ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে রাজনৈতিক সহিংসতার এই চিত্র উঠে এসেছে।
আজ রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
গবেষণায় ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থার তথ্য এবং বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে সংস্থাটি।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৬ জন। আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৫৯ জন। এ সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকেও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
টিআইবির তথ্য বলছে, ২০১৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ৪২৮টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪২৮ জন। আহত হয়েছেন ২৭ হাজার ৮৬০ জন। অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংঘর্ষের ১ হাজার ৯২৬টি ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩১৮ জন। আহত হয়েছেন ১৮ হাজার ৪৯১ জন।
রাজনৈতিক সহিংসতায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার তথ্যও উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতার চর্চা, প্রভাব বিস্তার এবং অভ্যন্তরীণ জবাবদিহির ঘাটতি সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রবণতা দলীয় কাঠামোর ভেতরে ছড়িয়ে পড়ছে।
অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জবাবদিহি ও সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে। প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে ক্ষমতার অপব্যবহার ছড়িয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার চর্চার কারণেই রাজনৈতিক সহিংসতা বাড়ছে। দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার অপব্যবহার ও সহিংসতার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

দৈনিক টার্গেট 
























