ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মঙ্গলবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তৃতা করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র মহাসচিব। ওই অনুষ্ঠানে তিনি এক প্রবল ঘোষণা দেন যে, জুলাই গণহত্যার জন্য দায়ী হিসাবে অভিযুক্ত বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত মামলা তুলে নেওয়া হবে।
ফখরুল বলেন, “আমরা প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতি করতে চাই না। আওয়ামী লীগ যেভাবে নির্বিচারে মামলা করেছে, আমরা সে পথে হাঁটতে চাই না। বরং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যত মামলা আছে, সবগুলোই আমরা তুলে নেব।”
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত ৫ আগস্ট বলেছিলেন, “আমরা প্রতিশোধ চাই না, চাই শান্তি, সমৃদ্ধি ও একটি উন্নত বাংলাদেশ।” এবং বিএনপি সেই পথেই এগোতে চায়, কথাও বলে দেন।
ফখরুল আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে তিনি বলতে চান অত্যাচার, নির্যাতন ও ভয়ে জনগণকে ক্রমাগত দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। অতীতে সেটা হয়নি, ভবিষ্যতে হবে না। বরং এখনই সেই ভূমিকায় থাকা ব্যক্তিদের গণহত্যা ও নির্যাতনের দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
সভায় তিনি আশা ব্যক্ত করেন যে, আগামী ডিসেম্বরে দেশের বাইরে যাওয়া বিএনপি সভাপতি তারেক রহমান দেশে ফিরবেন। দেশবাসী তারেককে ফিরে পেতে চায় এবং নতুন নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে চায়।
আলোচনা কালে ফখরুল অভিযোগ করেন যে, জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল “পিআর পদ্ধতির নামে” জনগণের ওপর জবরদস্তি করছে। তিনি বলেন, “জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে যে নতুন চালগুলো দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো মূলত গণতন্ত্র ধ্বংসের ষড়যন্ত্র।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপি গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে হলে জনগণ তাদের মতামত সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারবে এ ধরনের ব্যবস্থাকেই তারা সমর্থন করে।
সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সাবেক জেলা বিএনপি সহসভাপতি মোঃ আল মামুন আলম।

দৈনিক টার্গেট 


























