ব্যর্থতাই সাফল্যের ভিত্তি

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৮:৩৩:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত হয়েছে

এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেননি। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা অনুসন্ধান করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের মান, শিক্ষকদের দক্ষতা, পরীক্ষার পদ্ধতি কিংবা মূল্যায়নের কঠোরতা—কোন বিষয় কতটা দায়ী, তা তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নির্ণয় করতে হবে। শুধু শিক্ষার্থীদের ‘অযোগ্য’ বলে দায় সারলে সমস্যার সমাধান হবে না। আবার শিক্ষার্থীরা যদি রাজনৈতিক অস্থিরতার দোহাই দিয়ে ‘ঠিকমতো পড়াশোনা করা হয়নি’ বলে শুধু শিক্ষাব্যবস্থার ওপর দায় চাপিয়ে দিতে চান, সেটাও হবে খোঁড়া যুক্তি।

শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক বছরে ৯১টি বেড়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী ব্যর্থ—এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কী ভাবছে, তা জানা জরুরি। পাঠদান, শিক্ষক উপস্থিতি, ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এসব প্রতিষ্ঠানের অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি চালু করা যেতে পারে।

বোর্ডভিত্তিক ফলাফলেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য বৈষম্য; যেমন ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ এবং বরিশালে তা ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এই ব্যবধান কমাতে বা দূর করতে কোন বোর্ডে কী ধরনের সমস্যা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে অঞ্চলভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

পরীক্ষার ফল খারাপ হলেই শিক্ষাব্যবস্থা ব্যর্থ—এমন সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। তবে ধারাবাহিক অগ্রগতির বদলে ফলাফলে অবনতি এবং শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান বেড়ে যাওয়া, এসব উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোকে ফলাফল বিশ্লেষণ করে সমস্যার প্রকৃত কারণ প্রকাশ করতে হবে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, নিয়মিত পাঠদান, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বাড়তি সহায়তা এবং প্রতিষ্ঠান তদারকিতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল পাসের হার কিংবা জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বাড়ানো নয়; শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটানো। সেই লক্ষ্য অর্জনের প্রথম শর্ত হলো শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা স্বীকার করা। এবারের ফলাফল বলে দিচ্ছে, আত্মসমালোচনার পাশাপাশি কার্যকর সংস্কার করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থার নীতিনির্ধারক এবং শিক্ষার্থী উভয় পক্ষকে মনে রাখতে হবে, ব্যর্থতাই সাফল্যের ভিত্তি। সে অনুযায়ী আগামী বছরের প্রস্তুতি নিতে হবে। মুষড়ে পড়লে হবে না। ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এখনই।

সমালোচনা

বাংলাদেশের সংবিধানে সরকারের সমালোচনা করার অধিকার সরাসরি নিশ্চিত করা হয়েছে বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার মাধ্যমে। ৩৯ (১) অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। ৩৯ (২) (ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার আছে…

জেলেদের সঙ্গে প্রতারণা

মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ সময় জেলেরা যাতে জীবিকার সংকটে না পড়েন, সে জন্য সরকার প্রতি জেলেকে ২৫ কেজি করে বিনা মূল্যে চাল বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার সময় পেরিয়ে গেলেও পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার রণগোপালদী ও দশমিনা ইউনিয়নের কোনো জেলেই চাল পাননি।

ডিলার নিয়োগে অনিয়ম

কৃষকের দোরগোড়ায় ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছে দিতে সরকার নতুন করে ডিলার নিয়োগ দিলেও এ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বেশির ভাগ সার ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন দলীয় পরিচয়ে। এ ছাড়া তালিকায় বিএনপি নেতার বয়স্ক মা, স্ত্রী ও কৃষি কর্মকর্তার বাবাকেও ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যদিও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্

জনপ্রিয় টার্গেট

ব্যর্থতাই সাফল্যের ভিত্তি

প্রকাশ: ০৮:৩৩:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেননি। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা অনুসন্ধান করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের মান, শিক্ষকদের দক্ষতা, পরীক্ষার পদ্ধতি কিংবা মূল্যায়নের কঠোরতা—কোন বিষয় কতটা দায়ী, তা তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নির্ণয় করতে হবে। শুধু শিক্ষার্থীদের ‘অযোগ্য’ বলে দায় সারলে সমস্যার সমাধান হবে না। আবার শিক্ষার্থীরা যদি রাজনৈতিক অস্থিরতার দোহাই দিয়ে ‘ঠিকমতো পড়াশোনা করা হয়নি’ বলে শুধু শিক্ষাব্যবস্থার ওপর দায় চাপিয়ে দিতে চান, সেটাও হবে খোঁড়া যুক্তি।

শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক বছরে ৯১টি বেড়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী ব্যর্থ—এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কী ভাবছে, তা জানা জরুরি। পাঠদান, শিক্ষক উপস্থিতি, ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এসব প্রতিষ্ঠানের অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি চালু করা যেতে পারে।

বোর্ডভিত্তিক ফলাফলেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য বৈষম্য; যেমন ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ এবং বরিশালে তা ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এই ব্যবধান কমাতে বা দূর করতে কোন বোর্ডে কী ধরনের সমস্যা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে অঞ্চলভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

পরীক্ষার ফল খারাপ হলেই শিক্ষাব্যবস্থা ব্যর্থ—এমন সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। তবে ধারাবাহিক অগ্রগতির বদলে ফলাফলে অবনতি এবং শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান বেড়ে যাওয়া, এসব উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোকে ফলাফল বিশ্লেষণ করে সমস্যার প্রকৃত কারণ প্রকাশ করতে হবে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, নিয়মিত পাঠদান, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বাড়তি সহায়তা এবং প্রতিষ্ঠান তদারকিতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল পাসের হার কিংবা জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বাড়ানো নয়; শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটানো। সেই লক্ষ্য অর্জনের প্রথম শর্ত হলো শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা স্বীকার করা। এবারের ফলাফল বলে দিচ্ছে, আত্মসমালোচনার পাশাপাশি কার্যকর সংস্কার করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থার নীতিনির্ধারক এবং শিক্ষার্থী উভয় পক্ষকে মনে রাখতে হবে, ব্যর্থতাই সাফল্যের ভিত্তি। সে অনুযায়ী আগামী বছরের প্রস্তুতি নিতে হবে। মুষড়ে পড়লে হবে না। ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এখনই।

সমালোচনা

বাংলাদেশের সংবিধানে সরকারের সমালোচনা করার অধিকার সরাসরি নিশ্চিত করা হয়েছে বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার মাধ্যমে। ৩৯ (১) অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। ৩৯ (২) (ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার আছে…

জেলেদের সঙ্গে প্রতারণা

মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ সময় জেলেরা যাতে জীবিকার সংকটে না পড়েন, সে জন্য সরকার প্রতি জেলেকে ২৫ কেজি করে বিনা মূল্যে চাল বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার সময় পেরিয়ে গেলেও পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার রণগোপালদী ও দশমিনা ইউনিয়নের কোনো জেলেই চাল পাননি।

ডিলার নিয়োগে অনিয়ম

কৃষকের দোরগোড়ায় ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছে দিতে সরকার নতুন করে ডিলার নিয়োগ দিলেও এ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বেশির ভাগ সার ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন দলীয় পরিচয়ে। এ ছাড়া তালিকায় বিএনপি নেতার বয়স্ক মা, স্ত্রী ও কৃষি কর্মকর্তার বাবাকেও ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যদিও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্