সরকারি কার্যক্রমের চাপের মাঝেও দলীয় সংগঠনে জমে থাকা স্থবিরতা ভাঙতে নতুনভাবে সক্রিয় হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন নিয়ে এবার দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এই প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, সংগঠনকে গতিশীল রাখতে সময়োপযোগী ও কার্যকর নেতৃত্ব অপরিহার্য। সে কারণে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সংগঠনগুলোতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতা বেড়েছে। অনেকেই নিজেদের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক ভূমিকা, আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান এবং সাংগঠনিক দক্ষতার বিষয়গুলো তুলে ধরতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এসব আলোচনায় তরুণ, দক্ষ ও ত্যাগী নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এর মাধ্যমে সংগঠনে নতুন প্রাণ সঞ্চারের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেক সংগঠনের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও তা নবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে সাংগঠনিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দেয়। এখন সেই জট কাটিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব গঠনের চেষ্টা চলছে। এতে দলীয় কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন তারা।
এদিকে, সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে আগামী ৯ মে ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। রাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতব্য এই সভায় দলের চেয়ারম্যান সরাসরি দিকনির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, বিএনপির এই পুনর্গঠন উদ্যোগকে দলটির জন্য একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সংগঠনকে সক্রিয় ও কার্যকর করতে এই পদক্ষেপ কতটা সফল হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
দৈনিক টার্গেট 

























