কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান দেশের স্বাধীনতা ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বিদেশি শক্তির সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি করা উচিত নয় যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে দাবি করেন, ১৭৫৭ সালের পলাশীর প্রেক্ষাপটে হওয়া রাজনৈতিক সমঝোতার মতো বর্তমান সময়ের কিছু আন্তর্জাতিক চুক্তিও দেশের ভবিষ্যতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সম্প্রতি ইউটিউবভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘মানচিত্র’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বলেন, জাতির স্বার্থ ও স্বাধীনতা রক্ষায় যেকোনো বিতর্কিত চুক্তি নিয়ে জনগণকে সচেতন হতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে দেশকে বড় ধরনের মূল্য দিতে হতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের উচিত জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং এমন কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া যা জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
আলোচনায় তিনি দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অতীতে ক্ষমতাসীনদের যেসব ভুল সিদ্ধান্ত ও অন্যায়ের সমালোচনা হয়েছে, ভবিষ্যতে অন্য কোনো দল একই পথ অনুসরণ করলে জনগণের প্রতিক্রিয়াও একই হবে। তার মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি শক্তিশালী করা।
একই সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গেও কথা বলেন এই সংসদ সদস্য। তিনি মনে করেন, অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিকে ব্যাহত করতে পারে। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি বলেন, দেশের ইতিহাস ও স্বাধীনতার চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো অবস্থান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
ফজলুর রহমান আরও বলেন, দেশের রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে কিছু গোষ্ঠী জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে থাকে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের রাজনীতি দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, জাতীয় ঐক্য, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং স্বাধীনতার আদর্শকে সামনে রেখেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি পরিচালিত হওয়া উচিত।
দৈনিক টার্গেট 

























