প্রয়াত স্বজনদের স্মরণে আবেগঘন পরিবেশে শোকসভা, দোয়া মাহফিলে রুহের মাগফিরাত কামনা এবং পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ।

প্রবাসী সেহাংগল সমিতির শোকসভা ও দোয়া মাহফিল

জীবনের সবচেয়ে নির্মম সত্য মৃত্যু। প্রিয়জন হারানোর বেদনা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সেই না ফেরার দেশে চলে যাওয়া প্রিয় মানুষদের স্মরণে, তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে ঢাকাস্থ প্রবাসী সেহাংগল সমিতির উদ্যোগে গত শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক হৃদয়স্পর্শী শোকসভা ও দোয়া মাহফিল।

অনুষ্ঠানে সম্প্রতি ইন্তেকাল করা সমিতির সভাপতি শাহ আলমের পিতা মরহুম সুলতান হোসেন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খানের মাতা, নির্বাহী সদস্য মাসুদ বেপারীর পিতা মরহুম হাবিবুর রহমান বেপারীসহ গত কয়েক মাসে সেহাংগল গ্রামের প্রয়াত ব্যক্তিদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

সমিতির সিনিয়র উপদেষ্টা একেএম আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং খায়রুল ইসলাম নুহুর সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার রেখে যাওয়া সততা, মানবিকতা ও কর্মের মধ্যেই বেঁচে থাকে। প্রয়াত ব্যক্তিরা সমাজ ও পরিবারের প্রতি যে দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা এবং আদর্শ রেখে গেছেন, তা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

শোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনেকেই প্রয়াতদের সঙ্গে কাটানো নানা স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে মরহুম সুলতান হোসেন খান, আনোয়ার হোসেন খানের মাতা এবং মরহুম হাবিবুর রহমান বেপারীর জীবনসংগ্রাম, সততা, ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মানুষের প্রতি তাদের আন্তরিক আচরণের কথা স্মরণ করে বক্তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, জাকির হোসেন বাবুল, কার্যনির্বাহী সদস্য খন্দকার জুলফিকার পারভেজ, নাসির উদ্দিন খান পলাশ, মঞ্জুর কাদির, সহ-সভাপতি শামসুল হক দিপু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খান শাহিন, কাওছার রাব্বী, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ তানভির হোসেন রিফাত, সেহাংগল বিপ্লবসহ সমিতির নেতৃবৃন্দ।

সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয় যখন সমিতির সভাপতি শাহ আলম তার প্রয়াত পিতা মরহুম সুলতান হোসেন খানের স্মৃতিচারণ করেন। বাবার সততা, ন্যায়পরায়ণতা, স্নেহময় আচরণ এবং জীবনদর্শনের কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে। উপস্থিত অনেকের চোখও অশ্রুসজল হয়ে ওঠে। পুরো হলরুমে নেমে আসে এক গভীর নীরবতা, যা প্রিয়জন হারানোর বেদনারই নীরব সাক্ষী হয়ে থাকে।

শোকসভা শেষে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে সকল মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ও শক্তি দানের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়।

সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে একেএম আনোয়ার হোসেন গ্রামের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ঐক্য, নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু তার সৎকর্ম ও ভালোবাসার স্মৃতি মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। সকলের কল্যাণ ও গ্রামের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

প্রয়াত স্বজনদের স্মরণে আবেগঘন পরিবেশে শোকসভা, দোয়া মাহফিলে রুহের মাগফিরাত কামনা এবং পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ।

প্রবাসী সেহাংগল সমিতির শোকসভা ও দোয়া মাহফিল

প্রকাশ: ০৮:৪৪:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

জীবনের সবচেয়ে নির্মম সত্য মৃত্যু। প্রিয়জন হারানোর বেদনা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সেই না ফেরার দেশে চলে যাওয়া প্রিয় মানুষদের স্মরণে, তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে ঢাকাস্থ প্রবাসী সেহাংগল সমিতির উদ্যোগে গত শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক হৃদয়স্পর্শী শোকসভা ও দোয়া মাহফিল।

অনুষ্ঠানে সম্প্রতি ইন্তেকাল করা সমিতির সভাপতি শাহ আলমের পিতা মরহুম সুলতান হোসেন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খানের মাতা, নির্বাহী সদস্য মাসুদ বেপারীর পিতা মরহুম হাবিবুর রহমান বেপারীসহ গত কয়েক মাসে সেহাংগল গ্রামের প্রয়াত ব্যক্তিদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

সমিতির সিনিয়র উপদেষ্টা একেএম আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং খায়রুল ইসলাম নুহুর সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার রেখে যাওয়া সততা, মানবিকতা ও কর্মের মধ্যেই বেঁচে থাকে। প্রয়াত ব্যক্তিরা সমাজ ও পরিবারের প্রতি যে দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা এবং আদর্শ রেখে গেছেন, তা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

শোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনেকেই প্রয়াতদের সঙ্গে কাটানো নানা স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে মরহুম সুলতান হোসেন খান, আনোয়ার হোসেন খানের মাতা এবং মরহুম হাবিবুর রহমান বেপারীর জীবনসংগ্রাম, সততা, ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মানুষের প্রতি তাদের আন্তরিক আচরণের কথা স্মরণ করে বক্তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, জাকির হোসেন বাবুল, কার্যনির্বাহী সদস্য খন্দকার জুলফিকার পারভেজ, নাসির উদ্দিন খান পলাশ, মঞ্জুর কাদির, সহ-সভাপতি শামসুল হক দিপু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খান শাহিন, কাওছার রাব্বী, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ তানভির হোসেন রিফাত, সেহাংগল বিপ্লবসহ সমিতির নেতৃবৃন্দ।

সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয় যখন সমিতির সভাপতি শাহ আলম তার প্রয়াত পিতা মরহুম সুলতান হোসেন খানের স্মৃতিচারণ করেন। বাবার সততা, ন্যায়পরায়ণতা, স্নেহময় আচরণ এবং জীবনদর্শনের কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে। উপস্থিত অনেকের চোখও অশ্রুসজল হয়ে ওঠে। পুরো হলরুমে নেমে আসে এক গভীর নীরবতা, যা প্রিয়জন হারানোর বেদনারই নীরব সাক্ষী হয়ে থাকে।

শোকসভা শেষে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে সকল মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ও শক্তি দানের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়।

সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে একেএম আনোয়ার হোসেন গ্রামের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ঐক্য, নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু তার সৎকর্ম ও ভালোবাসার স্মৃতি মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। সকলের কল্যাণ ও গ্রামের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।