স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভারতের একতরফাভাবে অভিন্ন নদীগুলোর পানি প্রত্যাহার বাংলাদেশের পরিবেশ, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠেছে। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক আইন ও নদী বিষয়ক কনভেনশন উপেক্ষা করে ভারত বাংলাদেশমুখী নদীগুলোতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পানির সংকট তীব্র হচ্ছে এবং এর প্রভাব ইতোমধ্যেই প্রকৃতিতে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী-এর নেতৃত্বে রাজশাহী থেকে ফারাক্কার উদ্দেশ্যে যে ঐতিহাসিক লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তা ছিল বাংলাদেশের ন্যায্য পানির অধিকার আদায়ের আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
বাণীতে মির্জা ফখরুল বলেন, ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নদী ও কৃষিনির্ভর জীবনব্যবস্থায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনেক এলাকায় পানির স্তর নিচে নেমে গেছে, দেখা দিয়েছে পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা। তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকার জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দিয়েছিল, যার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি এখনো বহন করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
তিনি আরও বলেন, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বাংলাদেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ফারাক্কা দিবস কেবল একটি স্মরণীয় দিন নয়, বরং দেশের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে জনগণকে নতুন করে উদ্বুদ্ধ করার প্রতীক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, বর্তমানে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীর অনেকগুলোতেই বিভিন্ন প্রকল্প ও বাঁধ নির্মাণের কারণে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে কৃষি উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন মির্জা ফখরুল।
দৈনিক টার্গেট 

























