ঢাকা–৮ আসনের সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়েছে এমন দাবি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হলেও বাস্তবে এর কোনো সত্যতা মেলেনি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা–৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস অসুস্থ হয়ে বর্তমানে বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই সুযোগে তাঁর সংসদীয় আসন বাতিল হয়েছে বলে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ফেসবুক পেজ ও ভিডিওতে দাবি করা হয়, সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদে উপস্থিত না থাকায় মির্জা আব্বাসের আসন শূন্য হয়ে গেছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি শপথ নেননি, আবার কোথাও বলা হয়েছে দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে তাঁর সদস্যপদ বাতিল হয়েছে। এসব পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক ব্যবহারকারী সেটিকে সত্য বলে ধরে নেন।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মির্জা আব্বাস। শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলেন। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদমাধ্যমে তাঁর শপথ গ্রহণ এবং সংসদ ভবনে উপস্থিতির দৃশ্যও প্রচারিত হয়েছিল।
বাংলাদেশের সংবিধানে বলা হয়েছে, নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য সংসদের প্রথম বৈঠকের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ গ্রহণ না করলে তাঁর আসন শূন্য হতে পারে। তবে মির্জা আব্বাস ইতোমধ্যেই শপথ নিয়েছেন, ফলে তাঁর ক্ষেত্রে সেই বিধান প্রযোজ্য নয়।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে বলা হচ্ছে যে ৯০ দিন সংসদে অনুপস্থিত থাকলেই আসন বাতিল হয়ে যায়, বিষয়টি তেমন সরল নয়। কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হলে সেটি নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় এবং পরে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ঢাকা–৮ আসন নিয়ে নির্বাচন কমিশন বা সরকারিভাবে এমন কোনো ঘোষণা আসেনি।
জানা গেছে, গত মার্চ মাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার কারণেই সংসদে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয়নি।
সব মিলিয়ে যাচাই করে দেখা গেছে, ঢাকা–৮ আসন শূন্য হয়েছে এমন প্রচারণা ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। মির্জা আব্বাসের সংসদ সদস্য পদ বহাল রয়েছে এবং তাঁর আসন বাতিল হওয়ার কোনো সরকারি তথ্য নেই।
দৈনিক টার্গেট 

























