হার্ট অ্যাটাক-স্ট্রোকের লক্ষণ ফুটতে পারে চোখ-মুখেই, বলছে গবেষণা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৩:৪৯:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পঠিত হয়েছে

এ কারণেই গবেষকেরা অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের এমন কিছু সতর্কসংকেত খুঁজছেন, যা চিকিৎসকদের রোগটি আরও আগেভাগে শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস জার্নালে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণায় জ্যানথেলাসমা নামক একটি শারীরিক অবস্থার দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। জ্যানথেলাসমা হলো চোখের পাতার উপর বা তার চারপাশে ত্বকের নিচে জমে থাকা নরম, হলুদাভ চর্বি বা কোলেস্টেরলের আস্তরণ। এ অবস্থায় চোখের চারপাশে হলুদ রঙের দাগ বা ফোলা অংশ দেখা যায়।

রক্তের রোগপ্রতিরোধী কোষ ম্যাক্রোফেজ (macrophage) যখন অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ও অন্যান্য চর্বিতে ভরে যায়, তখন এসব দাগ ও ফোলা অংশ তৈরি হয়। জ্যানথেলাসমার সঙ্গে অনেক সময়, যদিও সব ক্ষেত্রে নয়, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকার সম্পর্কও দেখা যায়। অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসেও চর্বির দলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ধারণা করেন, এই দুই অবস্থার মধ্যে কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে।

স্ট্যানফোর্ডের চক্ষুবিজ্ঞান গবেষক নেগিন ইয়াভারি ও তাঁর সহকর্মীরা তাঁদের প্রকাশিত গবেষণাপত্রে লিখেছেন, ‘কয়েকটি গবেষণায় জ্যানথেলাসমার সঙ্গে হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির বিভিন্ন ঘটনার বাড়তি ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। আবার অন্য কিছু গবেষণায় এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রচলিত ঝুঁকির কারণগুলো হিসাবের মধ্যে নেওয়ার পর জ্যানথেলাসমা নিজে স্বাধীন কোনো ঝুঁকির কারণ নাও হতে পারে।’

গবেষকেরা আরও লিখেছেন, ‘জ্যানথেলাসমা এবং হৃদ্যন্ত্র ও মস্তিষ্কের রক্তনালিসংক্রান্ত ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা চলতে থাকায়, আমরা একটি বড় জনগোষ্ঠীর মধ্যে জ্যানথেলাসমা এবং বড় ধরনের হৃদ্যন্ত্র ও মস্তিষ্কের রক্তনালিসংক্রান্ত ঘটনাগুলোর (MACCEs) সম্পর্ক মূল্যায়ন করতে চেয়েছি।’

গবেষণায় জ্যানথেলাসমায় আক্রান্ত ১৭ হাজার ৯২৫ জনের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। তাঁদের সঙ্গে একই সংখ্যক আরেক দল মানুষকে তুলনা করা হয়। এই দলের মানুষদের ছিল প্রেসবায়োপিয়া, অর্থাৎ এমন একটি চোখের সমস্যা যার কারণে দূরের জিনিস দেখতে সমস্যা হয় বা দূরদৃষ্টির সমস্যা তৈরি হয়।

