চট্টগ্রামে দুই শিশুর পেটে মিলল সাড়ে ৭ হাজার ইয়াবা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১০:৩৮:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১০ বার পঠিত হয়েছে

আটক দুই শিশুর নাম শাহরিয়ার (১২) ও আবু বকর (৯)। তাদের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। র‍্যাবের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে অপরাধী চক্র শিশুদের ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিয়েছে।

র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক মো. লে. কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাচ্চা দুটির পেটের ভেতর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ইয়াবা পাওয়া গেছে। ক্যাপসুলের ভেতরে এসব ইয়াবা ছিল। একেকটি ক্যাপসুলে ৪০ থেকে ৫০টি করে ইয়াবা পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার গণনা চলছে। গণনা শেষে প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে।’

তিনি বলেন, বর্তমানে দুই শিশু সুস্থ আছে। তবে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা করা হবে।

র‍্যাবের অধিনায়ক আরও বলেন, আটক নারীর সঙ্গে দুই শিশুর কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই নারীই শিশু দুটিকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, শিশু দুটির সঙ্গে কথা বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন, ইয়াবা পাচারের জন্য একজন ব্যক্তি তাঁদের জনপ্রতি ৪ হাজার টাকা করে মোট ৮ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। চট্টগ্রামে চালান পৌঁছে দেওয়ার পর তাঁদের আরও টাকা দেওয়ার কথা ছিল। এর আগেও তাঁরা দুবার পেটের ভেতরে করে ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছিল বলে র‍্যাবকে জানিয়েছে।

শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে দুই শিশুসহ ওই নারীকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শিশু দুটিকে পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

গতকাল রোববার বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত শিশু দুটির পেট থেকে প্রায় ৬ হাজার ইয়াবা বের করে আনা হয়। এরপর রাতের দিকে তাঁদের পেট থেকে ক্যাপসুলে থাকা সাড়ে ৭ হাজারের বেশি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে র‍্যাব সূত্রে জানা যায়। এক্স-রে করে শিশু দুটির পেটের ভেতরে বিপুলসংখ্যক সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী এক্স-রেতে তাঁদের পেট পরিষ্কার পাওয়া যায়।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, সাধারণত ইয়াবা প্লাস্টিকে পেঁচিয়ে ছোট ছোট ক্যাপসুলের মতো বানিয়ে গিলে পেটে নেওয়া হয়। এভাবে মাদক বহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো ক্যাপসুল দুর্ঘটনাবশত অন্ত্রে আটকে গেলে বা ফুটো হয়ে গেলে বহনকারীর গুরুতর শারীরিক জটিলতা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

তিনি বলেন, ক্যাপসুলের ভেতরের মাদকদ্রব্য শরীরে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত বিষক্রিয়া হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক জানান, শিশু দুটিকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। এ ঘটনায় আজ সোমবার বিস্তারিত ব্রিফিং করা হবে বলেও জানান তিনি।

ফেনীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস উল্টে আবদুল আলীম (৩৬) নামের এক কাস্টমস কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ছয়জন।

ময়মনসিংহ নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বেড়েই চলেছে। এতে যেমন যানজটে ভুগতে হচ্ছে তেমনি বেপরোয়া চলাচলে ঘটছে দুর্ঘটনা। পাশাপাশি অটোরিকশার ব্যাটারি রিচার্জ করতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে চাপ পড়ছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়।

২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার চুক্তি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ জড়ো করা। এরপর সীমান্তের নির্দিষ্ট পয়েন্টে পৌঁছে দেওয়া—সব শেষে সুযোগ বুঝে রাতের আঁধারে ভারতে পাচারের চেষ্টা। পঞ্চগড় সীমান্তে সাম্প্রতিক একের পর এক আটকের ঘটনায় সামনে আসছে মানব পাচারের এমনই এক সংঘবদ্ধ চক্রের তৎপরতা।

