০৭:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তসরকারি রেল বৈঠকে প্রস্তাব: বাংলাদেশে মালবাহী ট্রেন ঢোকাতে চায় ভারত

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৭:০১:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ৮ বার পঠিত হয়েছে

• তিন রুটে ২৪ ঘণ্টা মালবাহী ট্রেনের প্রস্তাব ভারতের।

• সরাসরি পণ্য বুকিংয়ে রাজি হয়নি বাংলাদেশ।

• আলোচ্যসূচিতে ছিল না বন্ধ তিন যাত্রীবাহী ট্রেন।

ফাইল ছবি

বাংলাদেশের রেলপথ ব্যবহার করে দেশের অভ্যন্তরে নিজেদের বেসরকারি কনটেইনার ট্রেনে পণ্য পরিবহনের সুযোগ চায় প্রতিবেশী ভারত। এ জন্য দেশটির বেসরকারি কনটেইনার ট্রেন অপারেটরদের বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি চেয়েছে দেশটি। পাশাপাশি তিনটি আন্তসীমান্ত রুটে ২৪ ঘণ্টা মালবাহী ট্রেন চালু, ট্রেন গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ানো এবং পণ্য পরিবহনে সরাসরি বুকিং চালুর প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। অন্যদিকে বাংলাদেশ জানিয়েছে, ভারতের কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ দেশের লাইন দিয়ে ট্রেন পরিচালনা করলে তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব ও দায়ভার ভারতীয় রেলওয়েকে নিতে হবে।

গত ৮ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও ভারতের ৩৮তম আন্তসরকারি রেল বৈঠকের (আইজিআরএম) কার্যবিবরণীতে দুই পক্ষের এই অবস্থান উঠে এসেছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া দুই দেশের প্রতিনিধিদলের প্রধানদের স্বাক্ষরিত কার্যবিবরণীটি রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে আজকের পত্রিকার হাতে এসেছে। এতে দেখা যায়, কয়েকটি প্রস্তাব যাচাইয়ের জন্য ভারতকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ও কারিগরি তথ্য দিতে বলেছে বাংলাদেশ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বর্তমান ব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষেও অবস্থান জানিয়েছে।

বর্তমানে ভারতের সরকারি-বেসরকারি কনটেইনারবাহী ট্রেনগুলো বেনাপোল সীমান্তের বিপরীতে ভারতীয় অংশ পর্যন্ত কনটেইনার নিয়ে আসে। কনটেইনারগুলো বাংলাদেশে প্রবেশের পর তা স্থানীয় ট্রেইলার ট্রাকে করে আইসিডি বা অন্যান্য গন্তব্যে নেওয়া হয়। কার্যবিবরণী অনুযায়ী, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ চাইছে তাদের বেসরকারি কনটেইনার ট্রেন অপারেটরদের (সিটিও) ট্রেন যেন সরাসরি বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করে সংশ্লিষ্ট গন্তব্য পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি পায়। জবাবে বাংলাদেশ পক্ষ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ৩৭তম আইজিআরএমে দেওয়া অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশ পক্ষ জানিয়েছে, ভারতের কোনো বেসরকারি কনটেইনার ট্রেন অপারেটরকে বাংলাদেশে ট্রেন পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হলে, এর সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব ও দায়ভার ভারতের সরকারি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। বিষয়টি উপযুক্ত ফোরামে আলোচনা করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছে বাংলাদেশ।

কার্যবিবরণী যাচাই করলে দেখা যায়, ভারতের প্রস্তাবগুলোর কিছু বিষয় বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম রেল নেটওয়ার্কের দেশটির সক্ষমতায় ইতিমধ্যে থাকলেও বাংলাদেশ তাতে পিছিয়ে। এ কারণে সবই বাংলাদেশের পক্ষে এ মুহূর্তে গ্রহণ করার অবকাশ নেই।

‎‎রোহনপুর-সিংহাবাদ রুটে বাংলাদেশের ট্রেন গ্রহণের গতি বাড়ানোর তাগিদও দিয়েছে ভারত। তাদের অভিযোগ, ট্রেন গ্রহণে ধীরগতির কারণে ভারতীয় রেলওয়ের ওয়াগন ও ইঞ্জিন দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। জবাবে বাংলাদেশ জানায়, ২০২৬ সালের আগস্টে পাঁচটি আন্তবিনিময় পয়েন্ট দিয়ে ৫৭টি রেক গ্রহণ করা হয়েছে। ইঞ্জিন, জনবল ও লাইন-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে রোহনপুর-সিংহাবাদ রুটে আরও বেশি রেক গ্রহণ করা কঠিন। বিকল্প হিসেবে অন্য আন্তবিনিময় পয়েন্ট দিয়ে বেশি রেক পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।