এই দলের মানুষদের বেছে নেওয়ার কারণ ছিল, তাঁদেরও চোখ পরীক্ষা করাতে হয়েছে। ফলে গবেষকেরা নিশ্চিত হতে পেরেছেন যে তাঁদের জ্যানথেলাসমা নেই। গবেষণার প্রথম বছরের তথ্য অনুযায়ী, জ্যানথেলাসমা থাকা মানুষের ১ শতাংশ, অর্থাৎ ১৭৮ জনের হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। নিয়ন্ত্রিত গোষ্ঠীতে এই সংখ্যা ছিল ০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, অর্থাৎ ৬৩ জন। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে জ্যানথেলাসমা থাকা মানুষের মধ্যে হার ছিল ০ দশমিক ৯৫ শতাংশ, আর অন্য দলের লোকদের ক্ষেত্রে ছিল ০ দশমিক ৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (টিআইএ) বা যাকে অনেক সময় ‘মিনি-স্ট্রোক’ বলা হয়, সেটির হার ছিল জ্যানথেলাসমা থাকা মানুষের মধ্যে ০ দশমিক ৬ শতাংশ এবং প্রেসবায়োপিয়া থাকা মানুষের ক্ষেত্রে ০ দশমিক ১৯ শতাংশ। সব ক্ষেত্রেই মোট শতাংশ তুলনামূলকভাবে কম। তবে জ্যানথেলাসমা থাকা মানুষের ঝুঁকি ছিল কয়েক গুণ বেশি। সময় যত এগিয়েছে, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ঝুঁকির পার্থক্য কিছুটা কমেছে। কিন্তু ৫ বছর এবং ১০ বছর পরও জ্যানথেলাসমা থাকা মানুষের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল।

গবেষকেরা লিখেছেন, ‘জ্যানথেলাসমার সঙ্গে ১০ বছর পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্যন্ত্র ও মস্তিষ্কের রক্তনালিসংক্রান্ত ঘটনাগুলোর বেশি হার সম্পর্কিত। এটি হৃদ্যন্ত্র ও মস্তিষ্কের রক্তনালিসংক্রান্ত ঝুঁকি নির্ধারণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লিনিক্যাল নির্দেশক হিসেবে এর মূল্য তুলে ধরে।’

রক্তে চর্বির মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকুক বা না থাকুক, জ্যানথেলাসমা থাকা মানুষের মধ্যে এসব হৃদ্যন্ত্র ও মস্তিষ্কের রক্তনালিসংক্রান্ত ঘটনার হার প্রায় একই রকম ছিল। এর অর্থ হলো, রক্তে অতিরিক্ত চর্বি বা লিপিডের মাত্রাই হয়তো এই বাড়তি ঝুঁকির একমাত্র কারণ নয়। জ্যানথেলাসমার বৈশিষ্ট্য হলো চোখের চারপাশে ফ্যাকাশে ও ফোলা হলুদ দাগ। সাধারণভাবে এসব দাগকে নিজেরা ক্ষতিকর হিসেবে দেখা হয় না। তবে নতুন গবেষণার ফল আরও প্রমাণ দিচ্ছে যে, এসব দাগ শরীরের অন্য কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালিসংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকিরও সংকেত দিতে পারে।

গবেষকেরা লিখেছেন, ‘আমাদের গবেষণা বলছে, ভবিষ্যতে হৃদ্যন্ত্র ও মস্তিষ্কের রক্তনালিসংক্রান্ত ঘটনাগুলোর বেশি ঘটার একটি ঝুঁকির কারণ হিসেবে জ্যানথেলাসমাকে বিবেচনা করা যেতে পারে।’ তাঁরা আরও লিখেছেন, ‘জ্যানথেলাসমা থাকা বেশির ভাগ রোগী প্রসাধনগত কারণে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যান। অথচ তাঁদের মধ্যে এমন হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালিসংক্রান্ত ঝুঁকির কারণ থাকতে পারে, যা শনাক্ত হয়নি বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে এবং এই বাড়তি ঝুঁকিতে ভূমিকা রাখছে।’

তবে চোখের পাতার এই হলুদ দাগ নিজেই যে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক ঘটায়, এমন কোনো প্রমাণ গবেষণায় দেওয়া হয়নি। বরং গবেষকেরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে জ্যানথেলাসমা থাকা ব্যক্তিদের শরীরে হৃদ্যন্ত্রের কোনো প্রাথমিক সমস্যা আছে কি না, তা পরীক্ষা করা যেতে পারে।

জ্যানথেলাসমার দাগ চিকিৎসকদের সহজেই চোখে পড়ে। তাই অন্তত এই ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি একটি কার্যকর সতর্কসংকেত হতে পারে। এর মাধ্যমে হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালিসংক্রান্ত বড় কোনো ঘটনা বা হৃদ্যন্ত্র ও মস্তিষ্কের রক্তনালিসংক্রান্ত ঘটনাগুলো ঘটার আগেই জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা কিংবা প্রয়োজনীয় ওষুধ শুরু করা সম্ভব হতে পারে।

