বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক শুক্রবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই বড় ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে পড়ে। এর ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কোটি কোটি ব্যবহারকারী প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের এই বিঘ্নতার পর রাতের দিকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে সেবাটি।
ব্যবহারকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার পর থেকেই ফেসবুকের অ্যাপ ও ওয়েব সংস্করণে নানা ধরনের ত্রুটি দেখা দিতে শুরু করে। অনেকেই নিউজফিড দেখতে পারেননি, কেউ পোস্ট করতে ব্যর্থ হয়েছেন, আবার অনেকে মেসেজিং ও অন্যান্য ফিচার ব্যবহারে সমস্যার সম্মুখীন হন।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন যেসব ব্যবহারকারী আগে থেকেই অ্যাকাউন্টে লগইন ছিলেন। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে তাদের অনেকের অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগআউট হয়ে যায়। পুনরায় লগইন করার চেষ্টাও অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়, যা ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে।
বিভ্রাট চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যবহারকারীরা একই ধরনের সমস্যার কথা জানান। এতে স্পষ্ট হয় যে, সমস্যাটি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের নয়; বরং এটি ছিল বৈশ্বিক পরিসরের একটি প্রযুক্তিগত বিপর্যয়।
পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যেতে শুরু করে রাত ৮টা ২০ মিনিটের পর। এ সময় থেকে বাংলাদেশে অধিকাংশ ব্যবহারকারী আবার স্বাভাবিকভাবে ফেসবুক ব্যবহার করতে সক্ষম হন। ধীরে ধীরে লগইন, পোস্ট প্রকাশ, নিউজফিড ব্রাউজিংসহ অন্যান্য সেবাও স্বাভাবিক হয়ে আসে।
তবে এই আকস্মিক বিভ্রাটের পেছনে কী কারণ ছিল, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা, সার্ভার বা নেটওয়ার্ক অবকাঠামোগত কোনো সমস্যার কারণে এই সাময়িক অচলাবস্থা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। যদিও প্রকৃত কারণ জানতে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষ দৈনন্দিন যোগাযোগ, ব্যবসা ও তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এমন আকস্মিক সেবা বিঘ্নতা ব্যবহারকারীদের মধ্যে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে এবং ডিজিটাল নির্ভরতার বিষয়টিও নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।
দৈনিক টার্গেট 






















