দুর্ঘটনা কমাতে বিজ্ঞানসম্মত উদ্যোগ নেই

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১১:৩৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০ বার পঠিত হয়েছে

উন্নত দেশগুলোতে দুর্ঘটনা কমাতে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে কর্মসূচি নেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ে দুর্ঘটনা কতটা কমানো সম্ভব, তা নির্ধারণ করে অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়। বাংলাদেশে এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগের পরিবর্তে বিচ্ছিন্ন কার্যক্রম বেশি দেখা যায়।

আমি মনে করি, দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে সময় সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে। যেমন এক বছরে দুর্ঘটনা ৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করে ব্যবস্থা নিতে হবে। পরে মূল্যায়ন করতে হবে, সেই লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) পুলিশ, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কার্যকর নেতৃত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত হচ্ছে না। ‘এটা সবার দায়িত্ব, সবাই মিলে কাজ করি’ বললেই হবে না। সড়ক নিরাপত্তা বিশেষায়িত কাজ। এ জন্য কারিগরি জ্ঞান, পেশাদারি ও সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যাপ্ত জনবল, অর্থায়ন ও সক্ষমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের কাজের জবাবদিহিও প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দুর্ঘটনার পর শুধু চালককে দায়ী না করে চালকের লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস, সড়কের নকশা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা জরুরি।

‎সড়কের নকশা, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে নিরাপত্তা নিরীক্ষা জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি গণপরিবহনের রুট ও পরিচালনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে হবে। ব্যবস্থাপনাগত সমস্যা সমাধান না করে শুধু অভিযান ও জরিমানার মাধ্যমে স্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব নয়।

ছয় মাসের বেশি সময় ধরে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভা না হওয়া উদ্বেগজনক। দুর্ঘটনা কমাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব নির্ধারণ, কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ এবং নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা জরুরি।

সড়ক নিরাপত্তায় চালকের দক্ষতা, যানবাহনের ফিটনেস, আইন প্রয়োগ, নিরাপদ সড়ক নকশা ও দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণে ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রয়োজন। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনের চেয়ে দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়, দায়ী প্রতিষ্ঠান চিহ্নিতকরণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষ, পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক করে তুলতে হবে। অন্যথায় দুর্ঘটনা কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।

উপনিবেশের কবজায় লোকজ ও দেশীয় সংস্কৃতি

উপনিবেশের কবজায় লোকজ ও দেশীয় সংস্কৃতি

২০১০ সালে ভারতের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে বোয়া সিনিয়র নামের এক বৃদ্ধা মারা যান। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে যায় ‘বো’ নামের একটি প্রাচীন ভাষা। বোয়া ছিলেন এই ভাষার শেষ জীবিত ব্যক্তি। জেনেটিক গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ৬৫ হাজার বছর আগে এই দ্বীপে বসতি স্থাপন করা এক জনগোষ্ঠী, তাদের লোককথা,

জনপ্রিয় টার্গেট

পোশাক রপ্তানিতে বড় বিপদের আভাস, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ইইউর বাজার

দুর্ঘটনা কমাতে বিজ্ঞানসম্মত উদ্যোগ নেই

প্রকাশ: ১১:৩৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

উন্নত দেশগুলোতে দুর্ঘটনা কমাতে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে কর্মসূচি নেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ে দুর্ঘটনা কতটা কমানো সম্ভব, তা নির্ধারণ করে অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়। বাংলাদেশে এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগের পরিবর্তে বিচ্ছিন্ন কার্যক্রম বেশি দেখা যায়।

আমি মনে করি, দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে সময় সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে। যেমন এক বছরে দুর্ঘটনা ৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করে ব্যবস্থা নিতে হবে। পরে মূল্যায়ন করতে হবে, সেই লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) পুলিশ, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কার্যকর নেতৃত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত হচ্ছে না। ‘এটা সবার দায়িত্ব, সবাই মিলে কাজ করি’ বললেই হবে না। সড়ক নিরাপত্তা বিশেষায়িত কাজ। এ জন্য কারিগরি জ্ঞান, পেশাদারি ও সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যাপ্ত জনবল, অর্থায়ন ও সক্ষমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের কাজের জবাবদিহিও প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দুর্ঘটনার পর শুধু চালককে দায়ী না করে চালকের লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস, সড়কের নকশা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা জরুরি।

‎সড়কের নকশা, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে নিরাপত্তা নিরীক্ষা জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি গণপরিবহনের রুট ও পরিচালনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে হবে। ব্যবস্থাপনাগত সমস্যা সমাধান না করে শুধু অভিযান ও জরিমানার মাধ্যমে স্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব নয়।

ছয় মাসের বেশি সময় ধরে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভা না হওয়া উদ্বেগজনক। দুর্ঘটনা কমাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব নির্ধারণ, কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ এবং নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা জরুরি।

সড়ক নিরাপত্তায় চালকের দক্ষতা, যানবাহনের ফিটনেস, আইন প্রয়োগ, নিরাপদ সড়ক নকশা ও দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণে ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রয়োজন। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনের চেয়ে দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়, দায়ী প্রতিষ্ঠান চিহ্নিতকরণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষ, পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক করে তুলতে হবে। অন্যথায় দুর্ঘটনা কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।

উপনিবেশের কবজায় লোকজ ও দেশীয় সংস্কৃতি

উপনিবেশের কবজায় লোকজ ও দেশীয় সংস্কৃতি

২০১০ সালে ভারতের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে বোয়া সিনিয়র নামের এক বৃদ্ধা মারা যান। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে যায় ‘বো’ নামের একটি প্রাচীন ভাষা। বোয়া ছিলেন এই ভাষার শেষ জীবিত ব্যক্তি। জেনেটিক গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ৬৫ হাজার বছর আগে এই দ্বীপে বসতি স্থাপন করা এক জনগোষ্ঠী, তাদের লোককথা,