জনপ্রিয় টার্গেট

তিন বছরে ইসরায়েল ছেড়েছেন ১৪০০ চিকিৎসক

চট্টগ্রামে দুই শিশুর পেটে মিলল সাড়ে ৭ হাজার ইয়াবা

প্রকাশ: ১০:৩৮:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আটক দুই শিশুর নাম শাহরিয়ার (১২) ও আবু বকর (৯)। তাদের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। র‍্যাবের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে অপরাধী চক্র শিশুদের ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিয়েছে।

র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক মো. লে. কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাচ্চা দুটির পেটের ভেতর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ইয়াবা পাওয়া গেছে। ক্যাপসুলের ভেতরে এসব ইয়াবা ছিল। একেকটি ক্যাপসুলে ৪০ থেকে ৫০টি করে ইয়াবা পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার গণনা চলছে। গণনা শেষে প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে।’

তিনি বলেন, বর্তমানে দুই শিশু সুস্থ আছে। তবে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা করা হবে।

র‍্যাবের অধিনায়ক আরও বলেন, আটক নারীর সঙ্গে দুই শিশুর কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই নারীই শিশু দুটিকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, শিশু দুটির সঙ্গে কথা বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন, ইয়াবা পাচারের জন্য একজন ব্যক্তি তাঁদের জনপ্রতি ৪ হাজার টাকা করে মোট ৮ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। চট্টগ্রামে চালান পৌঁছে দেওয়ার পর তাঁদের আরও টাকা দেওয়ার কথা ছিল। এর আগেও তাঁরা দুবার পেটের ভেতরে করে ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছিল বলে র‍্যাবকে জানিয়েছে।

শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে দুই শিশুসহ ওই নারীকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শিশু দুটিকে পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

গতকাল রোববার বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত শিশু দুটির পেট থেকে প্রায় ৬ হাজার ইয়াবা বের করে আনা হয়। এরপর রাতের দিকে তাঁদের পেট থেকে ক্যাপসুলে থাকা সাড়ে ৭ হাজারের বেশি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে র‍্যাব সূত্রে জানা যায়। এক্স-রে করে শিশু দুটির পেটের ভেতরে বিপুলসংখ্যক সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী এক্স-রেতে তাঁদের পেট পরিষ্কার পাওয়া যায়।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, সাধারণত ইয়াবা প্লাস্টিকে পেঁচিয়ে ছোট ছোট ক্যাপসুলের মতো বানিয়ে গিলে পেটে নেওয়া হয়। এভাবে মাদক বহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো ক্যাপসুল দুর্ঘটনাবশত অন্ত্রে আটকে গেলে বা ফুটো হয়ে গেলে বহনকারীর গুরুতর শারীরিক জটিলতা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

তিনি বলেন, ক্যাপসুলের ভেতরের মাদকদ্রব্য শরীরে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত বিষক্রিয়া হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক জানান, শিশু দুটিকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। এ ঘটনায় আজ সোমবার বিস্তারিত ব্রিফিং করা হবে বলেও জানান তিনি।

ফেনীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস উল্টে আবদুল আলীম (৩৬) নামের এক কাস্টমস কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ছয়জন।

ময়মনসিংহ নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বেড়েই চলেছে। এতে যেমন যানজটে ভুগতে হচ্ছে তেমনি বেপরোয়া চলাচলে ঘটছে দুর্ঘটনা। পাশাপাশি অটোরিকশার ব্যাটারি রিচার্জ করতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে চাপ পড়ছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়।

২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার চুক্তি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ জড়ো করা। এরপর সীমান্তের নির্দিষ্ট পয়েন্টে পৌঁছে দেওয়া—সব শেষে সুযোগ বুঝে রাতের আঁধারে ভারতে পাচারের চেষ্টা। পঞ্চগড় সীমান্তে সাম্প্রতিক একের পর এক আটকের ঘটনায় সামনে আসছে মানব পাচারের এমনই এক সংঘবদ্ধ চক্রের তৎপরতা।