০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে ৫ মসজিদে লেগে আছে মদিনার সোনালি ইতিহাস

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৭:৪৭:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পঠিত হয়েছে

যে ৫ মসজিদে লেগে আছে মদিনার সোনালি ইতিহাস

মসজিদে ইজাবাহ

‘ইজাবাহ’ শব্দের অর্থ দোয়া কবুল হওয়া। মদিনা নগরীর এই ঐতিহাসিক মসজিদ ‘মসজিদে বনি মুয়াবিয়া’ বা ‘মসজিদে মুবাহালা’ নামেও পরিচিত। সহিহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই মসজিদে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে তাঁর উম্মতের জন্য তিনটি বিশেষ দোয়া করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা উম্মতকে সর্বগ্রাসী দুর্ভিক্ষ এবং পানিতে ডুবে ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষার দুটি প্রার্থনা কবুল করেন; তবে উম্মতের মধ্যকার পারস্পরিক বিভেদ দূর করার তৃতীয় দোয়াটি ইলাহি হিকমতে মঞ্জুর হয়নি। এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে পরে মসজিদটির নামকরণ করা হয় ‘মসজিদ আল-ইজাবাহ’।

মসজিদে নববির দক্ষিণ দিকে রিং রোডের কাছাকাছি হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত ‘মসজিদে বিলাল (রা.)’। ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন হজরত বিলাল ইবনে রাবাহ (রা.)-এর স্মৃতির স্মারক হিসেবে এটি পরিচিত। ইসলামের জন্য হজরত বিলাল (রা.)-এর অসীম ত্যাগ, ধৈর্য ও প্রখর ইমানের প্রতি সম্মান জানিয়ে মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে। এই অবকাঠামোর নিচতলায় বিভিন্ন শপিং মল ও দোকানপাট রয়েছে এবং ওপরের অংশটি সুপরিসর নামাজের জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মদিনায় আসা জিয়ারতকারীরা ঐতিহাসিক এই স্থানে এসে ইসলামের প্রারম্ভিক যুগের আত্মত্যাগের ইতিহাস স্মরণ করেন।

মদিনার আবইয়ারে আলী অঞ্চলে অবস্থিত ‘মসজিদে জুল হুলাইফা’ হিজরত ও সফরের স্মারক হিসেবে অত্যন্ত পরিচিত। একে ‘মসজিদে আশ-শাজারাহ’ এবং ‘মসজিদে ইহরাম’ নামেও ডাকা হয়। মসজিদে নববি থেকে প্রায় ১৩-১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে এর অবস্থান।

এটি মূলত মদিনার পথ হয়ে মক্কাগামী হজযাত্রী ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য নির্ধারিত মিকাত। প্রিয় নবী (সা.) তাঁর ঐতিহাসিক বিদায় হজ ও বিভিন্ন ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে এই বরকতময় স্থান থেকে ইহরাম বেঁধেছিলেন। প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলিম জিয়ারতকারী ও ওমরাহর যাত্রী প্রিয় নবীর সুন্নাহ অনুসরণে এখান থেকে ইহরাম পরিধান করেন।

মসজিদে নববি থেকে প্রায় ৮০০-৯০০ মিটার উত্তরে আবু জর গিফারি সড়কে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মসজিদ ‘মসজিদ আবু জর আল-গিফারি’ ও ‘মসজিদ আশ-শুকর’ নামেও পরিচিত। একবার মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বিশেষ রহমতের সুসংবাদ লাভ করে তীব্র কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে এই স্থানে দীর্ঘ সময় সিজদায় অবনত থাকেন। প্রিয় নবী (সা.)-এর সেই স্মরণীয় ও বিনম্র সিজদার স্মৃতিকে চির অম্লান রাখতে এই স্থানে মসজিদটি নির্মিত হয়। পরে সৌদি সরকার এটি আধুনিক স্থাপত্যে সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে।

মসজিদে নববি থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে আবু জর আল-গিফারি সড়কের সন্নিকটে অবস্থিত ছোট কিন্তু চমৎকার স্থাপত্যের মসজিদটি স্থানীয়ভাবে ‘মসজিদ আল-বুখারি (রহ.)’ নামে পরিচিত। প্রচলিত জনশ্রুতি ও ইতিহাসবিদদের মত অনুযায়ী, বিশ্ববিখ্যাত হাদিস-বিশারদ ইমাম বুখারি (রহ.) মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থানকালে এই এলাকায় সময় কাটিয়েছিলেন এবং তাঁর সুপ্রসিদ্ধ ‘সহিহ বুখারি’ হাদিস গ্রন্থের কিছু অংশ এখানে বসে সংকলন ও সম্পাদনা করেছিলেন। দৃষ্টিনন্দন গম্বুজ ও মিনার-সংবলিত এই ছোট মসজিদ বিশ্বব্যাপী হাদিস চর্চার স্বর্ণযুগকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

