ইয়াবা ও নিষ্পাপ শিশু

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৭:৫৭:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯ বার পঠিত হয়েছে

দেশে অবৈধ মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে আইন আছে। আর আইন বাস্তবায়নের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব আছে। কিন্তু যারা আইনকে বাস্তবায়ন করবে, তারাই যদি সেটা না করে, তাহলে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না। সে জন্য আগে এসব বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার জন্য বিচারের আওতায় আনতে হবে। নতুবা আইন কাগজে লিপিবদ্ধ থাকবে আর এর কুশীলবেরা সেটা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে থাকবে।

শিশুদের পেটের ভেতর মাদক বহন করা যে কতটা মারাত্মক, তা কারও অজানা নয়। এ যেন এক জীবন্ত শিশুর শরীরে বোমা বেঁধে রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া। দুঃখজনক বিষয় হলো, প্রতিনিয়ত যখন এই নিষ্পাপ শিশুরা জীবন বাজি রেখে অপরাধী চক্রের হাতিয়ার হচ্ছে, তখনো পুলিশের তদন্ত ও মামলার খাতায় তাদেরই আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে, আর নেপথ্যের মূল কারবারিরা বরাবরই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

প্রচলিত আইন ও উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোনো শিশুকে মাদক বহনে ব্যবহার করা ‘শিশু আইন, ২০১৩’-এর বিধান মতে স্পষ্টত একটি গুরুতর অপরাধ। আদালত বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, অবুঝ শিশুরা নিজেরা অপরাধের সংগঠক নয়, বরং পরিস্থিতি ও দারিদ্র্যের শিকার। অথচ আমাদের বিচারপ্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে মূল অপরাধীদের শনাক্ত করতে গাফিলতি করতে দেখা যায়, যা প্রকারান্তরে ওই প্রভাবশালী চক্রগুলোকেই উৎসাহিত করছে। মূল হোতাদের না দেখে, শুধু বাহক হিসেবে শিশুদের গ্রেপ্তার করা হলে অপরাধের বিস্তার কোনো দিন বন্ধ করা যাবে না। বিচার বিভাগকে এদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না করা গেলে শিশুদেরও রক্ষা করা যাবে না।

দারিদ্র্যপীড়িত শিশুদের সামান্য কিছু টাকার মাধ্যমে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে হলে আগে এসব শিশুর পরিবারগুলোকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনতে হবে। রাষ্ট্র যদি এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দারিদ্র্যের নিষ্ঠুরতা থেকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়, তবে অপরাধী চক্রের গ্রাস থেকে তাদের মুক্ত করা যাবে না। এ ধরনের শিশুকে মাদকের বাহক না বানিয়ে, দেশের একজন যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তাই মূল অপরাধীদের সমূলে উপড়ে ফেলার পাশাপাশি শিশুদের সুরক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

গ্যাস নগরজীবনের এমন এক অপরিহার্য জ্বালানি, যার ওপর নির্ভর করে একটি পরিবারের রান্নাঘর থেকে শুরু করে শিল্প-কারখানা ও গণপরিবহনের বড় একটি অংশ। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সংকট মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে ক্রমেই দুর্বিষহ করে তুলছে।

আগেও ছিল, তবে বর্তমানে গালিগালাজ বিষয়টির প্রচলন বেশ বেড়েছে। বর্তমানে তা কানে আসে, চোখে পড়ে মাত্রাতিরিক্তভাবে। আগে মানুষজনের মধ্যে গালিগালাজ করতে সংকোচবোধ দেখা গেলেও এখন সেটার কোনো বালাই দেখা যাচ্ছে না। গালিগালাজ করার প্রবণতা কম-বেশি অনেক ব্যক্তির মধ্যে বিরাজমান আছে।

চুরি করার চেষ্টা করেছে—অভিযোগটি সত্য হলেও কি কাউকে শিকল পরিয়ে রাস্তায় টানাহেঁচড়া করার অধিকার কারও আছে? তা-ও একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর সঙ্গে যদি ঘটে এমন ঘটনা, তা কি আরও বেশি ব্যথিত করে না সচেতন মানুষকে? সিলেটে এক কিশোরীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া এমনই এক ঘটনা আমাদের সামনে এ ধরনের প্রশ্ন হাজির করছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হলে সব সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত হবে: রাষ্ট্রপতি

