সাতবারের এমপি দবিরুল ইসলাম আর নেই

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:৫১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
  • ৬০ বার পঠিত হয়েছে

ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উত্তরাঞ্চলের পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দবিরুল ইসলাম আর নেই। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঈদের দিন বিকেলে তার জীবনাবসান ঘটে।

১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। প্রথমদিকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন এবং ধীরে ধীরে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিতি পান।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে সাতবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন। ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়লাভের পর পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে আরও পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। এছাড়া দীর্ঘদিন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। ওই বছরের অক্টোবর মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। কয়েক মাস কারাবন্দি থাকার পর চলতি বছরের মে মাসে তিনি জামিনে মুক্তি পান। মুক্তির পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।

দবিরুল ইসলামের মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সাতবারের এমপি দবিরুল ইসলাম আর নেই

প্রকাশ: ১২:৫১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উত্তরাঞ্চলের পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দবিরুল ইসলাম আর নেই। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঈদের দিন বিকেলে তার জীবনাবসান ঘটে।

১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। প্রথমদিকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন এবং ধীরে ধীরে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিতি পান।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে সাতবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন। ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়লাভের পর পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে আরও পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। এছাড়া দীর্ঘদিন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। ওই বছরের অক্টোবর মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। কয়েক মাস কারাবন্দি থাকার পর চলতি বছরের মে মাসে তিনি জামিনে মুক্তি পান। মুক্তির পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।

দবিরুল ইসলামের মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।