শিক্ষাকে বিশ্বমানের করার পরিকল্পনা সরকারের

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১১:০১:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
  • ৮০ বার পঠিত হয়েছে

দেশের শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, আগামী কয়েক বছরে ধাপে ধাপে দেশের কোটি কোটি মানুষের জীবনমান উন্নত হবে এবং সাধারণ পরিবারগুলো অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষা শুধু সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের দক্ষ, সৃজনশীল ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি জানান, সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে শিক্ষার্থীরা দেশেই থেকে আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারবে।

ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্রামের কৃষক পরিবারগুলোকে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি, কৃষিঋণ, বীমা ও আধুনিক কৃষি তথ্য সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবায় ই-হেলথ কার্ড চালুর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ স্থানীয় পর্যায়েই উন্নত চিকিৎসা সুবিধা পাবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ শিক্ষকদের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু এবং নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি নারীদের জন্য স্বল্পসুদে ঋণ, উদ্যোক্তা সহায়তা এবং পরিবারভিত্তিক আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্বমানের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র চালু এবং শিল্পখাতের সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

মাহদী আমিন আরও বলেন, দেশের মেধাবীদের বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনে সম্পৃক্ত করতে একটি কার্যকর একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ জন্য আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সহযোগিতা ও শিল্প-একাডেমিক সংযোগ জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

শিক্ষাকে বিশ্বমানের করার পরিকল্পনা সরকারের

প্রকাশ: ১১:০১:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

দেশের শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, আগামী কয়েক বছরে ধাপে ধাপে দেশের কোটি কোটি মানুষের জীবনমান উন্নত হবে এবং সাধারণ পরিবারগুলো অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষা শুধু সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের দক্ষ, সৃজনশীল ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি জানান, সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে শিক্ষার্থীরা দেশেই থেকে আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারবে।

ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্রামের কৃষক পরিবারগুলোকে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি, কৃষিঋণ, বীমা ও আধুনিক কৃষি তথ্য সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবায় ই-হেলথ কার্ড চালুর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ স্থানীয় পর্যায়েই উন্নত চিকিৎসা সুবিধা পাবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ শিক্ষকদের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু এবং নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি নারীদের জন্য স্বল্পসুদে ঋণ, উদ্যোক্তা সহায়তা এবং পরিবারভিত্তিক আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্বমানের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র চালু এবং শিল্পখাতের সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

মাহদী আমিন আরও বলেন, দেশের মেধাবীদের বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনে সম্পৃক্ত করতে একটি কার্যকর একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ জন্য আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সহযোগিতা ও শিল্প-একাডেমিক সংযোগ জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।