জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে রাজনৈতিক মতবিরোধ নতুন করে সামনে এসেছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইতিহাস ও সাম্প্রতিক ঘটনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে কোনো ধরনের সমঝোতার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে বিতর্ক চলছে, তা সহজে শেষ হওয়ার নয়। বিশেষ করে একাত্তরের গণহত্যা নিয়ে পরিষ্কার ও গ্রহণযোগ্য অবস্থান না আসা পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মতপার্থক্য অব্যাহত থাকবে। একইভাবে সাম্প্রতিক জুলাইয়ের ঘটনাবলী নিয়েও আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
মন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এই বিতর্ককে গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই রাখতে চায়। সংসদ, সংবিধান এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ভেতরেই এসব মতবিরোধ সমাধানের চেষ্টা চলবে, এবং এই সীমার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
বুধবার সকাল ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। দিনভর আলোচনার পর সন্ধ্যার বিরতির পর বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি বিরোধী দলের নেতৃত্ব নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, বিরোধী দলের একজন শীর্ষ নেতা প্রচলিত ছাত্ররাজনীতির ধারার বাইরে থেকে নিজস্ব চিন্তাধারায় রাজনীতিতে উঠে এসেছেন।
বর্তমান সংসদকে ‘ব্যতিক্রমধর্মী’ আখ্যা দিয়ে স্বপন বলেন, আগের সংসদগুলোর তুলনায় এবার রাজনৈতিক চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। আগে যেখানে দুই দলের প্রাধান্য ছিল, এখন সেখানে নানা দলের উপস্থিতি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অতীতে দলটির ভোটের হার সীমিত থাকলেও এবার তা পরিবর্তিত হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই পরিবর্তনের পেছনের কারণ বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
সরকারের সামনে থাকা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়েও কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের ওপর বিশাল ঋণের চাপ ছিল। তবে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কাজ চলছে এবং শিগগিরই বড় আকারের বাজেট উপস্থাপন করা হবে।
বিদ্যুৎ খাতের সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এই খাতে চাপ তৈরি হয়েছে। তবুও সংসদে এ বিষয়ে একটি সমন্বিত অবস্থান দেখা যাচ্ছে, যা ইতিবাচক বলে মনে করেন তিনি।
অর্থনীতির কিছু সূচকে উন্নতির ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী জানান, শেয়ারবাজার ও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তিনি বিরোধী দলগুলোকেও গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
রাজনীতিতে আদর্শগত সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, যখন ধর্ম বা স্বাধীনতার চেতনা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়, তখন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
শেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীতের বিতর্কিত ঘটনাগুলো অস্বীকার করলে কোনো দলই নিজেদের দায় এড়াতে পারবে না। ইতিহাসের প্রশ্নে সৎ অবস্থান নেওয়াই ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য জরুরি।
দৈনিক টার্গেট 


















