শহীদ নাইমার বাড়িতে মিতু, উঠল বিচার ও সংস্কারের প্রশ্ন

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১১:৩৪:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • ৭৭ বার পঠিত হয়েছে

জুলাইয়ের রক্তাক্ত স্মৃতি এখনো অনেক পরিবারের জীবনে গভীর ক্ষত হয়ে রয়ে গেছে। সেইসব শোকাহত পরিবারের একটি হলো শহীদ নাইমার পরিবার। সম্প্রতি সেখানে গিয়ে আবেগাপ্লুত অভিজ্ঞতা ও রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে নিজের উপলব্ধির কথা তুলে ধরেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা ডা. মাহমুদা আলম মিতু।

শপথ গ্রহণের পর প্রথম কাজ হিসেবেই তিনি নাইমার বাসায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে গিয়ে তিনি এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হন, যা তার দায়িত্ববোধকে আরও গভীর করে তোলে। নাইমার মা তাকে সাদরে গ্রহণ করলেও, সেই আনন্দের আড়ালে ছিল এক অমোচনীয় বেদনা।

ডা. মিতু জানান, নাইমা তার নিজের সন্তানের কাছাকাছি বয়সী হওয়ায় বিষয়টি তাকে ব্যক্তিগতভাবেও নাড়া দেয়। একটি স্বাভাবিক দিনের মধ্যে, রান্নার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বারান্দায় দাঁড়ানো একটি শিশুর জীবন যে এভাবে শেষ হয়ে যেতে পারে এই নির্মমতা তাকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে।

তিনি উল্লেখ করেন, এই ঘটনার পেছনে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন সহিংসতা নয়, বরং রাষ্ট্রের কাঠামোগত সমস্যা কাজ করছে বলে তার মনে হয়েছে। তার মতে, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ এমন পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে, যেখানে সাধারণ মানুষও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।

নাইমার মায়ের সঙ্গে কথোপকথনে উঠে আসে দুটি প্রধান দাবি জুলাইয়ের ঘটনার বিচার এবং দেশের কার্যকর সংস্কার। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যদি পরিবর্তন না আসে, তবে ভবিষ্যত প্রজন্মও একই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এই অভিজ্ঞতা থেকে ডা. মিতু মনে করেন, নীতিনির্ধারকদের উচিত নিয়মিতভাবে এমন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো। এতে তারা বাস্তবতা আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন এবং দায়িত্ব পালনে আরও সচেতন হবেন।

সবশেষে, তিনি বলেন একটি রাষ্ট্র কেবল আবেগ দিয়ে পরিচালিত হয় না; এর জন্য প্রয়োজন ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা। নাইমার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হলে সেই জায়গাগুলোতেই গুরুত্ব দিতে হবে।

শহীদ নাইমার বাড়িতে মিতু, উঠল বিচার ও সংস্কারের প্রশ্ন

প্রকাশ: ১১:৩৪:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

জুলাইয়ের রক্তাক্ত স্মৃতি এখনো অনেক পরিবারের জীবনে গভীর ক্ষত হয়ে রয়ে গেছে। সেইসব শোকাহত পরিবারের একটি হলো শহীদ নাইমার পরিবার। সম্প্রতি সেখানে গিয়ে আবেগাপ্লুত অভিজ্ঞতা ও রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে নিজের উপলব্ধির কথা তুলে ধরেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা ডা. মাহমুদা আলম মিতু।

শপথ গ্রহণের পর প্রথম কাজ হিসেবেই তিনি নাইমার বাসায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে গিয়ে তিনি এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হন, যা তার দায়িত্ববোধকে আরও গভীর করে তোলে। নাইমার মা তাকে সাদরে গ্রহণ করলেও, সেই আনন্দের আড়ালে ছিল এক অমোচনীয় বেদনা।

ডা. মিতু জানান, নাইমা তার নিজের সন্তানের কাছাকাছি বয়সী হওয়ায় বিষয়টি তাকে ব্যক্তিগতভাবেও নাড়া দেয়। একটি স্বাভাবিক দিনের মধ্যে, রান্নার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বারান্দায় দাঁড়ানো একটি শিশুর জীবন যে এভাবে শেষ হয়ে যেতে পারে এই নির্মমতা তাকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে।

তিনি উল্লেখ করেন, এই ঘটনার পেছনে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন সহিংসতা নয়, বরং রাষ্ট্রের কাঠামোগত সমস্যা কাজ করছে বলে তার মনে হয়েছে। তার মতে, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ এমন পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে, যেখানে সাধারণ মানুষও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।

নাইমার মায়ের সঙ্গে কথোপকথনে উঠে আসে দুটি প্রধান দাবি জুলাইয়ের ঘটনার বিচার এবং দেশের কার্যকর সংস্কার। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যদি পরিবর্তন না আসে, তবে ভবিষ্যত প্রজন্মও একই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এই অভিজ্ঞতা থেকে ডা. মিতু মনে করেন, নীতিনির্ধারকদের উচিত নিয়মিতভাবে এমন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো। এতে তারা বাস্তবতা আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন এবং দায়িত্ব পালনে আরও সচেতন হবেন।

সবশেষে, তিনি বলেন একটি রাষ্ট্র কেবল আবেগ দিয়ে পরিচালিত হয় না; এর জন্য প্রয়োজন ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা। নাইমার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হলে সেই জায়গাগুলোতেই গুরুত্ব দিতে হবে।