ভবিষ্যতের গবেষণায় জ্যানথেলাসমা থাকা মানুষের হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কেন এত বেশি, তা আরও বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা যেতে পারে। এর মাধ্যমে এসব সমস্যার বিকাশ কীভাবে ঘটে, সে বিষয়ে গবেষকেরা আরও ভালো ধারণা পেতে পারেন।

গবেষকেরা লিখেছেন, ‘প্রাথমিক চিকিৎসার চিকিৎসকদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, রক্তের অতিরিক্ত চর্বি কমানোর ওষুধের চিকিৎসা এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।’ তাঁরা আরও লিখেছেন, ‘সুতরাং, আমাদের গবেষণার ফলাফল জ্যানথেলাসমা থাকা রোগীদের প্রাথমিক পর্যায়েই মূল্যায়ন করার গুরুত্ব তুলে ধরে। এর মাধ্যমে তাঁদের শরীরে থাকা অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলো শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এবং সম্ভাব্য হৃদ্যন্ত্র ও মস্তিষ্কের রক্তনালিসংক্রান্ত ঘটনা প্রতিরোধে সহায়তা করবে।’

আমাদের সমাজে ভুড়ি বেড়ে যাওয়া বা পেটে চর্বি জমাকে প্রায়ই তথাকথিত আভিজাত্যের প্রতীক বলে আলোচনা করা হয় মজার ছলে। কিন্তু এটাই হতে পারে পুরুষের অন্যতম বিপদের কারণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে পুরুষদের টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার যে ধারণা প্রচলিত, তা পুরোপুরি সঠিক নয় বলে জানিয়েছে নতুন এক গবেষণা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ১৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আগস্ট মাসেই মারা গেছে ৪৩ জন। এ ছাড়া জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৩৬ জন।

জনপ্রিয় টার্গেট

হার্ট অ্যাটাক-স্ট্রোকের লক্ষণ ফুটতে পারে চোখ-মুখেই, বলছে গবেষণা

প্রকাশ: ০৩:৪৯:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ কারণেই গবেষকেরা অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের এমন কিছু সতর্কসংকেত খুঁজছেন, যা চিকিৎসকদের রোগটি আরও আগেভাগে শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস জার্নালে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণায় জ্যানথেলাসমা নামক একটি শারীরিক অবস্থার দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। জ্যানথেলাসমা হলো চোখের পাতার উপর বা তার চারপাশে ত্বকের নিচে জমে থাকা নরম, হলুদাভ চর্বি বা কোলেস্টেরলের আস্তরণ। এ অবস্থায় চোখের চারপাশে হলুদ রঙের দাগ বা ফোলা অংশ দেখা যায়।

রক্তের রোগপ্রতিরোধী কোষ ম্যাক্রোফেজ (macrophage) যখন অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ও অন্যান্য চর্বিতে ভরে যায়, তখন এসব দাগ ও ফোলা অংশ তৈরি হয়। জ্যানথেলাসমার সঙ্গে অনেক সময়, যদিও সব ক্ষেত্রে নয়, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকার সম্পর্কও দেখা যায়। অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসেও চর্বির দলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ধারণা করেন, এই দুই অবস্থার মধ্যে কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে।

স্ট্যানফোর্ডের চক্ষুবিজ্ঞান গবেষক নেগিন ইয়াভারি ও তাঁর সহকর্মীরা তাঁদের প্রকাশিত গবেষণাপত্রে লিখেছেন, ‘কয়েকটি গবেষণায় জ্যানথেলাসমার সঙ্গে হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির বিভিন্ন ঘটনার বাড়তি ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। আবার অন্য কিছু গবেষণায় এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রচলিত ঝুঁকির কারণগুলো হিসাবের মধ্যে নেওয়ার পর জ্যানথেলাসমা নিজে স্বাধীন কোনো ঝুঁকির কারণ নাও হতে পারে।’

