তবে বিষয়টি যে মোটেও হাস্যরসের নয়, তা মনে করেন মাতৃত্ব ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মাইন্ড মমি কোচিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা লরা গাকিয়ান বলেন, বর্তমান প্রজন্মের নারীদের জন্য মাতৃত্ব সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা। সবকিছু সামলানো এবং একই সঙ্গে নিখুঁত মা হওয়ার প্রত্যাশা অনেক নারীকে মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্ত করে তুলছে।
তিন সন্তানের মা গাকিয়ান নিজেও প্রথম সন্তান জন্মের পর তীব্র মানসিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছিলেন। একপর্যায়ে তাঁকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। তাঁর ভাষ্য, মিলেনিয়াল প্রজন্মকে ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয়েছে—উচ্চশিক্ষা গ্রহণ, ক্যারিয়ার গঠন, সংসার ও সন্তান প্রতিপালন; সবকিছুই একসঙ্গে সফলভাবে করা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা এত সহজ নয়। মাতৃত্বের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে হবে, কখনো ক্লান্তি বা বিরক্তি প্রকাশ করা যাবে না—এমন প্রত্যাশাও নারীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।
ব্যক্তিগত স্টাইলিস্ট ক্যাট ন্যাপও এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানো এবং সব ধরনের শিশুতোষ ক্লাসে নিয়ে না যাওয়ার কারণে নিজেকে অন্যদের কাছে অপরিণত মা মনে হতো তাঁর। এর ফলে প্রসব-পরবর্তী উদ্বেগ ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়। দুই বছর ধরে ব্যক্তিগত থেরাপি নেওয়ার পর দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে তিনি এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।
মাতৃত্বজনিত অপরাধবোধবিষয়ক বিশেষজ্ঞ বেলিন্ডা ব্যাটের মতে, সন্তান লালন-পালন নিয়ে তথ্যের প্রাচুর্য থাকলেও সেসব পরামর্শ বাস্তবায়নের দায়িত্ব এককভাবে মায়েদের ওপর চাপানো হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বৈশ্বিক সংঘাতের মতো অনিশ্চয়তাও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করার বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করছে।
তাঁর পরামর্শ, নিখুঁত মা হওয়ার প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে এসে মায়েদের নিজেদের প্রয়োজন ও সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ মা ভালো না থাকলে পুরো পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সন্তান ও মা—দুজনের সুস্থতাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার মধ্যেই রয়েছে মাতৃত্বের প্রকৃত ভারসাম্য।

দৈনিক টার্গেট 



























