১১ দলের লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে আপত্তি বিএনপির, আলোচনার আহ্বান

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৮:১৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৮০ বার পঠিত হয়েছে

এ উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রকে গতিশীল ও অর্থবহ রাখতে সরকারি দলকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা বিরোধী দলের দায়িত্ব। তবে অহেতুক ও দ্রুত সংসদীয় বিতর্ক রাজপথে নিয়ে যাওয়া এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে সচেতন মহলকে সতর্ক থাকতে হবে।’

এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিতে ‘দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অপশক্তি’ সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন জহির উদ্দিন স্বপন।

বিরাজমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা ও ভুল নীতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই খাতগুলো এখন চাপে রয়েছে।

প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ না নেওয়াকে তিনি শুধু দুর্নীতি নয়, জাতির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতারণা হিসেবেও উল্লেখ করেন জহির উদ্দিন। বর্তমান সরকার বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধান ও নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে আরেকটি অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে সরকারকে পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে বিরোধী দলের লংমার্চের সিদ্ধান্তকে অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি।

বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আন্দোলন করা বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে লংমার্চের মতো কর্মসূচি আরও কিছুদিন পরে হলে ভালো হতো। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে রাজপথে কর্মসূচি দেওয়ার পরিবর্তে পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য সরকারকে আরও সময় দেওয়া উচিত ছিল।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম আরও বলেন, সরকারি দল থেকে রাজপথে পাল্টা কোনো সংঘাতময় কর্মসূচি দেওয়া হবে না। জনগণই এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচির ভালো-মন্দ বিচার করবে। দেশের বর্তমান সংকট, বিশেষ করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সংসদের আগামী অধিবেশনে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

বর্তমান সরকারের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ধ্বংসপ্রাপ্ত গণতন্ত্রের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। আগের সরকারের সময় গণতন্ত্রের বিভিন্ন স্তম্ভ ধ্বংস এবং দেশের বিপুল সম্পদ নিঃশেষ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন চুক্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সাবেক সরকারের সময় দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার দায়ভার বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।

জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকার নতুন উৎস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাসাবাড়ির ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে সোলার সিস্টেম স্থাপনে মানুষকে উৎসাহিত করতে কর-সুবিধাসহ বিভিন্ন প্রণোদনার কথা সংসদে ঘোষণা করা হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে দেশের জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন নুরুল ইসলাম মনি।

এর আগে গতকাল শুক্রবার গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকট নিরসনে সরকারকে বিকল্প পরিকল্পনা দিতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। বিরোধী দলকে রাজপথে আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে জাতীয় সংসদে পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ দিন বাংলাদেশ শিল্পকলায় এক অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘আপনারা গ্যাস, বিদ্যুতের জন্য লংমার্চ করবেন, কর্মসূচি দেবেন, ঠিক আছে; কিন্তু আপনারা একটা বিকল্প বলুন—আমরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ কীভাবে সরবরাহ করব, কোথা থেকে পাব, কীভাবে পাব।’

দলটির এ জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, ‘কী কী পদক্ষেপ নিলে বর্তমান সংকট মোকাবিলা সম্ভব, সে বিষয়ে বিরোধী দলের একটি পরিকল্পনা দেওয়া উচিত। সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের কথা বলার সুযোগ রয়েছে। সরকারের সমালোচনা ও সংসদের বাইরে কর্মসূচি পালন গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা হলেও সংকট মোকাবিলায় পরামর্শ দেওয়াও প্রয়োজন।’

বিদ্যুৎ কোথাও নেই কিন্তু বিদ্যুৎ শুধু সংসদে আছে। জিজ্ঞেস করলে বলেন, কোনো সংকট নেই! সংসদে দাঁড়িয়ে যারা মিথ্যা কথা বলেন, তাদের দ্বারা দেশের মানুষের সমস্যার সমাধান হবে না। ছয় মাস চলে গেছে…

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল ও গ্যাস-সংকট নিরসন না করলে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না—সরকারের উদ্দেশে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আজ শনিবার ফেনীর মহিপালে ১১ দল আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই পথসভার আয়োজন করা হয়।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, আপনারা কি ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি পান? কৃষকেরা কি সময়মতো সার পান? ব্যবসায়ীরা কি চাঁদাবাজমুক্ত পরিবেশে ব্যবসা করতে পারেন? কুমিল্লায় দুর্নীতি আছে কি না—আছে?

