ঈদুল আজহার দিন রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে আলোচিত অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। বিকেল থেকেই চিড়িয়াখানার ৭ নম্বর শেডের সামনে মানুষের ভিড় বাড়তে দেখা যায়। ব্যতিক্রমী চেহারা ও আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হওয়ার কারণে মহিষটিকে এক নজর দেখতে উৎসুক হয়ে ওঠেন নানা বয়সী মানুষ।
তবে মহিষটিকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহের মাঝেই সামনে আসে একটি অদ্ভুত ঘটনা। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ মহিষটির জন্য যে পরিচিতি বোর্ড তৈরি করেছে, সেখানে নামের বানানে গুরুতর ভুল ধরা পড়ে। বোর্ডে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ লেখার বদলে ভুলবশত লেখা হয় ‘ডোনাল্ড ট্টাম্প’। ‘ট্র’ যুক্তাক্ষরের জায়গায় ‘ট্ট’ ব্যবহারের কারণে বিষয়টি মুহূর্তেই দর্শনার্থীদের নজরে আসে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় নানা ধরনের রসিকতা ও ট্রল। অনেকেই মজার ছলে মন্তব্য করেন, “মহিষ বেঁচে গেলেও নামটা আর রক্ষা পেল না!” আবার কেউ কেউ এটিকে দায়িত্বে অবহেলার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলও।
বিশেষ এই মহিষটির ওজন প্রায় ৭০০ কেজি। গোলাপি-সাদা রঙের বিরল অ্যালবিনো বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি এর মাথার সোনালি ঢেউখেলানো লোম এবং চোখের আলাদা গঠন মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে খামারিরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিল খুঁজে এর নামকরণ করেছিলেন।
মহিষটি শুধু দেশেই নয়, বিদেশি সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। ব্রিটিশ গণমাধ্যমসহ আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংবাদ সংস্থা এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহিষটির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে কৌতূহল আরও বেড়ে যায়।
জানা গেছে, মূলত কুরবানির জন্য বিক্রি করা হয়েছিল মহিষটি। কিন্তু এটিকে দেখতে মানুষের অতিরিক্ত ভিড় এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত সরকার এটিকে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে সংশ্লিষ্ট ক্রেতাকে অর্থ পরিশোধ করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে মহিষটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় হস্তান্তর করা হয়।
বর্তমানে চিড়িয়াখানার দর্শনার্থীদের কাছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ শুধু একটি মহিষ নয়, বরং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ও বিনোদনের নতুন উপাদানে পরিণত হয়েছে।
দৈনিক টার্গেট 

























