এমনটাই বলেছেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। আজ রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’—শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘তৃণমূলের অংশগ্রহণ এবং নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অন্তর্ভুক্তির ঘাটতির কারণে রাজনৈতিক দলগুলোতে পরিবারতন্ত্র ও অভিজাততন্ত্র প্রাধান্য পাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। অথচ রাজনৈতিক দলের অন্যতম উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। এ পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ইতিবাচক নয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে।’
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া দলগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাবের সঙ্গে বাস্তব ব্যয়ের অসামঞ্জস্যের বিষয়টি উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অর্থের উৎস এবং কারা অর্থায়ন করছেন, তা জানার সুযোগ খুবই সীমিত। অধিকাংশ লেনদেন অপ্রকাশ্যে হওয়ায় অর্থের বৈধতা ও প্রকৃত উৎস যাচাই করা কঠিন। রাজনৈতিক দল পরিচালনায় বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। তাই অর্থ সংগ্রহ বন্ধ করা নয়, বরং অর্থের উৎস ও সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ এবং বৈধতার আওতায় আনা জরুরি।’
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম পরিচালনায় অর্থের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে বৈধভাবে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এ জন্য নির্বাচন কমিশন, আইনপ্রণেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় আইন সংস্কার বা নতুন আইন প্রণয়ন করা দরকার। রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থায়নের পুরো প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছতার আওতায় আনতে হবে।’
গবেষণায় রাজনৈতিক সহিংসতার যে পরিসংখ্যান ব্যবহার করা হয়েছে, এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবর ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গবেষণার ক্ষেত্রে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সংঘর্ষ এবং একই দলের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে আহত ও নিহত নেতা-কর্মীদের হিসাব অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার হতাহতদের এ পরিসংখ্যানে যুক্ত করা হয়নি। কারণ, ওই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা শুধু রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ছিলেন না; সাধারণ মানুষও এতে অংশ নিয়েছিলেন। ফলে রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘাতের হিসাবের সঙ্গে গণ-অভ্যুত্থানের হতাহতের তথ্যের তুলনা করা যাবে না।
রাজনৈতিক দলগুলোর অনিয়ম সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন আগে থেকেই অবগত থাকার পরও ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসব বিষয় অনেকেরই জানা। তবে গবেষণার মাধ্যমে তথ্যগুলো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরার উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করা এবং সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সামনে আনা। কেন বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, সে প্রশ্নের জবাব রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশনকেই দিতে হবে।’

দৈনিক টার্গেট 

