গবেষকেরা আরও লিখেছেন, ‘জ্যানথেলাসমা এবং হৃদ্যন্ত্র ও মস্তিষ্কের রক্তনালিসংক্রান্ত ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা চলতে থাকায়, আমরা একটি বড় জনগোষ্ঠীর মধ্যে জ্যানথেলাসমা এবং বড় ধরনের হৃদ্যন্ত্র ও মস্তিষ্কের রক্তনালিসংক্রান্ত ঘটনাগুলোর (MACCEs) সম্পর্ক মূল্যায়ন করতে চেয়েছি।’

গবেষণায় জ্যানথেলাসমায় আক্রান্ত ১৭ হাজার ৯২৫ জনের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। তাঁদের সঙ্গে একই সংখ্যক আরেক দল মানুষকে তুলনা করা হয়। এই দলের মানুষদের ছিল প্রেসবায়োপিয়া, অর্থাৎ এমন একটি চোখের সমস্যা যার কারণে দূরের জিনিস দেখতে সমস্যা হয় বা দূরদৃষ্টির সমস্যা তৈরি হয়।

এই দলের মানুষদের বেছে নেওয়ার কারণ ছিল, তাঁদেরও চোখ পরীক্ষা করাতে হয়েছে। ফলে গবেষকেরা নিশ্চিত হতে পেরেছেন যে তাঁদের জ্যানথেলাসমা নেই। গবেষণার প্রথম বছরের তথ্য অনুযায়ী, জ্যানথেলাসমা থাকা মানুষের ১ শতাংশ, অর্থাৎ ১৭৮ জনের হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। নিয়ন্ত্রিত গোষ্ঠীতে এই সংখ্যা ছিল ০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, অর্থাৎ ৬৩ জন। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে জ্যানথেলাসমা থাকা মানুষের মধ্যে হার ছিল ০ দশমিক ৯৫ শতাংশ, আর অন্য দলের লোকদের ক্ষেত্রে ছিল ০ দশমিক ৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (টিআইএ) বা যাকে অনেক সময় ‘মিনি-স্ট্রোক’ বলা হয়, সেটির হার ছিল জ্যানথেলাসমা থাকা মানুষের মধ্যে ০ দশমিক ৬ শতাংশ এবং প্রেসবায়োপিয়া থাকা মানুষের ক্ষেত্রে ০ দশমিক ১৯ শতাংশ। সব ক্ষেত্রেই মোট শতাংশ তুলনামূলকভাবে কম। তবে জ্যানথেলাসমা থাকা মানুষের ঝুঁকি ছিল কয়েক গুণ বেশি। সময় যত এগিয়েছে, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ঝুঁকির পার্থক্য কিছুটা কমেছে। কিন্তু ৫ বছর এবং ১০ বছর পরও জ্যানথেলাসমা থাকা মানুষের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল।

গবেষকেরা লিখেছেন, ‘জ্যানথেলাসমার সঙ্গে ১০ বছর পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্যন্ত্র ও মস্তিষ্কের রক্তনালিসংক্রান্ত ঘটনাগুলোর বেশি হার সম্পর্কিত। এটি হৃদ্যন্ত্র ও মস্তিষ্কের রক্তনালিসংক্রান্ত ঝুঁকি নির্ধারণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লিনিক্যাল নির্দেশক হিসেবে এর মূল্য তুলে ধরে।’

রক্তে চর্বির মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকুক বা না থাকুক, জ্যানথেলাসমা থাকা মানুষের মধ্যে এসব হৃদ্যন্ত্র ও মস্তিষ্কের রক্তনালিসংক্রান্ত ঘটনার হার প্রায় একই রকম ছিল। এর অর্থ হলো, রক্তে অতিরিক্ত চর্বি বা লিপিডের মাত্রাই হয়তো এই বাড়তি ঝুঁকির একমাত্র কারণ নয়। জ্যানথেলাসমার বৈশিষ্ট্য হলো চোখের চারপাশে ফ্যাকাশে ও ফোলা হলুদ দাগ। সাধারণভাবে এসব দাগকে নিজেরা ক্ষতিকর হিসেবে দেখা হয় না। তবে নতুন গবেষণার ফল আরও প্রমাণ দিচ্ছে যে, এসব দাগ শরীরের অন্য কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালিসংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকিরও সংকেত দিতে পারে।