‎‎এ ছাড়া পশ্চিমাঞ্চলের পণ্য ওঠানো-নামানোর স্টেশনগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে ভারত। জবাবে বাংলাদেশ জানায়, ১২টি পণ্য খালাস স্টেশনে ‘ক্লিয়ার স্ট্যান্ডিং লেংথ’ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ বাজার, ইব্রাহিমাবাদ, নওয়াপাড়া, ফরিদপুর ও উল্লাপাড়া স্টেশনের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। ভারতীয় ওয়াগনের ঘূর্ণনকাল পাঁচ দিনের নিচে নামিয়ে আনতে ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতা ও জনবল সমন্বয়েরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সীমান্তে যানজট কমানোর লক্ষ্যে ভারতীয় রেলওয়ের পণ্য স্টেশন থেকে বাংলাদেশের পণ্য স্টেশনে সরাসরি বুকিং চালুরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা চালু করতে দুই দেশের রেল ট্রাফিক বিনিময়সংক্রান্ত মৌলিক ও সম্পূরক বিধিমালা সংশোধন করতে হবে। দেশের অভ্যন্তরীণ স্টেশনগুলোর ওয়াগন গ্রহণের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় এতে চাপ আরও বাড়তে পারে। তাই বর্তমান পুনর্বুকিং ব্যবস্থা আপাতত চালু রাখার পক্ষেই মত দিয়েছে বাংলাদেশ।

‎বৈঠকে ভারত বিসিএন ও বিসিএনএ ধরনের ওয়াগনের অনুমোদিত বহনক্ষমতা বাড়িয়ে যথাক্রমে ৬৩ ও ৬৬ টন করার প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশ জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলের সব রেলপথ, সেতু ও কালভার্ট এত বেশি ভার বহনে সক্ষম নয়। তবে নির্দিষ্ট রুটের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলে তা পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে।

‎এ ছাড়া কনটেইনার ট্রেন পরিচালনায় বেনাপোলে ৪৫ ওয়াগনের পূর্ণদৈর্ঘ্যের ট্রেন গ্রহণ, পরিবহন ভাড়া পুনর্বিবেচনা ও ওপেন টপ কনটেইনার চলাচলের অনুমতি চেয়েছে ভারত। বাংলাদেশ জানিয়েছে, বেনাপোলে পূর্ণদৈর্ঘ্যের ট্রেন গ্রহণ সম্ভব হলেও ওপেন টপ কনটেইনার থেকে পণ্য খালাসের যন্ত্রপাতি নেই। এ ছাড়া যশোরসহ চার স্টেশনে কাস্টমস সুবিধা চালুর প্রস্তাবে যশোরের ক্ষেত্রে অসম্মতি এবং নওয়াপাড়ায় সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। কমলাপুর আইসিডি থেকে ভারতে পণ্য পরিবহনের প্রস্তাবও ধীরাশ্রমে নতুন আইসিডি চালুর পর বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

‎‎কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলসংযোগ প্রকল্পের ধীরগতির জন্য ভারতীয় ঠিকাদারের আর্থিক সংকট, নির্মাণসামগ্রীর ঘাটতি ও ব্যয়সংক্রান্ত জটিলতাকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ঠিকাদারের পাওনা ৪৫ কোটি টাকা ভ্যাট পরিশোধের অনুরোধ জানিয়েছে ভারত। ঢাকা-টঙ্গী-জয়দেবপুর প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রী দ্রুত সরবরাহের অনুরোধে ভারত আশ্বাস দিয়েছে।

‎‎দুই দেশের রেলওয়ের মধ্যে ওয়াগন ব্যবহারের পাওনা নিয়েও হিসাবের অমিল রয়েছে। ভারতের দাবি, ২০২৬ সালের জুনে তাদের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩৯০ কোটি ৯৯ লাখ রুপি। অন্যদিকে বাংলাদেশের হিসাবে ভারতীয় রেলওয়ের কাছে নিট পাওনা ২১৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। যাত্রীবাহী ট্রেনের হিসাবেও পাওনা রয়েছে। বাংলাদেশ জানিয়েছে, ভারতকে ৫০ কোটি টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে দুই পক্ষ নিয়মিত হিসাব হালনাগাদ ও পাওনা সমন্বয়ে সম্মত হয়েছে।

