরিবর্তন ঘটবে। তাঁরা ঘোষণা দেন, “পি আর পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। সংস্কারসহ পাঁচ দফা দাবির বাইরে কোনো নির্বাচন জনগণ গ্রহণ করবে না।”

স্থানীয় জনসাধারণের অংশগ্রহণ

মিছিল ও সমাবেশে কয়রার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। সমাবেশে স্লোগানে মুখরিত ছিল পুরো উপজেলা সদর।

সমাবেশের তাৎপর্য

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কয়রায় জামায়াতের এই সমাবেশ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিয়েছে। নির্বাচনের আগে পাঁচ দফা দাবি ঘিরে এ কর্মসূচি ভবিষ্যতের রাজপথের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও বক্তাদের বক্তব্যে ছিল কঠোর হুঁশিয়ারি। তাঁদের মতে, দাবি পূরণ না হলে মাঠে নামতে জনগণ প্রস্তুত, আর এই আন্দোলন হবে আরও ব্যাপক ও সর্বজনীন।