১০:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআই নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়ে গেছে

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৬:০০:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৮৫ বার পঠিত হয়েছে

এই বিষয়ে গতকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প বলেন, ‘নেতিবাচক শক্তি’ এমন কিছু ঘটবে বলে প্রচার করছে, যা বাস্তবে ঘটবে না। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনও জরুরি আইন প্রণয়নের আহ্বান নাকচ করে বলেছেন, এআই শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তারা চাইলে প্রযুক্তির অগ্রগতি ধীর করতে পারেন; কংগ্রেসের তাড়াহুড়ো করে আইন করার প্রয়োজন নেই।

ট্রাম্প ও জনসনের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্র এআই উন্নয়ন ধীর করলে চীন এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাবে। ফলে বিষয়টি শুধু প্রযুক্তির নিরাপত্তা নয়, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও। বিপরীতে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ অনেকেই বলছেন, সরকারি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এআই উন্নয়ন দ্রুত একটি ‘বিপজ্জনক’ সীমা অতিক্রম করতে পারে।

এআই নিয়ে জনমতেও উদ্বেগ স্পষ্ট। চলতি মাসে এনবিসি নিউজের এক জরিপে ৭০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, এআই নিয়ে তাঁরা আশাবাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। প্রযুক্তিটির কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষের চাকরি হারানোর আশঙ্কা, ডেটা সেন্টারের কারণে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বাড়তি ইউটিলিটি বিল—সব মিলিয়ে এআই এখন জীবনযাত্রার ব্যয়ের সংকটের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়ছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এআই শিল্পের গতি কমানোর আহ্বান জানান। ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানও তাঁর সঙ্গে একমত হয়ে এআই প্রতিষ্ঠানে স্বাধীন মূল্যায়নকারীদের রাখার প্রস্তাব দেন। ইলন মাস্ক এবং গুগল ডিপমাইন্ডের চেয়ারম্যান ডেমিস হাসাবিসও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এআই গবেষক জ্যাকব কক্সনের সতর্কবার্তা আরও ভয়াবহ—প্রযুক্তি নির্মাতারাই মনে করেন, চলতি দশকের শেষ নাগাদ এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

তবে এআই নিয়ে বিতর্ক গভীরভাবে বিভক্ত। এক পক্ষের আশঙ্কা, অত্যন্ত শক্তিশালী স্বয়ংক্রিয় এআই ব্যবস্থা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অন্য পক্ষ মনে করে, এ ধরনের সতর্কতা আসলে প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের নিজেদের পণ্যকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপনেরই একটি অংশ।

ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণবিরোধী নীতিও বিতর্ককে আরও তীব্র করছে। ট্রাম্পের কাছে এআই শিল্প যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বড় চালিকাশক্তি। ফলে তিনি এই শিল্পের গতি কমাতে অনাগ্রহী।

ডেমোক্র্যাটরা অবশ্য এই ইস্যুতে রাজনৈতিক সুযোগ দেখছেন। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। সিনেটর রুবেন গ্যালেগো সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক বোমার নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল না; কিন্তু এআইয়ের সেই ক্ষমতা তৈরি হতে পারে।

ফলে এআই এখন আর কেবল প্রযুক্তির বিষয় নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, চাকরি, জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনীতি এবং আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হচ্ছে।

চলতি বছরের ২ এপ্রিল। ইরানে একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। এর পরপরই ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। কাঁধে বহনযোগ্য একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানটি ভূপাতিত হয়।

স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের নেতারা আজ সোমবার এক বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। এই বৈঠকে যুক্তরাজ্য ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে সই করবেন তারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এক প্রতিবেদনে তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের হামলার আগে ও পরে জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো তেহরানকে সরবরাহ করেছিল বলে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, সেটিকে উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

জনপ্রিয় টার্গেট

যাত্রীসেবা ও গ্রাউন্ড সার্ভিসে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ২২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ

এআই নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়ে গেছে

প্রকাশ: ০৬:০০:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এই বিষয়ে গতকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প বলেন, ‘নেতিবাচক শক্তি’ এমন কিছু ঘটবে বলে প্রচার করছে, যা বাস্তবে ঘটবে না। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনও জরুরি আইন প্রণয়নের আহ্বান নাকচ করে বলেছেন, এআই শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তারা চাইলে প্রযুক্তির অগ্রগতি ধীর করতে পারেন; কংগ্রেসের তাড়াহুড়ো করে আইন করার প্রয়োজন নেই।

ট্রাম্প ও জনসনের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্র এআই উন্নয়ন ধীর করলে চীন এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাবে। ফলে বিষয়টি শুধু প্রযুক্তির নিরাপত্তা নয়, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও। বিপরীতে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ অনেকেই বলছেন, সরকারি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এআই উন্নয়ন দ্রুত একটি ‘বিপজ্জনক’ সীমা অতিক্রম করতে পারে।

এআই নিয়ে জনমতেও উদ্বেগ স্পষ্ট। চলতি মাসে এনবিসি নিউজের এক জরিপে ৭০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, এআই নিয়ে তাঁরা আশাবাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। প্রযুক্তিটির কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষের চাকরি হারানোর আশঙ্কা, ডেটা সেন্টারের কারণে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বাড়তি ইউটিলিটি বিল—সব মিলিয়ে এআই এখন জীবনযাত্রার ব্যয়ের সংকটের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়ছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এআই শিল্পের গতি কমানোর আহ্বান জানান। ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানও তাঁর সঙ্গে একমত হয়ে এআই প্রতিষ্ঠানে স্বাধীন মূল্যায়নকারীদের রাখার প্রস্তাব দেন। ইলন মাস্ক এবং গুগল ডিপমাইন্ডের চেয়ারম্যান ডেমিস হাসাবিসও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এআই গবেষক জ্যাকব কক্সনের সতর্কবার্তা আরও ভয়াবহ—প্রযুক্তি নির্মাতারাই মনে করেন, চলতি দশকের শেষ নাগাদ এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

তবে এআই নিয়ে বিতর্ক গভীরভাবে বিভক্ত। এক পক্ষের আশঙ্কা, অত্যন্ত শক্তিশালী স্বয়ংক্রিয় এআই ব্যবস্থা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অন্য পক্ষ মনে করে, এ ধরনের সতর্কতা আসলে প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের নিজেদের পণ্যকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপনেরই একটি অংশ।

ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণবিরোধী নীতিও বিতর্ককে আরও তীব্র করছে। ট্রাম্পের কাছে এআই শিল্প যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বড় চালিকাশক্তি। ফলে তিনি এই শিল্পের গতি কমাতে অনাগ্রহী।

ডেমোক্র্যাটরা অবশ্য এই ইস্যুতে রাজনৈতিক সুযোগ দেখছেন। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। সিনেটর রুবেন গ্যালেগো সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক বোমার নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল না; কিন্তু এআইয়ের সেই ক্ষমতা তৈরি হতে পারে।

ফলে এআই এখন আর কেবল প্রযুক্তির বিষয় নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, চাকরি, জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনীতি এবং আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হচ্ছে।

চলতি বছরের ২ এপ্রিল। ইরানে একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। এর পরপরই ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। কাঁধে বহনযোগ্য একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানটি ভূপাতিত হয়।

স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের নেতারা আজ সোমবার এক বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। এই বৈঠকে যুক্তরাজ্য ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে সই করবেন তারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এক প্রতিবেদনে তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের হামলার আগে ও পরে জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো তেহরানকে সরবরাহ করেছিল বলে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, সেটিকে উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।