তনু হত্যা মামলার ময়নাতদন্ত বিতর্কে মুখ খুললেন চিকিৎসক

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১১:১১:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯৩ বার পঠিত হয়েছে

কুমিল্লার বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় দীর্ঘ এক দশক পর নতুন করে গ্রেপ্তার ইস্যু ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে সমালোচনার মুখে পড়া সংশ্লিষ্ট একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা তাকে মানসিকভাবে চাপে ফেলেছে। তার দাবি, বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, এমনকি ব্যক্তিগতভাবে হুমকির মুখেও পড়তে হচ্ছে।

চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার সময় তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে কর্মরত ছিলেন। প্রথম ময়নাতদন্তে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। পরে আদালতের নির্দেশে গঠিত বিশেষজ্ঞ বোর্ডের প্রধান হিসেবে দ্বিতীয় দফার ময়নাতদন্তে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, দ্বিতীয়বার লাশ উত্তোলনের সময় সেটি অনেকটাই পচনশীল অবস্থায় ছিল, যা স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণকে কঠিন করে তোলে। তারপরও বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্য, আলামত ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে রিপোর্ট তৈরি করা হয়।

ডিএনএ পরীক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত পোশাক থেকে একাধিক ব্যক্তির জেনেটিক উপাদান পাওয়া গিয়েছিল, যা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। তবে এ তথ্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

চিকিৎসকের মতে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন একটি সংবেদনশীল ও আইনি নথি, যা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত নয়। ফলে অনেকেই পুরো বিষয়টি না বুঝেই মন্তব্য করছেন, যা বিভ্রান্তি বাড়াচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত সংস্থা সঠিকভাবে কাজ করলে এবং আদালত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন বরং সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এ ক্ষেত্রে তিনি সব ধরনের আইনি সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিরুদ্ধে ছড়ানো অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন এমন দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। তার ভাষ্য, তিনি কেবল একজন পেশাদার চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সবশেষে তিনি প্রশ্ন রাখেন, যদি তার বক্তব্য সত্য হয়, তবে যে ক্ষতি তার হয়েছে তার দায় কে নেবে? একই সঙ্গে তিনি চান, ঘটনাটির সঠিক তদন্ত হোক এবং প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসুক।

তনু হত্যা মামলার ময়নাতদন্ত বিতর্কে মুখ খুললেন চিকিৎসক

প্রকাশ: ১১:১১:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

কুমিল্লার বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় দীর্ঘ এক দশক পর নতুন করে গ্রেপ্তার ইস্যু ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে সমালোচনার মুখে পড়া সংশ্লিষ্ট একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা তাকে মানসিকভাবে চাপে ফেলেছে। তার দাবি, বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, এমনকি ব্যক্তিগতভাবে হুমকির মুখেও পড়তে হচ্ছে।

চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার সময় তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে কর্মরত ছিলেন। প্রথম ময়নাতদন্তে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। পরে আদালতের নির্দেশে গঠিত বিশেষজ্ঞ বোর্ডের প্রধান হিসেবে দ্বিতীয় দফার ময়নাতদন্তে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, দ্বিতীয়বার লাশ উত্তোলনের সময় সেটি অনেকটাই পচনশীল অবস্থায় ছিল, যা স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণকে কঠিন করে তোলে। তারপরও বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্য, আলামত ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে রিপোর্ট তৈরি করা হয়।

ডিএনএ পরীক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত পোশাক থেকে একাধিক ব্যক্তির জেনেটিক উপাদান পাওয়া গিয়েছিল, যা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। তবে এ তথ্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

চিকিৎসকের মতে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন একটি সংবেদনশীল ও আইনি নথি, যা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত নয়। ফলে অনেকেই পুরো বিষয়টি না বুঝেই মন্তব্য করছেন, যা বিভ্রান্তি বাড়াচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত সংস্থা সঠিকভাবে কাজ করলে এবং আদালত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন বরং সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এ ক্ষেত্রে তিনি সব ধরনের আইনি সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিরুদ্ধে ছড়ানো অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন এমন দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। তার ভাষ্য, তিনি কেবল একজন পেশাদার চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সবশেষে তিনি প্রশ্ন রাখেন, যদি তার বক্তব্য সত্য হয়, তবে যে ক্ষতি তার হয়েছে তার দায় কে নেবে? একই সঙ্গে তিনি চান, ঘটনাটির সঠিক তদন্ত হোক এবং প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসুক।