কোথাও কোনো নিয়ম নেই…

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৮:৩০:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পঠিত হয়েছে

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নামক এক সোনার পাথরবাটির কথা কখনো কখনো শোনা যায় বটে, কিন্তু সাংবাদিকেরা কেন কোনো সংবাদ হঠাৎ করে গিলে ফেলে, কোনো সংবাদের অতিরিক্ত মূল্য দেয়, সে কথা বলতে গিয়ে কেউ বিড়ম্বনায় পড়তে চায় না। শুধু কি তাই? সুশীলেরা কোন পক্ষ নিচ্ছে, সেটাও বিবেচনায় রাখতে হয়। কোনো নারী যদি সেলিব্রেটি হন, তাহলে তাঁকে নিয়ে সুশীলদের এক অবস্থান, কোনো নারী যদি সেলিব্রিটি না হন, তাহলে সুশীলদের অবস্থান আর এক। ‘দোসর’ আর ‘যোদ্ধা’ নিয়ে যে নাটকীয় ঘটনায় পূর্ণ হয়ে আছে দেশ, তা থেকে বেরিয়ে আসার কোনো কি দিশা পাওয়া যাচ্ছে? উত্তর কে দেবে?

২. দেশ কেমন আছে, সে প্রশ্নেরও সহজ উত্তর নেই। সত্যিই দেশ কোনো পরিকল্পনামাফিক চলছে কি না, তা জানার জন্য কয়েকটি বিষয়ে নজর দিতে হবে। রুমিন ফারহানা সংসদে মাঝে মাঝে একাই এমন সব প্রশ্ন করছেন, যেগুলোর উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা নেই সংসদের ট্রেজারি বেঞ্চের। উত্তর দেওয়ার অধিকার জন্মায় সমস্যার সমাধানের পথ আবিষ্কার করতে পারলে। কিন্তু বিদ্যুৎ, গ্যাস, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—কোথাও কি কোনো সুসংবাদ আছে?

৩. আশার কথা কি একটুও বলা যাবে না? অবশ্যই যাবে। তবে তা ভালোয়-মন্দয় মেশানো।

ইউনূস যুগে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বহু চেষ্টা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকে যারা নানাভাবে ছোট করছিল, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। বরং জাতির মধ্যে বিভেদ আনার একটা প্রত্যক্ষ পরিকল্পনা ছিল বলে অনেকেই মনে করে থাকে। সেই মনে করাটার মধ্যে সত্য খুঁজে পাওয়া কঠিন নয়।

আবার সত্যিকার ইতিহাসকে বিকৃত ইতিহাসে পরিণত করার ক্ষেত্রেও সামাজিকমাধ্যমের জুড়ি নেই। তাই এই পথে চলতে হয় খুব দেখেশুনে। পা হড়কে যাওয়ার আশঙ্কা কিন্তু আছে।

৪. আমাদের দেশের মন্ত্রীরা যখন তাঁর মন্ত্রণালয়ের সমস্যা নিয়ে কথা বলেন, তখন তা খুবই বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। সবকিছুতেই ‘স্বৈরাচার’ আর ‘দোসর’দের দোষ দিলে কি মুক্তি মিলবে? ইউনূসের দেড় বছর আর এই সরকারের প্রথম ছয় মাসে তাহলে কোন কাজটা হয়েছে? এই সরকার ছয় মাসের হিসাব-নিকাশ দিতে গিয়ে এমন সব জায়গায় সাফল্য দেখিয়েছে, যেসব জায়গায় কেবলই গাঢ় অন্ধকার। সরকারের বিদ্যুৎ আর গ্যাসকাণ্ড নিয়ে মানুষ যেসব কৌতুকের জন্ম দিচ্ছে, তা থেকেও কি মন্ত্রীরা কোনো শিক্ষা নেবেন না?