১০ ছোট দরুদ শরিফের বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

১০ ছোট দরুদ শরিফের বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা মুমিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। মহান আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারাও নবীর ওপর দরুদ পাঠ করেন। দৈনন্দিন জীবনে মুখে মুখে পাঠ করার মতো কিছু সহজ ও সংক্ষিপ্ত দরুদ শরিফ জানা থাকলে যেকোনো সময় সহজেই এই নেক আমলটি আদায় করা সম্ভব।

খাবার খাওয়ার আগের দোয়া

খাবার খাওয়ার আগের দোয়া

আল্লাহর স্মরণ ও দোয়া মুমিনের জীবনের সার্বক্ষণিক আমল। মুমিনের জীবনের কোনো কাজই আল্লাহর জিকির ও শুকরিয়া থেকে মুক্ত থাকা সমীচীন নয়। খাবার খাওয়া আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত স্বাভাবিক ও অপরিহার্য একটি অংশ। বেঁচে থাকার জন্য প্রতিদিন আমাদের বেশ কয়েকবার খাবার গ্রহণ করতে হয়।

ইসলামে শ্রমিকের অধিকার ও শ্রমের ন্যায্যমূল্য

ইসলামে শ্রমিকের অধিকার ও শ্রমের ন্যায্যমূল্য

মানবজীবনের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো শ্রম। নিজের মেধা, সময় ও শারীরিক শক্তি দিয়ে একজন শ্রমিক সমাজ ও পরিবারের জন্য অবদান রাখেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে অনেক সময় এই পরিশ্রমী মানুষগুলোর ন্যায্য অধিকার খর্ব করা হয়; সময়মতো পারিশ্রমিক না দেওয়া কিংবা চুক্তির চেয়ে কম মজুরি দেওয়ার…

জনপ্রিয় টার্গেট

যে ৫ মসজিদে লেগে আছে মদিনার সোনালি ইতিহাস

প্রকাশ: ০৭:৪৭:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

যে ৫ মসজিদে লেগে আছে মদিনার সোনালি ইতিহাস

মসজিদে ইজাবাহ

‘ইজাবাহ’ শব্দের অর্থ দোয়া কবুল হওয়া। মদিনা নগরীর এই ঐতিহাসিক মসজিদ ‘মসজিদে বনি মুয়াবিয়া’ বা ‘মসজিদে মুবাহালা’ নামেও পরিচিত। সহিহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই মসজিদে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে তাঁর উম্মতের জন্য তিনটি বিশেষ দোয়া করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা উম্মতকে সর্বগ্রাসী দুর্ভিক্ষ এবং পানিতে ডুবে ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষার দুটি প্রার্থনা কবুল করেন; তবে উম্মতের মধ্যকার পারস্পরিক বিভেদ দূর করার তৃতীয় দোয়াটি ইলাহি হিকমতে মঞ্জুর হয়নি। এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে পরে মসজিদটির নামকরণ করা হয় ‘মসজিদ আল-ইজাবাহ’।

মসজিদে নববির দক্ষিণ দিকে রিং রোডের কাছাকাছি হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত ‘মসজিদে বিলাল (রা.)’। ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন হজরত বিলাল ইবনে রাবাহ (রা.)-এর স্মৃতির স্মারক হিসেবে এটি পরিচিত। ইসলামের জন্য হজরত বিলাল (রা.)-এর অসীম ত্যাগ, ধৈর্য ও প্রখর ইমানের প্রতি সম্মান জানিয়ে মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে। এই অবকাঠামোর নিচতলায় বিভিন্ন শপিং মল ও দোকানপাট রয়েছে এবং ওপরের অংশটি সুপরিসর নামাজের জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মদিনায় আসা জিয়ারতকারীরা ঐতিহাসিক এই স্থানে এসে ইসলামের প্রারম্ভিক যুগের আত্মত্যাগের ইতিহাস স্মরণ করেন।

