আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ আজকের পত্রিকাকে এই তথ্য জানান।
দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তাঁকে নিজের ও তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে-বেনামে অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ এবং দায়দেনার বিবরণী জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় দুদক। ওই বছরের ২৩ জুন তিনি নিজের স্বাক্ষরে কমিশনে সম্পদ বিবরণী জমা দেন।
বিবরণীতে সালাহউদ্দিন রিপন ৪১ কোটি ৯২ লাখ ২৩ হাজার ৮৭৫ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৪ কোটি ২৮ লাখ ৭২ হাজার ২০৯ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি ৬ কোটি ৩৬ লাখ ৯৭ হাজার ৭৪৯ টাকার দায়দেনা দেখান। দায়দেনা বাদে তাঁর নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৯ কোটি ৮৩ লাখ ৯৮ হাজার ৩৩৫ টাকা।
দুদকের যাচাইয়ে দেখা যায়, ২০০৭-০৮ থেকে ২০২০-২১ করবর্ষ পর্যন্ত তাঁর গ্রহণযোগ্য বৈধ আয় ছিল ৮ কোটি ৫৪ লাখ ৬৪ হাজার ১৩৫ টাকা। এ সময়ে পারিবারিক ও অন্যান্য খাতে তাঁর ব্যয় ছিল ৪ কোটি ২৩ লাখ ৭৪ হাজার ৫৯৬ টাকা। ফলে ব্যয় বাদে তাঁর বৈধ সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৩০ লাখ ৮৯ হাজার ৫৩৯ টাকা।
অন্যদিকে, দায়দেনা বাদে তাঁর নামে ৩৯ কোটি ৮৩ লাখ ৯৮ হাজার ৩৩৫ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। বৈধ সঞ্চয় বাদ দিলে ৩৫ কোটি ৫৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৬ টাকার সম্পদের কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি বলে দুদকের অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সম্পদ বিবরণীতে স্থাবর সম্পদ অর্জনের উৎস হিসেবে ব্যবসার আয় দেখালেও এ তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছে দুদক। অনুসন্ধানে তাঁর ব্যবসা থেকে আয়সহ মোট বৈধ আয় পাওয়া যায় ৮ কোটি ৫৪ লাখ ৬৪ হাজার ১৩৫ টাকা। অথচ একই সময়ে তিনি ৪১ কোটি ৯২ লাখ ২৩ হাজার ৮৭৫ টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন।
দুদকের অভিযোগ, অসৎ উপায়ে ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদকে বৈধ করার উদ্দেশ্যে ব্যবসার আয়কে সম্পদ অর্জনের উৎস হিসেবে দেখিয়ে তিনি সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়েছেন। এতে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ও ২৬(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

দৈনিক টার্গেট 






