পাঠক নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, নির্দিষ্ট কোনো ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে টেনে আনিনি। তবে, এখন একটি ঘটনার কথা বলব। বিদ্যুৎ বিল বেশি আসার প্রতিবাদ করেছিলেন সিফাত আবদুল্লাহ নামের একটি ছেলে। বিদ্যুৎ বিল হঠাৎ করে লাফিয়ে গাছের আগায় উঠলে যেকোনো নাগরিকই প্রতিবাদ করতে পারেন। সেখানে দোষের কিছু নেই। কিন্তু যাঁরা সিফাতের কথাগুলো শুনেছেন, তাঁরা নিশ্চিতভাবেই জানেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেছেন সিফাত। এই অসভ্যতাকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না।

দুটি ব্যাপারই প্রমাণ করে, কোথাও কোনো নিয়ম নেই। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের যেভাবে হত্যা মামলায় জেলে পোরা হয়েছে, এই সিফাতকেও সেভাবেই মিথ্যে মামলা দিয়ে জেলে পোরা হলো। দুটোই বিষ, কিন্তু বিষে বিষে বিষক্ষয় কি হলো?

নিয়মে নিয়ে আসা দরকার দেশটা। কিন্তু সেটা আসতে হলে কার ওপর আস্থা রাখবে দেশবাসী?

জুলাই সনদ যখন গণভোটে অনুমোদিত হলো, তার ভেতরে একটি নিঃশব্দ অঙ্গীকার ছিল: এমন একটি রাষ্ট্র, যা আর তার নাগরিককে রাতের অন্ধকারে গুম করে দেবে না। শহীদ মিনারের সিঁড়িতে যে মায়েরা এক দশক ধরে সন্তানের ল্যামিনেট-করা ছবি বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন—‘মায়ের ডাক’-এর সেই মুখগুলো—তাঁদের কাছে ওই অঙ্গীকারই…

এই সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ মাসে ১০০২ শিশু হাম এবং হামের উপসর্গে মৃত্যুবরণ করেছে। আমরা জানি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা ক্রয়জনিত সংকটের কারণে এ পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছয় মাসের বেশি সময় পার করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

২৭ সেপ্টেম্বর পালিত হবে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬। দিবসটিকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আবারও পর্যটন খাত নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখছে। জাতীয় সংসদে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটনকেন্দ্র চিহ্নিত করে একটি সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

সময়মতো অফিসে না থাকা দুই এসি ল্যান্ডকে বদলি

কোথাও কোনো নিয়ম নেই…

প্রকাশ: ০৮:৩০:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নামক এক সোনার পাথরবাটির কথা কখনো কখনো শোনা যায় বটে, কিন্তু সাংবাদিকেরা কেন কোনো সংবাদ হঠাৎ করে গিলে ফেলে, কোনো সংবাদের অতিরিক্ত মূল্য দেয়, সে কথা বলতে গিয়ে কেউ বিড়ম্বনায় পড়তে চায় না। শুধু কি তাই? সুশীলেরা কোন পক্ষ নিচ্ছে, সেটাও বিবেচনায় রাখতে হয়। কোনো নারী যদি সেলিব্রেটি হন, তাহলে তাঁকে নিয়ে সুশীলদের এক অবস্থান, কোনো নারী যদি সেলিব্রিটি না হন, তাহলে সুশীলদের অবস্থান আর এক। ‘দোসর’ আর ‘যোদ্ধা’ নিয়ে যে নাটকীয় ঘটনায় পূর্ণ হয়ে আছে দেশ, তা থেকে বেরিয়ে আসার কোনো কি দিশা পাওয়া যাচ্ছে? উত্তর কে দেবে?

২. দেশ কেমন আছে, সে প্রশ্নেরও সহজ উত্তর নেই। সত্যিই দেশ কোনো পরিকল্পনামাফিক চলছে কি না, তা জানার জন্য কয়েকটি বিষয়ে নজর দিতে হবে। রুমিন ফারহানা সংসদে মাঝে মাঝে একাই এমন সব প্রশ্ন করছেন, যেগুলোর উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা নেই সংসদের ট্রেজারি বেঞ্চের। উত্তর দেওয়ার অধিকার জন্মায় সমস্যার সমাধানের পথ আবিষ্কার করতে পারলে। কিন্তু বিদ্যুৎ, গ্যাস, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—কোথাও কি কোনো সুসংবাদ আছে?

