ক্রিয়েটরদের জন্য নতুন এআই অ্যাপ আনল ফেসবুক

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১০:২৬:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
  • ৮ বার পঠিত হয়েছে

কনটেন্ট নির্মাতাদের কাজ আরও সহজ করতে নতুন একটি স্বতন্ত্র অ্যাপ উন্মোচন করেছে ফেসবুক। ‘ক্রিয়েটর স্টুডিও’ নামের এই অ্যাপের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। ভিডিও ও পোস্টের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ, দর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ভবিষ্যৎ কনটেন্ট পরিকল্পনায় ক্রিয়েটরদের সহায়তা করাই এর প্রধান লক্ষ্য।

প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পর অ্যাপটি এখন আইওএস ব্যবহারকারীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। তবে আপাতত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নির্বাচিত ক্রিয়েটররা এর সুবিধা পাচ্ছেন।

এআই হবে ক্রিয়েটরের সহকারী

নতুন অ্যাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো ‘এআই ক্রিয়েটর অ্যাসিস্ট্যান্ট’। একজন ক্রিয়েটর কী ধরনের কনটেন্ট তৈরি করেন, তার লক্ষ্য কী এবং দর্শকরা কোন ধরনের বিষয় বেশি পছন্দ করেন এসব তথ্য বিবেচনায় নিয়ে এআই বিভিন্ন পরামর্শ দিতে পারবে।

আগে একটি পেজের কার্যক্রম বুঝতে ক্রিয়েটরদের নানা ধরনের পরিসংখ্যান, চার্ট ও রিপোর্ট বিশ্লেষণ করতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় সেই প্রক্রিয়াটি অনেকটা সহজ করার চেষ্টা করেছে ফেসবুক।

ক্রিয়েটর সরাসরি এআইকে প্রশ্ন করে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন। উদাহরণ হিসেবে, কোন সময়ে পোস্ট করলে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে কিংবা সাম্প্রতিক পোস্টের কমেন্টে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া কেমন এসব প্রশ্নের উত্তর দ্রুত পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

কমেন্টের উত্তর তৈরিতেও এআই

অ্যাপটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো এআইভিত্তিক কমেন্ট ব্যবস্থাপনা। একটি পোস্টের গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যগুলো শনাক্ত করার পাশাপাশি ক্রিয়েটরের সাধারণ যোগাযোগের ধরন অনুসরণ করে সম্ভাব্য উত্তরের খসড়াও তৈরি করতে পারবে সিস্টেমটি।

তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকবে ক্রিয়েটরের হাতে। এআইয়ের তৈরি উত্তর প্রকাশের আগে সেটি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করে নেওয়া যাবে।

ফলে একই সময়ে বিপুলসংখ্যক মন্তব্য এলে কোনগুলোতে আগে নজর দেওয়া প্রয়োজন, সেটিও বুঝতে তুলনামূলক কম সময় লাগবে।

প্রতিদিনের কাজের তালিকাও থাকবে

ক্রিয়েটরদের দৈনন্দিন কাজ গোছানোর জন্য অ্যাপটিতে একটি টাস্কভিত্তিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অ্যাপ খোলার পর দিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

সেখানে সাম্প্রতিক পোস্টের অবস্থা, নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে অগ্রগতির মাত্রা এবং যেসব মন্তব্যের জবাব দেওয়া প্রয়োজন এ ধরনের তথ্য এক জায়গায় দেখানোর ব্যবস্থা থাকবে।

এর ফলে আলাদা আলাদা রিপোর্ট বা ড্যাশবোর্ড ঘেঁটে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করার ঝামেলা কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে ফেসবুক।

ইউটিউব-টিকটকের সঙ্গে প্রতিযোগিতার কৌশল

ক্রিয়েটরদের জন্য আলাদা অ্যাপ চালুর সিদ্ধান্তকে ফেসবুকের বৃহত্তর কনটেন্ট কৌশলের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ভিডিও নির্মাতাদের জন্য ইউটিউব ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে।

এই প্রতিযোগিতায় ফেসবুকে ক্রিয়েটরদের আরও সক্রিয় রাখা এবং তাদের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় টুল একই প্ল্যাটফর্মে দেওয়ার চেষ্টা করছে মেটা। বিশেষ করে কনটেন্ট আইডিয়া, দর্শক বিশ্লেষণ ও পারফরম্যান্স পর্যালোচনার মতো কাজে বাইরের এআই সেবার ওপর নির্ভরতা কমানোও এর অন্যতম উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন অ্যাপেই থেমে নেই মেটা

ক্রিয়েটরদের জন্য ‘ক্রিয়েটর স্টুডিও’ আনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ব্যবহারকারীর জন্য আলাদা অ্যাপ তৈরির দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে মেটা। ফেসবুক গ্রুপকেন্দ্রিক আলোচনার জন্য ‘ফোরাম’, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি ভাগাভাগির জন্য ‘ইনস্ট্যান্টস’, গেমিংয়ের জন্য ‘পকেট’ এবং শিশুদের এআই-নির্ভর গল্প তৈরির জন্য ‘স্টোরিকিট’ এ ধরনের নতুন সেবাও সামনে এনেছে প্রতিষ্ঠানটি।

সব মিলিয়ে, নতুন ক্রিয়েটর অ্যাপটি ফেসবুকের কনটেন্ট নির্মাতাদের কাজের পদ্ধতিতে এআইকে আরও সরাসরি যুক্ত করার একটি বড় পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে অ্যাপটির ব্যবহার আরও বেশি দেশে সম্প্রসারিত হলে ফেসবুকের ক্রিয়েটর ইকোসিস্টেমে এর প্রভাব কতটা পড়ে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ক্রিয়েটরদের জন্য নতুন এআই অ্যাপ আনল ফেসবুক

