১০ লাখের বেশি জনসমাগমের প্রস্তুতি, সাত দফা দাবি সামনে রেখে আয়োজিত সমাবেশ

জামায়াতের জাতীয় সমাবেশ আজ সোহরাওয়ার্দীতে

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৮:৩০:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
  • ২৩৬ বার পঠিত হয়েছে

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ শনিবার (১৯ জুলাই) দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ‘জাতীয় সমাবেশ’।

দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ সমাবেশে ১০ লাখের বেশি মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দলীয় নেতা-কর্মীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জমায়েত হতে শুরু করেছেন। আয়োজনের অংশ হিসেবে দলটি মিছিল, লিফলেট বিতরণ, মাইকিং, ব্যানার, বিলবোর্ড ও তোরণ নির্মাণসহ ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে।

জামায়াত সূত্রে জানা যায়, সাত দফা দাবিকে সামনে রেখে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে

  • ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ও অতীতের গণহত্যার বিচার।
  • রাষ্ট্রের সর্বস্তরে মৌলিক সংস্কার।
  • ঐতিহাসিক জুলাই সনদ বাস্তবায়ন।
  • জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসন।
  • পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন।
  • প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।
  • এবং রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সমান সুযোগ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।

দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসান মাহবুব জোবায়ের জানান, “আমরা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জনসমাগমের প্রস্তুতি নিয়েছি।” তিনি আরও জানান, এ উপলক্ষে সারাদেশ থেকে প্রায় ১০ হাজারের বেশি বাস, বিশেষ ট্রেন ও নৌযান রিজার্ভ করা হয়েছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “উত্তরবঙ্গ থেকে প্রায় ১৫০০ বাস, পাশাপাশি চট্টগ্রাম-ঢাকা ও রাজশাহী-ঢাকা রুটে বিশেষ ট্রেন এবং নদীপথে লঞ্চ রিজার্ভেশন দেওয়া হয়েছে। অনেকেই আত্মীয়-স্বজনের বাসায় থেকে সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন।”

আয়োজকদের তথ্যমতে, সমাবেশে প্রায় ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ইউনিফর্ম, ডিউটি কার্ড এবং দায়িত্ব ভাগ। ঢাকা মহানগর ও আশপাশের জেলাগুলো থেকে আগতদের জন্য ১৫টি পার্কিং স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে।

সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় ১৫টি মেডিকেল বুথ স্থাপন করা হয়েছে, প্রতিটিতে থাকবে এমবিবিএস চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা। পুরো সমাবেশটি ড্রোন ও উচ্চমানের ক্যামেরায় ধারণ করা হবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। মাঠে থাকবে বড় এলইডি স্ক্রিন।

এছাড়া, আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ডিএমপি, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে সহায়তা চাওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে মৌখিক আশ্বাসও পাওয়া গেছে।

সমাবেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রিতদের মধ্যে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ আরও কয়েকটি দল। তবে বিএনপিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নেতারা সরাসরি মন্তব্য না করলেও, কিছু সূত্র বলছে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।

জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে অনেকেই এই সমাবেশের দিক নজর রাখছেন।

১০ লাখের বেশি জনসমাগমের প্রস্তুতি, সাত দফা দাবি সামনে রেখে আয়োজিত সমাবেশ

জামায়াতের জাতীয় সমাবেশ আজ সোহরাওয়ার্দীতে

প্রকাশ: ০৮:৩০:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ শনিবার (১৯ জুলাই) দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ‘জাতীয় সমাবেশ’।

দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ সমাবেশে ১০ লাখের বেশি মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দলীয় নেতা-কর্মীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জমায়েত হতে শুরু করেছেন। আয়োজনের অংশ হিসেবে দলটি মিছিল, লিফলেট বিতরণ, মাইকিং, ব্যানার, বিলবোর্ড ও তোরণ নির্মাণসহ ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে।

জামায়াত সূত্রে জানা যায়, সাত দফা দাবিকে সামনে রেখে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে

  • ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ও অতীতের গণহত্যার বিচার।
  • রাষ্ট্রের সর্বস্তরে মৌলিক সংস্কার।
  • ঐতিহাসিক জুলাই সনদ বাস্তবায়ন।
  • জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসন।
  • পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন।
  • প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।
  • এবং রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সমান সুযোগ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।

দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসান মাহবুব জোবায়ের জানান, “আমরা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জনসমাগমের প্রস্তুতি নিয়েছি।” তিনি আরও জানান, এ উপলক্ষে সারাদেশ থেকে প্রায় ১০ হাজারের বেশি বাস, বিশেষ ট্রেন ও নৌযান রিজার্ভ করা হয়েছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “উত্তরবঙ্গ থেকে প্রায় ১৫০০ বাস, পাশাপাশি চট্টগ্রাম-ঢাকা ও রাজশাহী-ঢাকা রুটে বিশেষ ট্রেন এবং নদীপথে লঞ্চ রিজার্ভেশন দেওয়া হয়েছে। অনেকেই আত্মীয়-স্বজনের বাসায় থেকে সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন।”

আয়োজকদের তথ্যমতে, সমাবেশে প্রায় ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ইউনিফর্ম, ডিউটি কার্ড এবং দায়িত্ব ভাগ। ঢাকা মহানগর ও আশপাশের জেলাগুলো থেকে আগতদের জন্য ১৫টি পার্কিং স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে।

সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় ১৫টি মেডিকেল বুথ স্থাপন করা হয়েছে, প্রতিটিতে থাকবে এমবিবিএস চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা। পুরো সমাবেশটি ড্রোন ও উচ্চমানের ক্যামেরায় ধারণ করা হবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। মাঠে থাকবে বড় এলইডি স্ক্রিন।

এছাড়া, আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ডিএমপি, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে সহায়তা চাওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে মৌখিক আশ্বাসও পাওয়া গেছে।

সমাবেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রিতদের মধ্যে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ আরও কয়েকটি দল। তবে বিএনপিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নেতারা সরাসরি মন্তব্য না করলেও, কিছু সূত্র বলছে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।

জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে অনেকেই এই সমাবেশের দিক নজর রাখছেন।