আজ রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল আলীমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশে যেকোনো কোম্পানি কোনো ব্যক্তির কারণে বন্ধ করে দিলে…সেই কোম্পানিতে বহু লোকজন চাকরি করে। সেই কোম্পানির দায় আছে, সেই কোম্পানির ঋণ পরিশোধ করতে হবে। সেই কোম্পানির অর্থনীতিতে আপনার কন্ট্রিবিউশন আছে। ওই কোম্পানির এমপ্লয়মেন্টের ক্ষতি করে…বন্ধ করে দিয়ে কোনো দেশের কোনো অর্থনীতি চলতে পারে না। কিন্তু যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, সেই কোম্পানির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলা চলছে এবং সে মামলা অব্যাহত থাকবে। তাদের বিচার হবে তাদের ব্যক্তিগত দুর্নীতির জন্য। কোনো কোম্পানিকে আপনি বন্ধ করে দিয়ে দেশের অর্থনীতির ওপর যে ইমপ্যাক্ট পড়বে, আপনাকে সেটা হিসাব করতে হবে। ইমোশনের ওপর অর্থনীতি চলে না। আইনের ওপর অর্থনীতি চলতে হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক আইন ভঙ্গ করে কাউকে কোনো ঋণ দিচ্ছে না। যেখানে পুনঃতফসিলের সুযোগ আছে সুযোগ আছে, সেখানেই করতে দেওয়া হচ্ছে। আইনের পরিপ্রেক্ষিতে সে সুযোগ যে কোম্পানিগুলো নিতে পারে তারা নেবে। যারা নিতে পারবে না, তারা নিতে পারবে না। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে যারা দুর্নীতিগ্রস্ত তাদের বিচার হবে। তাদের বিচার চলছে এবং চলতে থাকবে।’
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বিশ্বব্যাংক ৯টি প্রকল্পের জন্য দুই হাজার ৮৪৪ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ও ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ৭টি প্রকল্পের জন্য ৮২০ দশমিক ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত রয়েছে।’
এই সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০১০ হতে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বিদেশ হতে ৮১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ গ্রহণ করা হয়েছে। একই সময়ে সরকারের বৈদেশিক ঋণের বিপরীতে আসল ও সুদ পরিশোধ করা হয়েছে যথাক্রমে ১৭ দশমিক ১১ বিলিয়ন ও ৬ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
কুষ্টিয়া-১ আসনের রেজা আহাম্মেদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বর্তমানে (৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত) দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ এক লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা।
মন্ত্রী জানান, জনগণের মাথাপিছু ঋণের বোঝা কমানোর লক্ষ্যে সরকার রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল করার ওপর গুরুত্বারোপ করছে। সরকারি নিজস্ব আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে ঋণের প্রয়োজনীয়তা কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয়কে অধিকতর সাশ্রয়ী ও ফলপ্রসূ করার এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সরকারের অর্থায়ন চাহিদা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা, সরকারি ব্যয় ও ঋণের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, উন্নত নগদ ব্যবস্থাপনা এবং বাজারভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারের ঋণ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা ও দীর্ঘ মেয়াদে জনগণের ওপর ঋণ চাপানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা-৪ আসনের মো. রুহুল আমিনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণকারী ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষকদের ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এসব কৃষকদের কাছে ব্যাংকের প্রাপ্য এক হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা সরকার পরিশোধ করেছে।
সংরক্ষিত আসনের ফরিদা ইয়াসমিনের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘২০১০ হতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চোরাচালানিদের কাছ থেকে দুই হাজার ৫১৮ কেজি ৬৬৮ গ্রাম সোনা ও ৩৭৭ কেজি ৩৪৮ গ্রাম রুপা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রিফান্ড পাঠাতে হাজিদের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিন ও ওটিপির প্রয়োজন নেই। এসব চেয়ে কেউ ফোন করলে কেউ যাতে প্রতারিত না হন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা প্রার্থী হলে তাঁদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ কারণে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভোটের বাইরে রাখার চিন্তাভাবনা করছে কমিশন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার
আজ রোববার দুপুরে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল কবে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ এই মাসের মধ্যেই অনেক কিছু দেখবেন এবং অনেক কিছুই আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারব। কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ খুব দ্রুত গতিতে চলছে সেগুলো
দৈনিক টার্গেট 




















