শাহবাগের পুরনো চিন্তাধারা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা একটি পরাজিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত মাত্র

শাহবাগ মানে আওয়ামী সংস্কৃতির প্রত্যাবর্তন: মাহমুদা মিতু

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১১:১১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ আগস্ট ২০২৫
  • ১৬৪ বার পঠিত হয়েছে

মাহমুদা মিতু

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু মঙ্গলবার রাতে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মন্তব্য করেন, “শাহবাগ আন্দোলনের ন্যারেটিভকে আবার সামনে আনার চেষ্টা মানে আওয়ামী লীগের পুরনো কালচারকে পুনরায় সক্রিয় করা।”

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, শাহবাগের রাজনৈতিক বয়ান এমন একটি বিষয়, যেটি এখন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ, এমনকি একটি শিশু পর্যন্ত ঘৃণা করে। তাঁর মতে, এই ‘ঘৃণিত ন্যারেটিভ’ কে ফিরিয়ে আনার অর্থ হচ্ছে ইতিহাসকে বিকৃত করে একটি চেতনা ব্যবসার মাধ্যমে দমন-পীড়নের মঞ্চ তৈরি করা।

স্ট্যাটাসে আরো উল্লেখ করেন, “চেতনার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ধানমন্ডি ৩২ নামক স্থানটিকে জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। যেভাবে পুরনো চেতনার মন্দির ভেঙে পড়েছে, ঠিক সেভাবেই নতুন করে গড়ে ওঠা চেতনাব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।”

মাহমুদা মিতুর বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত একটি বিশেষ ন্যারেটিভে নির্ভরশীল যা তিনি ‘রাজাকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে চেতনার দখলদারিত্ব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর মতে, এই ন্যারেটিভ ধারণ করে থাকা ছোট-বড় যেকোনো গোষ্ঠী এবং দলীয় সংস্কৃতি চর্চাকারী গ্রুপকে কঠোরভাবে দমন করা সময়ের দাবি।

নিজের রাজনৈতিক বোধ ও চিন্তার সূত্রপাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শাহবাগের আওয়ামী ঘরানার চিন্তা থেকে ঘৃণা করতে করতেই রাজনীতির বুঝ এসেছে। শেখ হাসিনার রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করতে করতে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছি। সেই সময়কার এন্টি-ইসলামিস্ট আচরণগুলো আমার বিবেককে নাড়া দিয়েছিল।”

তিনি আরো বলেন, ইসলামী বিশ্বাসে বিশ্বাসী হয়েও যখন তিনি জিন্স প্যান্ট পরে ঘুরতেন, তখনকার শাহবাগ-ঘটিত প্রেক্ষাপট তাঁর বিবেককে আন্দোলিত করেছিল। তাই নিছক পরিচয়ের বাইরে, সম্পূর্ণ বিবেকের তাগিদেই তিনি শাহবাগের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানান।

২৪ শে ফেব্রুয়ারি সংঘটিত ঘটনাগুলোর প্রভাব তাঁর মানসিক জগতে আজও দাগ কেটে রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, “সেই দিনটি আমার কাছে ট্রমার মতো। শহীদ হওয়ার দৃশ্য, অত্যাচারের ভিডিও, রক্তে লেপটে থাকা ছবিগুলো এখনও চোখে ভাসে। বিশ্বজিতের হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য ভুলে থাকা সম্ভব নয়।”

ডা. মাহমুদা মিতুর বক্তব্য অনুযায়ী, “গত ১৭ বছরের আওয়ামী শাসনের মধ্যে আমার ফেসবুক লাইফ ১৪ বছরের। এই সময়ে বহুবার আমাকে রাজাকার বলে গালমন্দ করা হয়েছে। কিন্তু শহীদদের রক্ত আর নিপীড়িতদের কান্না কোনোভাবেই মুছে ফেলা যাবে না।”

তিনি আরো যোগ করেন, “আমরা সকলে ৭১’কে ধারণ করি, তবে সেই ইতিহাসকে পুঁজি করে নতুন করে দমন-পীড়নের দিন ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না।”