‎যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল নিয়েও কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। ‘বন্ধন’ এক্সপ্রেসে যাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাস্টমস ও অভিবাসন সেবা চালু এবং পদ্মা সেতু দিয়ে ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। বাংলাদেশ জানিয়েছে, যাত্রীদের চাহিদা ও বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বন্ধন এক্সপ্রেসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আর পদ্মা সেতু দিয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালাতে ভারতকে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে।

‎এ ছাড়া যাত্রীবাহী ট্রেনে পার্সেল পরিবহনে লাগেজ ভ্যান বা ভিপিইউ সংযুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। ভারত এতে সম্মতি জানালেও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব চেয়েছে।

বৈঠকে রেলপথের বিদ্যুতায়ন, বিধিমালা হালনাগাদ, স্টেশন উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পরবর্তী আন্তসরকারি রেল বৈঠক ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

‎বৈঠকে বন্ধ থাকা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় যাত্রীবাহী ট্রেন আবার চালুর বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব রাখা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. জিয়াউল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনার টেবিলে যেসব বিষয় ছিল, আমরা সেগুলো নিয়েই আলোচনা করেছি।’

বাংলাদেশকে এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশকে এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশকে শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারকারী হিসেবে নয় বরং এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে।

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সব এজেন্সির সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চায় সরকার

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সব এজেন্সির সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চায় সরকার

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির একচেটিয়া প্রভাব ভেঙে দেশের সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মালয়েশিয়ার সঙ্গে নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রত্যাশা করছে প্রবাসীকল্যাণ…

টেকনাফে মানব পাচার চক্রের গুলিতে সেনাসদস্য আহত, উদ্ধার ৫৭: আইএসপিআর

টেকনাফে মানব পাচার চক্রের গুলিতে সেনাসদস্য আহত, উদ্ধার ৫৭: আইএসপিআর

আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, টেকনাফে মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ। অভিযানের সময় চক্রের সদস্যদের সঙ্গে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে এক সেনা আহত হন।

জনপ্রিয় টার্গেট

আন্তসরকারি রেল বৈঠকে প্রস্তাব: বাংলাদেশে মালবাহী ট্রেন ঢোকাতে চায় ভারত

প্রকাশ: ০৭:০১:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

• তিন রুটে ২৪ ঘণ্টা মালবাহী ট্রেনের প্রস্তাব ভারতের।

• সরাসরি পণ্য বুকিংয়ে রাজি হয়নি বাংলাদেশ।

• আলোচ্যসূচিতে ছিল না বন্ধ তিন যাত্রীবাহী ট্রেন।

ফাইল ছবি

বাংলাদেশের রেলপথ ব্যবহার করে দেশের অভ্যন্তরে নিজেদের বেসরকারি কনটেইনার ট্রেনে পণ্য পরিবহনের সুযোগ চায় প্রতিবেশী ভারত। এ জন্য দেশটির বেসরকারি কনটেইনার ট্রেন অপারেটরদের বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি চেয়েছে দেশটি। পাশাপাশি তিনটি আন্তসীমান্ত রুটে ২৪ ঘণ্টা মালবাহী ট্রেন চালু, ট্রেন গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ানো এবং পণ্য পরিবহনে সরাসরি বুকিং চালুর প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। অন্যদিকে বাংলাদেশ জানিয়েছে, ভারতের কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ দেশের লাইন দিয়ে ট্রেন পরিচালনা করলে তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব ও দায়ভার ভারতীয় রেলওয়েকে নিতে হবে।

গত ৮ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও ভারতের ৩৮তম আন্তসরকারি রেল বৈঠকের (আইজিআরএম) কার্যবিবরণীতে দুই পক্ষের এই অবস্থান উঠে এসেছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া দুই দেশের প্রতিনিধিদলের প্রধানদের স্বাক্ষরিত কার্যবিবরণীটি রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে আজকের পত্রিকার হাতে এসেছে। এতে দেখা যায়, কয়েকটি প্রস্তাব যাচাইয়ের জন্য ভারতকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ও কারিগরি তথ্য দিতে বলেছে বাংলাদেশ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বর্তমান ব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষেও অবস্থান জানিয়েছে।