গবেষকেরা লিখেছেন, ‘আমাদের গবেষণা বলছে, ভবিষ্যতে হৃদ্যন্ত্র ও মস্তিষ্কের রক্তনালিসংক্রান্ত ঘটনাগুলোর বেশি ঘটার একটি ঝুঁকির কারণ হিসেবে জ্যানথেলাসমাকে বিবেচনা করা যেতে পারে।’ তাঁরা আরও লিখেছেন, ‘জ্যানথেলাসমা থাকা বেশির ভাগ রোগী প্রসাধনগত কারণে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যান। অথচ তাঁদের মধ্যে এমন হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালিসংক্রান্ত ঝুঁকির কারণ থাকতে পারে, যা শনাক্ত হয়নি বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে এবং এই বাড়তি ঝুঁকিতে ভূমিকা রাখছে।’

তবে চোখের পাতার এই হলুদ দাগ নিজেই যে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক ঘটায়, এমন কোনো প্রমাণ গবেষণায় দেওয়া হয়নি। বরং গবেষকেরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে জ্যানথেলাসমা থাকা ব্যক্তিদের শরীরে হৃদ্যন্ত্রের কোনো প্রাথমিক সমস্যা আছে কি না, তা পরীক্ষা করা যেতে পারে।

জ্যানথেলাসমার দাগ চিকিৎসকদের সহজেই চোখে পড়ে। তাই অন্তত এই ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি একটি কার্যকর সতর্কসংকেত হতে পারে। এর মাধ্যমে হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালিসংক্রান্ত বড় কোনো ঘটনা বা হৃদ্যন্ত্র ও মস্তিষ্কের রক্তনালিসংক্রান্ত ঘটনাগুলো ঘটার আগেই জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা কিংবা প্রয়োজনীয় ওষুধ শুরু করা সম্ভব হতে পারে।

ভবিষ্যতের গবেষণায় জ্যানথেলাসমা থাকা মানুষের হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কেন এত বেশি, তা আরও বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা যেতে পারে। এর মাধ্যমে এসব সমস্যার বিকাশ কীভাবে ঘটে, সে বিষয়ে গবেষকেরা আরও ভালো ধারণা পেতে পারেন।

গবেষকেরা লিখেছেন, ‘প্রাথমিক চিকিৎসার চিকিৎসকদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, রক্তের অতিরিক্ত চর্বি কমানোর ওষুধের চিকিৎসা এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।’ তাঁরা আরও লিখেছেন, ‘সুতরাং, আমাদের গবেষণার ফলাফল জ্যানথেলাসমা থাকা রোগীদের প্রাথমিক পর্যায়েই মূল্যায়ন করার গুরুত্ব তুলে ধরে। এর মাধ্যমে তাঁদের শরীরে থাকা অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলো শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এবং সম্ভাব্য হৃদ্যন্ত্র ও মস্তিষ্কের রক্তনালিসংক্রান্ত ঘটনা প্রতিরোধে সহায়তা করবে।’

আমাদের সমাজে ভুড়ি বেড়ে যাওয়া বা পেটে চর্বি জমাকে প্রায়ই তথাকথিত আভিজাত্যের প্রতীক বলে আলোচনা করা হয় মজার ছলে। কিন্তু এটাই হতে পারে পুরুষের অন্যতম বিপদের কারণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে পুরুষদের টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার যে ধারণা প্রচলিত, তা পুরোপুরি সঠিক নয় বলে জানিয়েছে নতুন এক গবেষণা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ১৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আগস্ট মাসেই মারা গেছে ৪৩ জন। এ ছাড়া জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৩৬ জন।