ইয়াবা ও নিষ্পাপ শিশু

প্রকাশ: ০৭:৫৭:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে অবৈধ মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে আইন আছে। আর আইন বাস্তবায়নের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব আছে। কিন্তু যারা আইনকে বাস্তবায়ন করবে, তারাই যদি সেটা না করে, তাহলে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না। সে জন্য আগে এসব বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার জন্য বিচারের আওতায় আনতে হবে। নতুবা আইন কাগজে লিপিবদ্ধ থাকবে আর এর কুশীলবেরা সেটা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে থাকবে।

শিশুদের পেটের ভেতর মাদক বহন করা যে কতটা মারাত্মক, তা কারও অজানা নয়। এ যেন এক জীবন্ত শিশুর শরীরে বোমা বেঁধে রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া। দুঃখজনক বিষয় হলো, প্রতিনিয়ত যখন এই নিষ্পাপ শিশুরা জীবন বাজি রেখে অপরাধী চক্রের হাতিয়ার হচ্ছে, তখনো পুলিশের তদন্ত ও মামলার খাতায় তাদেরই আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে, আর নেপথ্যের মূল কারবারিরা বরাবরই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

প্রচলিত আইন ও উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোনো শিশুকে মাদক বহনে ব্যবহার করা ‘শিশু আইন, ২০১৩’-এর বিধান মতে স্পষ্টত একটি গুরুতর অপরাধ। আদালত বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, অবুঝ শিশুরা নিজেরা অপরাধের সংগঠক নয়, বরং পরিস্থিতি ও দারিদ্র্যের শিকার। অথচ আমাদের বিচারপ্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে মূল অপরাধীদের শনাক্ত করতে গাফিলতি করতে দেখা যায়, যা প্রকারান্তরে ওই প্রভাবশালী চক্রগুলোকেই উৎসাহিত করছে। মূল হোতাদের না দেখে, শুধু বাহক হিসেবে শিশুদের গ্রেপ্তার করা হলে অপরাধের বিস্তার কোনো দিন বন্ধ করা যাবে না। বিচার বিভাগকে এদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না করা গেলে শিশুদেরও রক্ষা করা যাবে না।

দারিদ্র্যপীড়িত শিশুদের সামান্য কিছু টাকার মাধ্যমে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে হলে আগে এসব শিশুর পরিবারগুলোকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনতে হবে। রাষ্ট্র যদি এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দারিদ্র্যের নিষ্ঠুরতা থেকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়, তবে অপরাধী চক্রের গ্রাস থেকে তাদের মুক্ত করা যাবে না। এ ধরনের শিশুকে মাদকের বাহক না বানিয়ে, দেশের একজন যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তাই মূল অপরাধীদের সমূলে উপড়ে ফেলার পাশাপাশি শিশুদের সুরক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

গ্যাস নগরজীবনের এমন এক অপরিহার্য জ্বালানি, যার ওপর নির্ভর করে একটি পরিবারের রান্নাঘর থেকে শুরু করে শিল্প-কারখানা ও গণপরিবহনের বড় একটি অংশ। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সংকট মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে ক্রমেই দুর্বিষহ করে তুলছে।

আগেও ছিল, তবে বর্তমানে গালিগালাজ বিষয়টির প্রচলন বেশ বেড়েছে। বর্তমানে তা কানে আসে, চোখে পড়ে মাত্রাতিরিক্তভাবে। আগে মানুষজনের মধ্যে গালিগালাজ করতে সংকোচবোধ দেখা গেলেও এখন সেটার কোনো বালাই দেখা যাচ্ছে না। গালিগালাজ করার প্রবণতা কম-বেশি অনেক ব্যক্তির মধ্যে বিরাজমান আছে।

চুরি করার চেষ্টা করেছে—অভিযোগটি সত্য হলেও কি কাউকে শিকল পরিয়ে রাস্তায় টানাহেঁচড়া করার অধিকার কারও আছে? তা-ও একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর সঙ্গে যদি ঘটে এমন ঘটনা, তা কি আরও বেশি ব্যথিত করে না সচেতন মানুষকে? সিলেটে এক কিশোরীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া এমনই এক ঘটনা আমাদের সামনে এ ধরনের প্রশ্ন হাজির করছে।