৩. আশার কথা কি একটুও বলা যাবে না? অবশ্যই যাবে। তবে তা ভালোয়-মন্দয় মেশানো।

ইউনূস যুগে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বহু চেষ্টা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকে যারা নানাভাবে ছোট করছিল, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। বরং জাতির মধ্যে বিভেদ আনার একটা প্রত্যক্ষ পরিকল্পনা ছিল বলে অনেকেই মনে করে থাকে। সেই মনে করাটার মধ্যে সত্য খুঁজে পাওয়া কঠিন নয়।

আবার সত্যিকার ইতিহাসকে বিকৃত ইতিহাসে পরিণত করার ক্ষেত্রেও সামাজিকমাধ্যমের জুড়ি নেই। তাই এই পথে চলতে হয় খুব দেখেশুনে। পা হড়কে যাওয়ার আশঙ্কা কিন্তু আছে।

৪. আমাদের দেশের মন্ত্রীরা যখন তাঁর মন্ত্রণালয়ের সমস্যা নিয়ে কথা বলেন, তখন তা খুবই বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। সবকিছুতেই ‘স্বৈরাচার’ আর ‘দোসর’দের দোষ দিলে কি মুক্তি মিলবে? ইউনূসের দেড় বছর আর এই সরকারের প্রথম ছয় মাসে তাহলে কোন কাজটা হয়েছে? এই সরকার ছয় মাসের হিসাব-নিকাশ দিতে গিয়ে এমন সব জায়গায় সাফল্য দেখিয়েছে, যেসব জায়গায় কেবলই গাঢ় অন্ধকার। সরকারের বিদ্যুৎ আর গ্যাসকাণ্ড নিয়ে মানুষ যেসব কৌতুকের জন্ম দিচ্ছে, তা থেকেও কি মন্ত্রীরা কোনো শিক্ষা নেবেন না?

পাঠক নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, নির্দিষ্ট কোনো ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে টেনে আনিনি। তবে, এখন একটি ঘটনার কথা বলব। বিদ্যুৎ বিল বেশি আসার প্রতিবাদ করেছিলেন সিফাত আবদুল্লাহ নামের একটি ছেলে। বিদ্যুৎ বিল হঠাৎ করে লাফিয়ে গাছের আগায় উঠলে যেকোনো নাগরিকই প্রতিবাদ করতে পারেন। সেখানে দোষের কিছু নেই। কিন্তু যাঁরা সিফাতের কথাগুলো শুনেছেন, তাঁরা নিশ্চিতভাবেই জানেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেছেন সিফাত। এই অসভ্যতাকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না।

দুটি ব্যাপারই প্রমাণ করে, কোথাও কোনো নিয়ম নেই। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের যেভাবে হত্যা মামলায় জেলে পোরা হয়েছে, এই সিফাতকেও সেভাবেই মিথ্যে মামলা দিয়ে জেলে পোরা হলো। দুটোই বিষ, কিন্তু বিষে বিষে বিষক্ষয় কি হলো?

নিয়মে নিয়ে আসা দরকার দেশটা। কিন্তু সেটা আসতে হলে কার ওপর আস্থা রাখবে দেশবাসী?

জুলাই সনদ যখন গণভোটে অনুমোদিত হলো, তার ভেতরে একটি নিঃশব্দ অঙ্গীকার ছিল: এমন একটি রাষ্ট্র, যা আর তার নাগরিককে রাতের অন্ধকারে গুম করে দেবে না। শহীদ মিনারের সিঁড়িতে যে মায়েরা এক দশক ধরে সন্তানের ল্যামিনেট-করা ছবি বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন—‘মায়ের ডাক’-এর সেই মুখগুলো—তাঁদের কাছে ওই অঙ্গীকারই…

এই সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ মাসে ১০০২ শিশু হাম এবং হামের উপসর্গে মৃত্যুবরণ করেছে। আমরা জানি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা ক্রয়জনিত সংকটের কারণে এ পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছয় মাসের বেশি সময় পার করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

২৭ সেপ্টেম্বর পালিত হবে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬। দিবসটিকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আবারও পর্যটন খাত নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখছে। জাতীয় সংসদে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটনকেন্দ্র চিহ্নিত করে একটি সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।