হত্যা মামলায় হাইকোর্টে আগাম জামিন না পাওয়ায় চিত্রনায়ক রিয়াজকে গ্রেপ্তারে আইনি বাধা নেই

নায়ক রিয়াজের জামিন নামঞ্জুর

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় চলচ্চিত্র অভিনেতা রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ সিদ্দিকীর (নায়ক রিয়াজ) আগাম জামিন আবেদন গ্রহণ না করে তা ফেরত দিয়েছেন হাইকোর্ট। জামিন আবেদন নাকচ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কোনো বাধা থাকছে না।

২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। এদিন আদালতে রিয়াজের পক্ষে আইনজীবীরা জামিন আবেদন পেশ করলে শুনানি শেষে বিচারক তা নামঞ্জুর করেন এবং আবেদনগুলো রিজেক্ট ঘোষণা করে আইনজীবীর নিকট ফেরত পাঠান।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানী ঢাকার শাহবাগ এবং যাত্রাবাড়ী এলাকায় ঘটে যাওয়া সহিংসতা, শিক্ষার্থী হত্যা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে এই পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাগুলোর অভিযোগপত্রে আন্দোলন দমনে উসকানি প্রদান এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সাথে যোগসাজশে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। এসব মামলায় তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের একাধিক প্রভাবশালী নেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বেশ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছিল, যার মধ্যে চিত্রনায়ক রিয়াজ অন্যতম।

মামলা দায়েরের পর থেকেই আত্মগোপনে থাকা বা আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া রিয়াজ আইনি সুরক্ষার লক্ষ্যে হাইকোর্টে সশরীরে হাজির হয়ে আগাম জামিনের প্রার্থনা করেন। শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন যে, গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধগুলোর মাত্রা অত্যন্ত গুরুতর এবং বিষয়গুলোর সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন দুটি গ্রহণযোগ্য মনে করেননি। বিচারক আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে (Delete from cause list) আইনজীবীদের ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেন।

আদালতের আদেশের পর রাষ্ট্রপক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তা জানান, হাইকোর্ট জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে ফেরত দেওয়ায় আসামির জামিন সুবিধা পাওয়ার আর সুযোগ থাকছে না। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে আসামিকে গ্রেপ্তার বা তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী যেকোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে কোনো ধরনের আইনি বাধা নেই।

চিত্রনায়ক রিয়াজ দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ঢালিউডে প্রধান চরিত্রের অভিনেতা হিসেবে অভিনয় করে পরিচিতি লাভ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত এই হত্যা ও সহিংসতা মামলা এবং পরবর্তীতে জামিন আবেদন খারিজের খবরটি দেশের রাজনৈতিক ও বিনোদন অঙ্গনে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। আদালতের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে আইনি প্রক্রিয়া এখন পরবর্তী ধাপে গড়াচ্ছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

হত্যা মামলায় হাইকোর্টে আগাম জামিন না পাওয়ায় চিত্রনায়ক রিয়াজকে গ্রেপ্তারে আইনি বাধা নেই

নায়ক রিয়াজের জামিন নামঞ্জুর

প্রকাশ: ০২:৫৬:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় চলচ্চিত্র অভিনেতা রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ সিদ্দিকীর (নায়ক রিয়াজ) আগাম জামিন আবেদন গ্রহণ না করে তা ফেরত দিয়েছেন হাইকোর্ট। জামিন আবেদন নাকচ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কোনো বাধা থাকছে না।

২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। এদিন আদালতে রিয়াজের পক্ষে আইনজীবীরা জামিন আবেদন পেশ করলে শুনানি শেষে বিচারক তা নামঞ্জুর করেন এবং আবেদনগুলো রিজেক্ট ঘোষণা করে আইনজীবীর নিকট ফেরত পাঠান।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানী ঢাকার শাহবাগ এবং যাত্রাবাড়ী এলাকায় ঘটে যাওয়া সহিংসতা, শিক্ষার্থী হত্যা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে এই পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাগুলোর অভিযোগপত্রে আন্দোলন দমনে উসকানি প্রদান এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সাথে যোগসাজশে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। এসব মামলায় তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের একাধিক প্রভাবশালী নেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বেশ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছিল, যার মধ্যে চিত্রনায়ক রিয়াজ অন্যতম।

মামলা দায়েরের পর থেকেই আত্মগোপনে থাকা বা আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া রিয়াজ আইনি সুরক্ষার লক্ষ্যে হাইকোর্টে সশরীরে হাজির হয়ে আগাম জামিনের প্রার্থনা করেন। শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন যে, গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধগুলোর মাত্রা অত্যন্ত গুরুতর এবং বিষয়গুলোর সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন দুটি গ্রহণযোগ্য মনে করেননি। বিচারক আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে (Delete from cause list) আইনজীবীদের ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেন।

আদালতের আদেশের পর রাষ্ট্রপক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তা জানান, হাইকোর্ট জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে ফেরত দেওয়ায় আসামির জামিন সুবিধা পাওয়ার আর সুযোগ থাকছে না। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে আসামিকে গ্রেপ্তার বা তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী যেকোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে কোনো ধরনের আইনি বাধা নেই।

চিত্রনায়ক রিয়াজ দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ঢালিউডে প্রধান চরিত্রের অভিনেতা হিসেবে অভিনয় করে পরিচিতি লাভ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত এই হত্যা ও সহিংসতা মামলা এবং পরবর্তীতে জামিন আবেদন খারিজের খবরটি দেশের রাজনৈতিক ও বিনোদন অঙ্গনে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। আদালতের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে আইনি প্রক্রিয়া এখন পরবর্তী ধাপে গড়াচ্ছে।