ভিটামিন সি খেলেই কি দ্রুত ঠান্ডা-সর্দি পালায়, গবেষণা কী বলছে

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:৫৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পঠিত হয়েছে

সর্দি-কাশির প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে প্রায়ই ভিটামিন সি-র নাম শোনা যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বানানো বিভিন্ন ওষুধের মূল উপাদানও এটি। নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ড. লিনাস পলিং তো বলেই বসেছিলেন, বেশি করে ভিটামিন সি খেলেই ঠান্ডা-সর্দি ঠেকানো যায়।

কিন্তু এসব কথার কি আদৌ কোনো ভিত্তি আছে? হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেথ ইসরায়েল মেডিকেল সেন্টারের পুষ্টি বিভাগের প্রধান ড. ব্রুস বিস্ট্রিয়ান বলছেন, ‘গবেষণা বলছে, সাধারণ সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে ভিটামিন সি আসলে সামান্যই কাজে আসে।’

এখনও ভিটামিন সি নিয়ে নানা প্রচলিত ধারণা ও ভুল বিশ্বাস সমাজে প্রচলিত আছে। একটি বহুল প্রচলিত ধারণা হলো—ভিটামিন সি খেলে সর্দি-কাশি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তবে গবেষণাভিত্তিক তথ্য বলছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষণাসহ আরও কিছু গবেষণাভিত্তিক তথ্য এসব মিথ ও সত্যকে স্পষ্টভাবে আলাদা করেছে।

সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হারে কাজ না করলেও, যারা শারীরিক পরিশ্রম করেন বা প্রচণ্ড ঠান্ডায় থাকেন—তাঁদের জন্য কিন্তু হিসাবটা আলাদা! ম্যারাথন দৌড়বিদ, পাহাড়ে স্কি করা খেলোয়াড় বা তীব্র বরফ অঞ্চলে থাকা সৈনিকদের ওপর চালানো গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ভিটামিন সি খেলে তাঁদের সর্দি হওয়ার ঝুঁকি প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।

সর্দি লাগার পর ভিটামিন সি খাওয়া শুরু করলে ভালো উপকার পাওয়া গেছে—এমন প্রমাণ নেই। তিন হাজারেরও বেশি সর্দির ঘটনা পরীক্ষা করে গবেষকেরা দেখেছেন, সর্দি হওয়ার পর ভিটামিন সি খেলে তার স্থায়িত্ব বা তীব্রতা কমে যাওয়ারও কোনো ধারাবাহিক প্রভাব পাওয়া যায়নি। গবেষকেরা অবশ্য বলেছেন, এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

আবার, যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত চিকিৎসা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান মায়ো ক্লিনিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ সর্দি-কাশির কোনো নির্দিষ্ট ওষুধে রোগ পুরোপুরি সেরে যায় না। তবে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, বেশি বেশি তরল গ্রহণ, মধু এবং বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ানোর মতো কিছু উপায়ে উপসর্গ কমানো যেতে পারে।

তবে ভিটামিন সি সর্দি প্রতিরোধ করে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অবশ্য কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, সর্দির উপসর্গ শুরু হওয়ার আগে নিয়মিত ভিটামিন সি গ্রহণ করলে উপসর্গের স্থায়িত্ব কিছুটা কমতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণ সর্দি-কাশির নির্দিষ্ট কোনো নিরাময় নেই, তবে কিছু উপায়ে এর উপসর্গ কমানো যায়। পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। চা, গরম পানি ও লেবু বা স্যুপের মতো উষ্ণ তরল শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করতে পারে এবং নাক বন্ধভাব ও গলার অস্বস্তি কিছুটা কমাতে পারে।

এ ছাড়া, গরম লবণ পানিতে গার্গল গলাব্যথা ও ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। একই সঙ্গে ঘরের বাতাসে আর্দ্রতা রাখা নাক ও গলার শুষ্কতা কমাতে উপকারী হতে পারে। এ জন্য হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে।

বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত ঘুমকে সর্দির সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধারে বিশ্রাম ও ঘুমের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে এবং কয়েক দিন ভারী ব্যয়াম থেকে বিরতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া, কিছু ওষুধ যেমন নাক বন্ধভাব কমানোর ওষুধ, অ্যান্টিহিস্টামিন এবং ব্যথা বা জ্বর কমানোর কিছু ওষুধ সর্দির নির্দিষ্ট উপসর্গ কমাতে পারে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এসব ওষুধ ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া, ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এগুলো নাক, গলা ও ফুসফুসে আরও জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে।

ফেসবুকে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে সেটিকে অলৌকিক ঘটনা বলে প্রচার করা হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, দড়ি দিয়ে বাঁধা দুটি বিশাল পাথরের চাঁইয়ের একটি শূন্যে ঝুলছে। ১ হাজার ৪০০ বছর আগে ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মোজেজা এটি। তিনিই পাথর দুটিকে এভাবে বেঁধে রেখেছিলেন।