প্রকাশ: ১০:২৬:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

কনটেন্ট নির্মাতাদের কাজ আরও সহজ করতে নতুন একটি স্বতন্ত্র অ্যাপ উন্মোচন করেছে ফেসবুক। ‘ক্রিয়েটর স্টুডিও’ নামের এই অ্যাপের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। ভিডিও ও পোস্টের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ, দর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ভবিষ্যৎ কনটেন্ট পরিকল্পনায় ক্রিয়েটরদের সহায়তা করাই এর প্রধান লক্ষ্য।

প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পর অ্যাপটি এখন আইওএস ব্যবহারকারীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। তবে আপাতত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নির্বাচিত ক্রিয়েটররা এর সুবিধা পাচ্ছেন।

এআই হবে ক্রিয়েটরের সহকারী

নতুন অ্যাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো ‘এআই ক্রিয়েটর অ্যাসিস্ট্যান্ট’। একজন ক্রিয়েটর কী ধরনের কনটেন্ট তৈরি করেন, তার লক্ষ্য কী এবং দর্শকরা কোন ধরনের বিষয় বেশি পছন্দ করেন এসব তথ্য বিবেচনায় নিয়ে এআই বিভিন্ন পরামর্শ দিতে পারবে।

আগে একটি পেজের কার্যক্রম বুঝতে ক্রিয়েটরদের নানা ধরনের পরিসংখ্যান, চার্ট ও রিপোর্ট বিশ্লেষণ করতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় সেই প্রক্রিয়াটি অনেকটা সহজ করার চেষ্টা করেছে ফেসবুক।

ক্রিয়েটর সরাসরি এআইকে প্রশ্ন করে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন। উদাহরণ হিসেবে, কোন সময়ে পোস্ট করলে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে কিংবা সাম্প্রতিক পোস্টের কমেন্টে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া কেমন এসব প্রশ্নের উত্তর দ্রুত পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

কমেন্টের উত্তর তৈরিতেও এআই

অ্যাপটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো এআইভিত্তিক কমেন্ট ব্যবস্থাপনা। একটি পোস্টের গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যগুলো শনাক্ত করার পাশাপাশি ক্রিয়েটরের সাধারণ যোগাযোগের ধরন অনুসরণ করে সম্ভাব্য উত্তরের খসড়াও তৈরি করতে পারবে সিস্টেমটি।

তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকবে ক্রিয়েটরের হাতে। এআইয়ের তৈরি উত্তর প্রকাশের আগে সেটি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করে নেওয়া যাবে।

ফলে একই সময়ে বিপুলসংখ্যক মন্তব্য এলে কোনগুলোতে আগে নজর দেওয়া প্রয়োজন, সেটিও বুঝতে তুলনামূলক কম সময় লাগবে।

প্রতিদিনের কাজের তালিকাও থাকবে

ক্রিয়েটরদের দৈনন্দিন কাজ গোছানোর জন্য অ্যাপটিতে একটি টাস্কভিত্তিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অ্যাপ খোলার পর দিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

সেখানে সাম্প্রতিক পোস্টের অবস্থা, নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে অগ্রগতির মাত্রা এবং যেসব মন্তব্যের জবাব দেওয়া প্রয়োজন এ ধরনের তথ্য এক জায়গায় দেখানোর ব্যবস্থা থাকবে।

এর ফলে আলাদা আলাদা রিপোর্ট বা ড্যাশবোর্ড ঘেঁটে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করার ঝামেলা কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে ফেসবুক।

ইউটিউব-টিকটকের সঙ্গে প্রতিযোগিতার কৌশল

ক্রিয়েটরদের জন্য আলাদা অ্যাপ চালুর সিদ্ধান্তকে ফেসবুকের বৃহত্তর কনটেন্ট কৌশলের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ভিডিও নির্মাতাদের জন্য ইউটিউব ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে।

এই প্রতিযোগিতায় ফেসবুকে ক্রিয়েটরদের আরও সক্রিয় রাখা এবং তাদের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় টুল একই প্ল্যাটফর্মে দেওয়ার চেষ্টা করছে মেটা। বিশেষ করে কনটেন্ট আইডিয়া, দর্শক বিশ্লেষণ ও পারফরম্যান্স পর্যালোচনার মতো কাজে বাইরের এআই সেবার ওপর নির্ভরতা কমানোও এর অন্যতম উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন অ্যাপেই থেমে নেই মেটা

ক্রিয়েটরদের জন্য ‘ক্রিয়েটর স্টুডিও’ আনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ব্যবহারকারীর জন্য আলাদা অ্যাপ তৈরির দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে মেটা। ফেসবুক গ্রুপকেন্দ্রিক আলোচনার জন্য ‘ফোরাম’, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি ভাগাভাগির জন্য ‘ইনস্ট্যান্টস’, গেমিংয়ের জন্য ‘পকেট’ এবং শিশুদের এআই-নির্ভর গল্প তৈরির জন্য ‘স্টোরিকিট’ এ ধরনের নতুন সেবাও সামনে এনেছে প্রতিষ্ঠানটি।

সব মিলিয়ে, নতুন ক্রিয়েটর অ্যাপটি ফেসবুকের কনটেন্ট নির্মাতাদের কাজের পদ্ধতিতে এআইকে আরও সরাসরি যুক্ত করার একটি বড় পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে অ্যাপটির ব্যবহার আরও বেশি দেশে সম্প্রসারিত হলে ফেসবুকের ক্রিয়েটর ইকোসিস্টেমে এর প্রভাব কতটা পড়ে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।