শাহবাগের পুরনো চিন্তাধারা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা একটি পরাজিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত মাত্র

শাহবাগ মানে আওয়ামী সংস্কৃতির প্রত্যাবর্তন: মাহমুদা মিতু

প্রকাশ: ১১:১১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ আগস্ট ২০২৫

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু মঙ্গলবার রাতে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মন্তব্য করেন, “শাহবাগ আন্দোলনের ন্যারেটিভকে আবার সামনে আনার চেষ্টা মানে আওয়ামী লীগের পুরনো কালচারকে পুনরায় সক্রিয় করা।”

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, শাহবাগের রাজনৈতিক বয়ান এমন একটি বিষয়, যেটি এখন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ, এমনকি একটি শিশু পর্যন্ত ঘৃণা করে। তাঁর মতে, এই ‘ঘৃণিত ন্যারেটিভ’ কে ফিরিয়ে আনার অর্থ হচ্ছে ইতিহাসকে বিকৃত করে একটি চেতনা ব্যবসার মাধ্যমে দমন-পীড়নের মঞ্চ তৈরি করা।

স্ট্যাটাসে আরো উল্লেখ করেন, “চেতনার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ধানমন্ডি ৩২ নামক স্থানটিকে জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। যেভাবে পুরনো চেতনার মন্দির ভেঙে পড়েছে, ঠিক সেভাবেই নতুন করে গড়ে ওঠা চেতনাব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।”

মাহমুদা মিতুর বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত একটি বিশেষ ন্যারেটিভে নির্ভরশীল যা তিনি ‘রাজাকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে চেতনার দখলদারিত্ব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর মতে, এই ন্যারেটিভ ধারণ করে থাকা ছোট-বড় যেকোনো গোষ্ঠী এবং দলীয় সংস্কৃতি চর্চাকারী গ্রুপকে কঠোরভাবে দমন করা সময়ের দাবি।

নিজের রাজনৈতিক বোধ ও চিন্তার সূত্রপাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শাহবাগের আওয়ামী ঘরানার চিন্তা থেকে ঘৃণা করতে করতেই রাজনীতির বুঝ এসেছে। শেখ হাসিনার রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করতে করতে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছি। সেই সময়কার এন্টি-ইসলামিস্ট আচরণগুলো আমার বিবেককে নাড়া দিয়েছিল।”

তিনি আরো বলেন, ইসলামী বিশ্বাসে বিশ্বাসী হয়েও যখন তিনি জিন্স প্যান্ট পরে ঘুরতেন, তখনকার শাহবাগ-ঘটিত প্রেক্ষাপট তাঁর বিবেককে আন্দোলিত করেছিল। তাই নিছক পরিচয়ের বাইরে, সম্পূর্ণ বিবেকের তাগিদেই তিনি শাহবাগের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানান।

২৪ শে ফেব্রুয়ারি সংঘটিত ঘটনাগুলোর প্রভাব তাঁর মানসিক জগতে আজও দাগ কেটে রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, “সেই দিনটি আমার কাছে ট্রমার মতো। শহীদ হওয়ার দৃশ্য, অত্যাচারের ভিডিও, রক্তে লেপটে থাকা ছবিগুলো এখনও চোখে ভাসে। বিশ্বজিতের হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য ভুলে থাকা সম্ভব নয়।”

ডা. মাহমুদা মিতুর বক্তব্য অনুযায়ী, “গত ১৭ বছরের আওয়ামী শাসনের মধ্যে আমার ফেসবুক লাইফ ১৪ বছরের। এই সময়ে বহুবার আমাকে রাজাকার বলে গালমন্দ করা হয়েছে। কিন্তু শহীদদের রক্ত আর নিপীড়িতদের কান্না কোনোভাবেই মুছে ফেলা যাবে না।”

তিনি আরো যোগ করেন, “আমরা সকলে ৭১’কে ধারণ করি, তবে সেই ইতিহাসকে পুঁজি করে নতুন করে দমন-পীড়নের দিন ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না।”