বর্তমানে ভারতের সরকারি-বেসরকারি কনটেইনারবাহী ট্রেনগুলো বেনাপোল সীমান্তের বিপরীতে ভারতীয় অংশ পর্যন্ত কনটেইনার নিয়ে আসে। কনটেইনারগুলো বাংলাদেশে প্রবেশের পর তা স্থানীয় ট্রেইলার ট্রাকে করে আইসিডি বা অন্যান্য গন্তব্যে নেওয়া হয়। কার্যবিবরণী অনুযায়ী, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ চাইছে তাদের বেসরকারি কনটেইনার ট্রেন অপারেটরদের (সিটিও) ট্রেন যেন সরাসরি বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করে সংশ্লিষ্ট গন্তব্য পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি পায়। জবাবে বাংলাদেশ পক্ষ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ৩৭তম আইজিআরএমে দেওয়া অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশ পক্ষ জানিয়েছে, ভারতের কোনো বেসরকারি কনটেইনার ট্রেন অপারেটরকে বাংলাদেশে ট্রেন পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হলে, এর সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব ও দায়ভার ভারতের সরকারি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। বিষয়টি উপযুক্ত ফোরামে আলোচনা করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছে বাংলাদেশ।

কার্যবিবরণী যাচাই করলে দেখা যায়, ভারতের প্রস্তাবগুলোর কিছু বিষয় বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম রেল নেটওয়ার্কের দেশটির সক্ষমতায় ইতিমধ্যে থাকলেও বাংলাদেশ তাতে পিছিয়ে। এ কারণে সবই বাংলাদেশের পক্ষে এ মুহূর্তে গ্রহণ করার অবকাশ নেই।

‎‎রোহনপুর-সিংহাবাদ রুটে বাংলাদেশের ট্রেন গ্রহণের গতি বাড়ানোর তাগিদও দিয়েছে ভারত। তাদের অভিযোগ, ট্রেন গ্রহণে ধীরগতির কারণে ভারতীয় রেলওয়ের ওয়াগন ও ইঞ্জিন দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। জবাবে বাংলাদেশ জানায়, ২০২৬ সালের আগস্টে পাঁচটি আন্তবিনিময় পয়েন্ট দিয়ে ৫৭টি রেক গ্রহণ করা হয়েছে। ইঞ্জিন, জনবল ও লাইন-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে রোহনপুর-সিংহাবাদ রুটে আরও বেশি রেক গ্রহণ করা কঠিন। বিকল্প হিসেবে অন্য আন্তবিনিময় পয়েন্ট দিয়ে বেশি রেক পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।

‎‎এ ছাড়া পশ্চিমাঞ্চলের পণ্য ওঠানো-নামানোর স্টেশনগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে ভারত। জবাবে বাংলাদেশ জানায়, ১২টি পণ্য খালাস স্টেশনে ‘ক্লিয়ার স্ট্যান্ডিং লেংথ’ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ বাজার, ইব্রাহিমাবাদ, নওয়াপাড়া, ফরিদপুর ও উল্লাপাড়া স্টেশনের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। ভারতীয় ওয়াগনের ঘূর্ণনকাল পাঁচ দিনের নিচে নামিয়ে আনতে ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতা ও জনবল সমন্বয়েরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সীমান্তে যানজট কমানোর লক্ষ্যে ভারতীয় রেলওয়ের পণ্য স্টেশন থেকে বাংলাদেশের পণ্য স্টেশনে সরাসরি বুকিং চালুরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা চালু করতে দুই দেশের রেল ট্রাফিক বিনিময়সংক্রান্ত মৌলিক ও সম্পূরক বিধিমালা সংশোধন করতে হবে। দেশের অভ্যন্তরীণ স্টেশনগুলোর ওয়াগন গ্রহণের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় এতে চাপ আরও বাড়তে পারে। তাই বর্তমান পুনর্বুকিং ব্যবস্থা আপাতত চালু রাখার পক্ষেই মত দিয়েছে বাংলাদেশ।

‎বৈঠকে ভারত বিসিএন ও বিসিএনএ ধরনের ওয়াগনের অনুমোদিত বহনক্ষমতা বাড়িয়ে যথাক্রমে ৬৩ ও ৬৬ টন করার প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশ জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলের সব রেলপথ, সেতু ও কালভার্ট এত বেশি ভার বহনে সক্ষম নয়। তবে নির্দিষ্ট রুটের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলে তা পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে।