মদিনার আবইয়ারে আলী অঞ্চলে অবস্থিত ‘মসজিদে জুল হুলাইফা’ হিজরত ও সফরের স্মারক হিসেবে অত্যন্ত পরিচিত। একে ‘মসজিদে আশ-শাজারাহ’ এবং ‘মসজিদে ইহরাম’ নামেও ডাকা হয়। মসজিদে নববি থেকে প্রায় ১৩-১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে এর অবস্থান।

এটি মূলত মদিনার পথ হয়ে মক্কাগামী হজযাত্রী ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য নির্ধারিত মিকাত। প্রিয় নবী (সা.) তাঁর ঐতিহাসিক বিদায় হজ ও বিভিন্ন ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে এই বরকতময় স্থান থেকে ইহরাম বেঁধেছিলেন। প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলিম জিয়ারতকারী ও ওমরাহর যাত্রী প্রিয় নবীর সুন্নাহ অনুসরণে এখান থেকে ইহরাম পরিধান করেন।

মসজিদে নববি থেকে প্রায় ৮০০-৯০০ মিটার উত্তরে আবু জর গিফারি সড়কে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মসজিদ ‘মসজিদ আবু জর আল-গিফারি’ ও ‘মসজিদ আশ-শুকর’ নামেও পরিচিত। একবার মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বিশেষ রহমতের সুসংবাদ লাভ করে তীব্র কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে এই স্থানে দীর্ঘ সময় সিজদায় অবনত থাকেন। প্রিয় নবী (সা.)-এর সেই স্মরণীয় ও বিনম্র সিজদার স্মৃতিকে চির অম্লান রাখতে এই স্থানে মসজিদটি নির্মিত হয়। পরে সৌদি সরকার এটি আধুনিক স্থাপত্যে সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে।

মসজিদে নববি থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে আবু জর আল-গিফারি সড়কের সন্নিকটে অবস্থিত ছোট কিন্তু চমৎকার স্থাপত্যের মসজিদটি স্থানীয়ভাবে ‘মসজিদ আল-বুখারি (রহ.)’ নামে পরিচিত। প্রচলিত জনশ্রুতি ও ইতিহাসবিদদের মত অনুযায়ী, বিশ্ববিখ্যাত হাদিস-বিশারদ ইমাম বুখারি (রহ.) মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থানকালে এই এলাকায় সময় কাটিয়েছিলেন এবং তাঁর সুপ্রসিদ্ধ ‘সহিহ বুখারি’ হাদিস গ্রন্থের কিছু অংশ এখানে বসে সংকলন ও সম্পাদনা করেছিলেন। দৃষ্টিনন্দন গম্বুজ ও মিনার-সংবলিত এই ছোট মসজিদ বিশ্বব্যাপী হাদিস চর্চার স্বর্ণযুগকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

১০ ছোট দরুদ শরিফের বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

১০ ছোট দরুদ শরিফের বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা মুমিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। মহান আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারাও নবীর ওপর দরুদ পাঠ করেন। দৈনন্দিন জীবনে মুখে মুখে পাঠ করার মতো কিছু সহজ ও সংক্ষিপ্ত দরুদ শরিফ জানা থাকলে যেকোনো সময় সহজেই এই নেক আমলটি আদায় করা সম্ভব।

খাবার খাওয়ার আগের দোয়া

খাবার খাওয়ার আগের দোয়া

আল্লাহর স্মরণ ও দোয়া মুমিনের জীবনের সার্বক্ষণিক আমল। মুমিনের জীবনের কোনো কাজই আল্লাহর জিকির ও শুকরিয়া থেকে মুক্ত থাকা সমীচীন নয়। খাবার খাওয়া আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত স্বাভাবিক ও অপরিহার্য একটি অংশ। বেঁচে থাকার জন্য প্রতিদিন আমাদের বেশ কয়েকবার খাবার গ্রহণ করতে হয়।

ইসলামে শ্রমিকের অধিকার ও শ্রমের ন্যায্যমূল্য

ইসলামে শ্রমিকের অধিকার ও শ্রমের ন্যায্যমূল্য

মানবজীবনের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো শ্রম। নিজের মেধা, সময় ও শারীরিক শক্তি দিয়ে একজন শ্রমিক সমাজ ও পরিবারের জন্য অবদান রাখেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে অনেক সময় এই পরিশ্রমী মানুষগুলোর ন্যায্য অধিকার খর্ব করা হয়; সময়মতো পারিশ্রমিক না দেওয়া কিংবা চুক্তির চেয়ে কম মজুরি দেওয়ার…