সাক্ষাৎ শেষে বেলা তিনটার দিকে ক্যাম্পাসের বাইরে সাংবাদিকদের কাছে নিজেদের অভিযোগ তুলে ধরেন অভিভাবকেরা। এ সময় এম এ এম ইফতেখার মোমিন, আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, মো. গোলাম কিবরিয়া, আল আসমাউল হুসনাসহ কয়েকজন অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।
অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের আচরণ এবং ক্যাম্পাসে বুলিংয়ের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে আরিশার মৃত্যুর পেছনে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশের ভূমিকা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানান তাঁরা।
অভিভাবক ইফতেখার মোমিন বলেন, গত ১২ আগস্ট বসুন্ধরা শাখার এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তাঁরা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, ভিকারুননিসা একটি বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর চারটি শাখার যেকোনো একটিতে এমন ঘটনা ঘটলে তার প্রভাব পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর পড়ে। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন আমাদের বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে আসি, তখন ভেতরে কী হচ্ছে, তা সব সময় জানতে পারি না।’
ইফতেখার মোমিনের অভিযোগ, শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বুলিংয়ের বিষয়টি সম্প্রতি সামনে এসেছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যেও বুলিংয়ের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন তিনি। এসব ঘটনায় প্রশাসন কী ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা অধ্যক্ষের কাছে জানতে চেয়েছেন বলে জানান তিনি।
আরিশার মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে যথাযথভাবে শোক প্রকাশ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন এই অভিভাবক। তিনি বলেন, ‘একটা বাচ্চা মারা গেল, অথচ তার জন্য একটি শোকবার্তা দেওয়া হলো না, এক মিনিট নীরবতা পালন করা হলো না। কেন এমন হলো, আমরা সেটাও জানতে চেয়েছি।’
একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে যে দায়বদ্ধতা থাকার কথা, তা যথাযথভাবে পালন করা হয়েছে কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিভাবকেরা।
হেড গার্ল নির্বাচন নিয়েও অভিভাবকদের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, এই পদকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার ও তদবিরের সুযোগ তৈরি হয়। বিভিন্ন সময়ে হেড গার্ল ও তার প্যানেলকে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে বলে জানান তাঁরা।
অধ্যক্ষের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে ইফতেখার মোমিন বলেন, তাঁদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা হয়। এ সময় অধ্যক্ষ তাঁদের বলেছেন, বিষয়গুলো তিনি দেখছেন এবং সঠিক বিচার করবেন।
ইফতেখার মোমিন বলেন, ‘আমরা তাকে বলেছি, যে বাচ্চাটি মারা গেল, তার বিষয়ে সঠিক তদন্ত করতে হবে। যে শিক্ষকের বিরুদ্ধে বুলিংয়ের অভিযোগ আছে, তার বিরুদ্ধেও পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।’
তবে অভিভাবকদের এসব অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম।
মুঠোফোনে তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘অভিভাবকদের সঙ্গে আমার এ ধরনের কোনো ইস্যু নিয়ে কথা হয়নি। তাঁরা স্বাভাবিকভাবে এসেছিলেন। আমাদের সঙ্গে অভিভাবক হিসেবে কথা হয়েছে।’
বসুন্ধরা শাখার এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা এবং এর পেছনে কোনো শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাজেদা বেগম বলেন, ‘বসুন্ধরায় যে মেয়েটা আত্মহত্যা করেছিল, ওই মেয়েটার কোনো অভিযোগ ছিল না। এ বিষয়ে পত্রিকায়ও খবর হয়েছিল। তাদের কোনো অভিযোগ নেই। আমরা মনে করছি, মেয়েটার আত্মহত্যার বিষয়ে কিছু করা উচিত। এ ব্যাপারে আমরা তদন্ত করেছি।’
রাজধানীর হাজারীবাগে বজ্রপাতে রিয়াজ (১৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় তার ভাতিজি অন্তরা (৪) আহত হয়েছে। হাজারীবাগ বউবাজার চারতলা ভবনের ছাদে আজ সোমবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ২৪ ঘণ্টায় বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার সকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার দুটি ইউনিয়নে পৃথক এ ঘটনা ঘটে। হঠাৎ কুকুরের এমন উপদ্রব বাড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভাতিজা রিফাতকে (১২) অপহরণের পর মুক্তিপণ না পেয়ে হত্যার ঘটনায় চাচা মাসুম বিল্লাহকে (২৯) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দৈনিক টার্গেট 





















