আজ বেলা ১১টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে।উদ্বোধন করবেন
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। বাস পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ছয়টি কোম্পানিকে। তারা চারটি রুটে নন-এসি বাস এবং দুটি রুটে নন-এসি ও এসি বাস উভয়টি চালাবে। বাস রুট রেশনালাইজেশন পদ্ধতিতে একটি রুটে শুধু একটি কোম্পানির বাস চলার কথা। পরিকল্পনা হচ্ছে, একটি রুটে চলা সব বাস এক কোম্পানির আওতায় আসবে এবং মালিকেরা যার যার বিনিয়োগ অনুপাতে আয়ের ভাগ পাবেন।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত ২৬ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার রুটে ২৫৩টি নন-এসি বাস পরিচালনা করবে ভিআইপি পরিবহন বাস কোম্পানি। মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত ১৭ দশমিক ১৮ কিলোমিটার রুটে ১৩৩টি বাস চালাবে চিড়িয়াখানা সিটি বাস কোম্পানি। ঘাটারচর থেকে ডেমরা পর্যন্ত ২৪ দশমিক ৪৯ কিলোমিটার রুটে ৭০টি বাস পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ। ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত ২৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার রুটে ১৫০টি বাস চালাবে ফোর স্টার বাস লাইন। ঘাটারচর থেকে উত্তরা পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার রুটে ১৯০টি বাস পরিচালনা করবে পিএনপি সিটি সার্ভিস। অন্যদিকে টঙ্গী থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত ২২ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার রুটে ২০টি এসি বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ রুটের পরিচালনাকারী কোম্পানি হবে ‘ঢাকা চাকা’।
প্রস্তাবিত এসব রুটের কয়েকটিতে বর্তমানে একাধিক কোম্পানির বাস চলাচল করছে। এর মধ্যে রয়েছে ভিআইপি, বিকাশ, দিশারী, তানজিল, মেট্রো লিংক, রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ, রজনীগন্ধা, মালঞ্চ, সময়, মিডলাইন, পরিস্থান ও প্রজাপতি পরিবহন।
ডিটিসিএর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. মশিউর রহমান আজকের পত্রিকাকে এ বিষয়ে বলেন, ‘বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজির পুরো ধারণা শুরুতেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হলেও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে পুরো ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে। বাস চলাচল শুরুর পর কোনো সমস্যা বা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাসমালিকেরাও কীভাবে শৃঙ্খলা বজায় রাখেন, সেটিও দেখা হবে।’
এর আগে ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছিল ‘ঢাকা নগর পরিবহন’। তখন ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে ১৫৫টি বাস চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও শুরু হয়েছিল মাত্র ৫০টি বাস নিয়ে। একই রুটের আগের অন্য কোম্পানির বাসগুলোর চলাচল বন্ধ করা যায়নি। অবকাঠামোগত ও পরিচালনাগত সংকটে লোকসানের মুখে একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায় উদ্যোগটি।
রাজধানীতে বাস রুট রেশনালাইজেশনের আওতায় ৯৮টি সচল রুটকে সমন্বয় করে ৩২টি রুটে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ কোম্পানিভিত্তিক বাস চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শুরুতে ছয়টি রুটে পুরোনো বাস চলবে। ই-টিকিটিং ব্যবস্থাও থাকবে না। ফলে বিভিন্ন পরিবহনের বাসের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা, ভাড়ার হার নিয়ে বিশৃঙ্খলা ও যাত্রীসেবার নিম্নমানের কতটা সমাধান হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
পরিবহন খাত নিয়ে কাজ করা বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘শুধু কয়েকটি কোম্পানির বাসকে এক নামে পরিচালনা করলেই গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আসবে না। এ জন্য রুটের একক নিয়ন্ত্রণ, ই-টিকিটিং, নির্ধারিত সময়সূচি ও বাসের মান নিশ্চিত করতে হবে। চালকদের বেতনকাঠামোর আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি পুরো ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি থাকতে হবে। অন্যথায় আগের ঢাকা নগর পরিবহনের মতো নতুন উদ্যোগও প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হতে পারে।’
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চালুর মাধ্যমে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে চাই। শুরুতে নির্ধারিত সময়সূচি ও স্টপেজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। পরে ই-টিকিটিং চালু করা হবে। প্রতিটি রুটে শ্রমিক সংগঠন ও অভিজ্ঞ চালকদের সঙ্গে আলোচনা করে চালক ও সহকারীদের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে তাঁরা কোনোভাবে বঞ্চিত না হন।’

দৈনিক টার্গেট 

