জনপ্রিয় টার্গেট

পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তরের প্রকাশিত ভিডিওতে নেই খোদ পশ্চিমবঙ্গ

১১ দলের লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে আপত্তি বিএনপির, আলোচনার আহ্বান

প্রকাশ: ০৮:১৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রকে গতিশীল ও অর্থবহ রাখতে সরকারি দলকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা বিরোধী দলের দায়িত্ব। তবে অহেতুক ও দ্রুত সংসদীয় বিতর্ক রাজপথে নিয়ে যাওয়া এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে সচেতন মহলকে সতর্ক থাকতে হবে।’

এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিতে ‘দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অপশক্তি’ সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন জহির উদ্দিন স্বপন।

বিরাজমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা ও ভুল নীতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই খাতগুলো এখন চাপে রয়েছে।

প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ না নেওয়াকে তিনি শুধু দুর্নীতি নয়, জাতির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতারণা হিসেবেও উল্লেখ করেন জহির উদ্দিন। বর্তমান সরকার বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধান ও নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে আরেকটি অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে সরকারকে পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে বিরোধী দলের লংমার্চের সিদ্ধান্তকে অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি।

বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আন্দোলন করা বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে লংমার্চের মতো কর্মসূচি আরও কিছুদিন পরে হলে ভালো হতো। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে রাজপথে কর্মসূচি দেওয়ার পরিবর্তে পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য সরকারকে আরও সময় দেওয়া উচিত ছিল।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম আরও বলেন, সরকারি দল থেকে রাজপথে পাল্টা কোনো সংঘাতময় কর্মসূচি দেওয়া হবে না। জনগণই এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচির ভালো-মন্দ বিচার করবে। দেশের বর্তমান সংকট, বিশেষ করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সংসদের আগামী অধিবেশনে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

বর্তমান সরকারের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ধ্বংসপ্রাপ্ত গণতন্ত্রের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। আগের সরকারের সময় গণতন্ত্রের বিভিন্ন স্তম্ভ ধ্বংস এবং দেশের বিপুল সম্পদ নিঃশেষ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন চুক্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সাবেক সরকারের সময় দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার দায়ভার বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।

জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকার নতুন উৎস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাসাবাড়ির ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে সোলার সিস্টেম স্থাপনে মানুষকে উৎসাহিত করতে কর-সুবিধাসহ বিভিন্ন প্রণোদনার কথা সংসদে ঘোষণা করা হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে দেশের জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন নুরুল ইসলাম মনি।

এর আগে গতকাল শুক্রবার গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকট নিরসনে সরকারকে বিকল্প পরিকল্পনা দিতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। বিরোধী দলকে রাজপথে আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে জাতীয় সংসদে পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ দিন বাংলাদেশ শিল্পকলায় এক অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘আপনারা গ্যাস, বিদ্যুতের জন্য লংমার্চ করবেন, কর্মসূচি দেবেন, ঠিক আছে; কিন্তু আপনারা একটা বিকল্প বলুন—আমরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ কীভাবে সরবরাহ করব, কোথা থেকে পাব, কীভাবে পাব।’

দলটির এ জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, ‘কী কী পদক্ষেপ নিলে বর্তমান সংকট মোকাবিলা সম্ভব, সে বিষয়ে বিরোধী দলের একটি পরিকল্পনা দেওয়া উচিত। সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের কথা বলার সুযোগ রয়েছে। সরকারের সমালোচনা ও সংসদের বাইরে কর্মসূচি পালন গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা হলেও সংকট মোকাবিলায় পরামর্শ দেওয়াও প্রয়োজন।’

বিদ্যুৎ কোথাও নেই কিন্তু বিদ্যুৎ শুধু সংসদে আছে। জিজ্ঞেস করলে বলেন, কোনো সংকট নেই! সংসদে দাঁড়িয়ে যারা মিথ্যা কথা বলেন, তাদের দ্বারা দেশের মানুষের সমস্যার সমাধান হবে না। ছয় মাস চলে গেছে…

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল ও গ্যাস-সংকট নিরসন না করলে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না—সরকারের উদ্দেশে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আজ শনিবার ফেনীর মহিপালে ১১ দল আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই পথসভার আয়োজন করা হয়।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, আপনারা কি ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি পান? কৃষকেরা কি সময়মতো সার পান? ব্যবসায়ীরা কি চাঁদাবাজমুক্ত পরিবেশে ব্যবসা করতে পারেন? কুমিল্লায় দুর্নীতি আছে কি না—আছে?