জনপ্রিয় টার্গেট

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি স্থগিত

ভিটামিন সি খেলেই কি দ্রুত ঠান্ডা-সর্দি পালায়, গবেষণা কী বলছে

প্রকাশ: ১২:৫৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্দি-কাশির প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে প্রায়ই ভিটামিন সি-র নাম শোনা যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বানানো বিভিন্ন ওষুধের মূল উপাদানও এটি। নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ড. লিনাস পলিং তো বলেই বসেছিলেন, বেশি করে ভিটামিন সি খেলেই ঠান্ডা-সর্দি ঠেকানো যায়।

কিন্তু এসব কথার কি আদৌ কোনো ভিত্তি আছে? হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেথ ইসরায়েল মেডিকেল সেন্টারের পুষ্টি বিভাগের প্রধান ড. ব্রুস বিস্ট্রিয়ান বলছেন, ‘গবেষণা বলছে, সাধারণ সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে ভিটামিন সি আসলে সামান্যই কাজে আসে।’

এখনও ভিটামিন সি নিয়ে নানা প্রচলিত ধারণা ও ভুল বিশ্বাস সমাজে প্রচলিত আছে। একটি বহুল প্রচলিত ধারণা হলো—ভিটামিন সি খেলে সর্দি-কাশি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তবে গবেষণাভিত্তিক তথ্য বলছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষণাসহ আরও কিছু গবেষণাভিত্তিক তথ্য এসব মিথ ও সত্যকে স্পষ্টভাবে আলাদা করেছে।

সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হারে কাজ না করলেও, যারা শারীরিক পরিশ্রম করেন বা প্রচণ্ড ঠান্ডায় থাকেন—তাঁদের জন্য কিন্তু হিসাবটা আলাদা! ম্যারাথন দৌড়বিদ, পাহাড়ে স্কি করা খেলোয়াড় বা তীব্র বরফ অঞ্চলে থাকা সৈনিকদের ওপর চালানো গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ভিটামিন সি খেলে তাঁদের সর্দি হওয়ার ঝুঁকি প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।

সর্দি লাগার পর ভিটামিন সি খাওয়া শুরু করলে ভালো উপকার পাওয়া গেছে—এমন প্রমাণ নেই। তিন হাজারেরও বেশি সর্দির ঘটনা পরীক্ষা করে গবেষকেরা দেখেছেন, সর্দি হওয়ার পর ভিটামিন সি খেলে তার স্থায়িত্ব বা তীব্রতা কমে যাওয়ারও কোনো ধারাবাহিক প্রভাব পাওয়া যায়নি। গবেষকেরা অবশ্য বলেছেন, এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

আবার, যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত চিকিৎসা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান মায়ো ক্লিনিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ সর্দি-কাশির কোনো নির্দিষ্ট ওষুধে রোগ পুরোপুরি সেরে যায় না। তবে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, বেশি বেশি তরল গ্রহণ, মধু এবং বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ানোর মতো কিছু উপায়ে উপসর্গ কমানো যেতে পারে।

তবে ভিটামিন সি সর্দি প্রতিরোধ করে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অবশ্য কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, সর্দির উপসর্গ শুরু হওয়ার আগে নিয়মিত ভিটামিন সি গ্রহণ করলে উপসর্গের স্থায়িত্ব কিছুটা কমতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণ সর্দি-কাশির নির্দিষ্ট কোনো নিরাময় নেই, তবে কিছু উপায়ে এর উপসর্গ কমানো যায়। পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। চা, গরম পানি ও লেবু বা স্যুপের মতো উষ্ণ তরল শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করতে পারে এবং নাক বন্ধভাব ও গলার অস্বস্তি কিছুটা কমাতে পারে।

এ ছাড়া, গরম লবণ পানিতে গার্গল গলাব্যথা ও ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। একই সঙ্গে ঘরের বাতাসে আর্দ্রতা রাখা নাক ও গলার শুষ্কতা কমাতে উপকারী হতে পারে। এ জন্য হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে।

বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত ঘুমকে সর্দির সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধারে বিশ্রাম ও ঘুমের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে এবং কয়েক দিন ভারী ব্যয়াম থেকে বিরতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া, কিছু ওষুধ যেমন নাক বন্ধভাব কমানোর ওষুধ, অ্যান্টিহিস্টামিন এবং ব্যথা বা জ্বর কমানোর কিছু ওষুধ সর্দির নির্দিষ্ট উপসর্গ কমাতে পারে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এসব ওষুধ ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া, ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এগুলো নাক, গলা ও ফুসফুসে আরও জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে।

ফেসবুকে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে সেটিকে অলৌকিক ঘটনা বলে প্রচার করা হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, দড়ি দিয়ে বাঁধা দুটি বিশাল পাথরের চাঁইয়ের একটি শূন্যে ঝুলছে। ১ হাজার ৪০০ বছর আগে ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মোজেজা এটি। তিনিই পাথর দুটিকে এভাবে বেঁধে রেখেছিলেন।