‎এ ছাড়া কনটেইনার ট্রেন পরিচালনায় বেনাপোলে ৪৫ ওয়াগনের পূর্ণদৈর্ঘ্যের ট্রেন গ্রহণ, পরিবহন ভাড়া পুনর্বিবেচনা ও ওপেন টপ কনটেইনার চলাচলের অনুমতি চেয়েছে ভারত। বাংলাদেশ জানিয়েছে, বেনাপোলে পূর্ণদৈর্ঘ্যের ট্রেন গ্রহণ সম্ভব হলেও ওপেন টপ কনটেইনার থেকে পণ্য খালাসের যন্ত্রপাতি নেই। এ ছাড়া যশোরসহ চার স্টেশনে কাস্টমস সুবিধা চালুর প্রস্তাবে যশোরের ক্ষেত্রে অসম্মতি এবং নওয়াপাড়ায় সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। কমলাপুর আইসিডি থেকে ভারতে পণ্য পরিবহনের প্রস্তাবও ধীরাশ্রমে নতুন আইসিডি চালুর পর বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

‎‎কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলসংযোগ প্রকল্পের ধীরগতির জন্য ভারতীয় ঠিকাদারের আর্থিক সংকট, নির্মাণসামগ্রীর ঘাটতি ও ব্যয়সংক্রান্ত জটিলতাকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ঠিকাদারের পাওনা ৪৫ কোটি টাকা ভ্যাট পরিশোধের অনুরোধ জানিয়েছে ভারত। ঢাকা-টঙ্গী-জয়দেবপুর প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রী দ্রুত সরবরাহের অনুরোধে ভারত আশ্বাস দিয়েছে।

‎‎দুই দেশের রেলওয়ের মধ্যে ওয়াগন ব্যবহারের পাওনা নিয়েও হিসাবের অমিল রয়েছে। ভারতের দাবি, ২০২৬ সালের জুনে তাদের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩৯০ কোটি ৯৯ লাখ রুপি। অন্যদিকে বাংলাদেশের হিসাবে ভারতীয় রেলওয়ের কাছে নিট পাওনা ২১৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। যাত্রীবাহী ট্রেনের হিসাবেও পাওনা রয়েছে। বাংলাদেশ জানিয়েছে, ভারতকে ৫০ কোটি টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে দুই পক্ষ নিয়মিত হিসাব হালনাগাদ ও পাওনা সমন্বয়ে সম্মত হয়েছে।

‎যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল নিয়েও কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। ‘বন্ধন’ এক্সপ্রেসে যাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাস্টমস ও অভিবাসন সেবা চালু এবং পদ্মা সেতু দিয়ে ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। বাংলাদেশ জানিয়েছে, যাত্রীদের চাহিদা ও বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বন্ধন এক্সপ্রেসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আর পদ্মা সেতু দিয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালাতে ভারতকে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে।

‎এ ছাড়া যাত্রীবাহী ট্রেনে পার্সেল পরিবহনে লাগেজ ভ্যান বা ভিপিইউ সংযুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। ভারত এতে সম্মতি জানালেও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব চেয়েছে।

বৈঠকে রেলপথের বিদ্যুতায়ন, বিধিমালা হালনাগাদ, স্টেশন উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পরবর্তী আন্তসরকারি রেল বৈঠক ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

‎বৈঠকে বন্ধ থাকা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় যাত্রীবাহী ট্রেন আবার চালুর বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব রাখা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. জিয়াউল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনার টেবিলে যেসব বিষয় ছিল, আমরা সেগুলো নিয়েই আলোচনা করেছি।’

বাংলাদেশকে এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশকে এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশকে শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারকারী হিসেবে নয় বরং এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে।

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সব এজেন্সির সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চায় সরকার

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সব এজেন্সির সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চায় সরকার

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির একচেটিয়া প্রভাব ভেঙে দেশের সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মালয়েশিয়ার সঙ্গে নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রত্যাশা করছে প্রবাসীকল্যাণ…

টেকনাফে মানব পাচার চক্রের গুলিতে সেনাসদস্য আহত, উদ্ধার ৫৭: আইএসপিআর

টেকনাফে মানব পাচার চক্রের গুলিতে সেনাসদস্য আহত, উদ্ধার ৫৭: আইএসপিআর

আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, টেকনাফে মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ। অভিযানের সময় চক্রের সদস্যদের সঙ্গে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে এক সেনা আহত হন।